top of page

চোর সন্দেহে স্কুল শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে

চোর সন্দেহে এক আদিবাসী শিক্ষককে মারধর ও বাড়ির পোষা কুকুল লেলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইংরেজবাজার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলি কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। শিক্ষক নিগ্রহের কথা স্বীকার করে নিলেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর। ঘটনাটি ঘটেছে মালঞ্চপল্লি সাবওয়ে গেটের কাছে। অভিযোগ, সেখান থেকে ওই শিক্ষককে মারতে মারতে নিজের বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যান কাউন্সিলর। সেখানে শিক্ষকের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এই ঘটনায় কাউন্সিলর সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিত শিক্ষকের বাবা। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।


নির্যাতিত শিক্ষকের নাম সুদীপ টুডু। বয়স ৩১ বছর। বাড়ি গাজোল থানার মালডাঙা গ্রামে। তিনি হবিবপুর ব্লকের মনিকোড়া হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন। তিনি জানান, রবিবার তিনি মালঞ্চ পল্লিতে এক আত্মীয়ের বাড়ি গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাবওয়ে গেটের কাছে কাউন্সিলর নিজে তাঁকে চোর সম্বোধন করে ধরে ফেলেন। সেখান থেকে মারতে মারতে তাঁকে নিজের বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যান। সেখানে বাড়ির পোষা কুকুরকে তাঁর উপর লেলিয়ে দেন। সেই কুকুরও তাঁকে কামড়েছে। তিনি বারবার জানিয়েছিলেন, তাঁর নিজের চারচাকার গাড়ি রয়েছে। সেই গাড়ি নিয়েই তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু কাউন্সিলর কিংবা তাঁর দলবল তাঁর কোনও কথাই শোনেননি।


যদিও দীর্ঘক্ষণ নির্যাতন চালানোর পর পরিতোষবাবুর লোকজন আহত সুদীপবাবুকে মালদা মেডিকেলে ভর্তি করেন বলে খবর। গোটা ঘটনা জানতে পেরে সুদীপবাবুর বাড়ির লোকজনও মেডিকেলে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি খুব একটা সুবিধের নয় দেখে পরে পরিতোষবাবুও মেডিকেলে সুদীপবাবুকে দেখতে যান। তিনি নাকি এই ঘটনায় রফা করারও চেষ্টা করেন। যদিও কাউন্সিলরকে কোনওভাবেই ছেড়ে দিতে রাজি নন সুদীপবাবুর বাবা, ব্যাংককর্মী লক্ষ্মণ টুডু। তিনি সাফ জানান, ছেলে সব কিছু জানানোর পরেও কাউন্সিলর তাকে অমানবিক নির্যাতন করেছেন। বাড়ির পোষা কুকুর দিয়ে ছেলেকে কামড় খাইয়েছেন। তিনি এর শেষ দেখতে চান। তাই কাউন্সিলর সহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন।


school-teacher-complains-against-co-ordinator

রবিবার পরিতোষবাবুর বাড়ি থেকে একটি সাইকেল চুরি যায়। খোদ কাউন্সিলর চোরের পিছনে তাড়া করেও তাকে ধরতে পারেননি। সেই সময় সাবওয়ে গেটের কাছে ছিলেন সুদীপবাবু। তাঁকেই চোর সন্দেহ করেন কাউন্সিলর। পরিতোষবাবুর দাবি, তাঁর বাড়ি থেকে সাইকেল চুরি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। সাবওয়ে গেটের কাছে অপরিচিত ওই যুবককে দেখে স্থানীয় মানুষজন তাঁকে চোর সন্দেহে ধরে ফেলেন। খবর পেয়ে তিনিই সেখান থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। তবে স্থানীয়দের হাতে ওই যুবক খানিকটা নিগৃহীত হয়েছেন। পরে জানতে পারা যায়, তিনি একজন শিক্ষক। তাঁকে মালদা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি নিজে সেখানে গিয়ে ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আসেন। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা ঠিক নয়।


ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।




আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন


বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page