বাংলাদেশি সন্দেহে পুশব্যাক, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিয়ো
- আমাদের মালদা ডিজিট্যাল

- Jul 26
- 2 min read
বাংলাদেশি সন্দেহে সোজা বাংলাদেশে পুশব্যাক। অথচ ওই যুবক বা তাঁর পরিবারের কেউই বাংলাদেশি নন। ২১ বছর বয়সী ওই যুবকের একটি ভিডিয়ো এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সেই ভিডিয়ো দেখেই সকলের সামনে এই ঘটনা উঠে এসেছে। ওই যুবককে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসনও।
কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আমির শেখ৷ পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক৷ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস দুয়েক আগে রাজস্থানের ভিলওয়াড়ায় কাজ করতে গিয়েছিলেন আমির৷ সেখানে তাঁর মুখে বাংলা ভাষা শুনে সেখানকার পুলিশ সন্দেহবশত তাঁকে থানায় তুলে নিয়ে যায়৷ সেই খবর পেয়ে আমিরের পরিবারের লোকজন রাজস্থানে ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু ওই রাজ্যের একাধিক থানায় খোঁজ চালানোর পরেও আমিরের খোঁজ পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজন মালদায় ফিরে আসেন। এরই মধ্যে হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় আমিরের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়।
ওই ভিডিয়োতে আমির দাবি করেছেন, রাজস্থানের পুলিশ তাঁর থেকে সমস্ত পরিচয়পত্র চেয়েছিল। তিনি সেসব বাড়ি থেকে আনিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সমস্ত নথিপত্র দেখাতে না পারায় পুলিশ বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে তাঁকে তিনদিন হেপাজতে রাখে। পরে দুমাস তাঁকে জেলে রাখা হয়েছিল। পরে বিএসএফের মাধ্যমে তাঁকে ইন্দো-বাংলা সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে রয়েছেন। অথচ এখানে তাঁর কেউ নেই। তিনি দেশে ফিরতে চান।
নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা সায়েম শেখ জানান, আমির আমাদের পাড়ার বাসিন্দা৷ রাজস্থানে কাজ করতে গিয়েছিল৷ ওই রাজ্যের পুলিশ বাংলাদেশি সন্দেহে তাকে গ্রেফতার করে৷ অথচ সে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড সব পুলিশকে দেখিয়েছিল৷ তারপরেও পুলিশ আমিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করে। সেখানে আমিরের দুই মাসের জেল হয়। তারপরও মুক্তি না দিয়ে তাকে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ বিএসএফ তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়৷ আমরা চাইছি, আমিরকে ঘরে ফেরাতে প্রশাসন উদ্যোগ নিক।

শুক্রবার সন্ধেয় আমিরের বাড়িতে গিয়েছিলেন কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সত্যজিৎ হালদার৷ জেলাশাসক নিতীন সিংহানিয়া জানান, খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে ওই ব্যক্তি কালিয়াচকের বাসিন্দা। তাঁকে ফেরাতে প্রশাসনিকভাবে সমস্তরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। বিডিও ওই পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিলি করেছেন। প্রশাসন ওই পরিবারকেও সবরকম সাহায্য করছে।
আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন













Comments