top of page

পঞ্চায়েত নির্বাচনের হিংসা অব্যহত, বলি আরো এক

পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক হিংসা এখনো বর্তমান। সেই হিংসার বলি হলেন আরো একজন। মৃত ব্যক্তি তৃণমূলের কর্মী বলে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনায় অভিযোগের তির কংগ্রেসের দিকে। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে এই ঘটনাকে পারিবারিক বিবাদ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে কংগ্রেস। গোটা ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।


মৃতের নাম মহম্মদ আলাউদ্দিন৷ বয়স ৫৫ বছর৷ বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের মালিওর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তিওড়পাড়া গ্রামে৷ আলাউদ্দিনের মেয়ে জারেকা বিবির অভিযোগ, তাঁর বাবা আগে কংগ্রেস করতেন৷ এখন তৃণমূল করেন৷ পরিবারের অন্যান্যরাও এখন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক৷ এতেই তাঁর বাবা চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন এলাকার কংগ্রেসিদের৷ তারা দীর্ঘদিন ধরেই বাবাকে কংগ্রেস করার জন্য চাপ দিচ্ছিল৷ কিন্তু তাঁর বাবা আর কংগ্রেস করতে উৎসাহী ছিলেন না৷ এর জন্য কংগ্রেসিরা তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দিচ্ছিল৷ গতকাল দুপুরে তাঁর বাবা কাজে যাচ্ছিলেন৷ সেই সময় তাঁর পথ আটকায় এলাকার কংগ্রেসি গুণ্ডারা৷ লোহার শাবল, লাঠি, বাঁশ প্রভৃতি দিয়ে তাঁর বাবাকে বেধড়ক মারধর করে কংগ্রেসিরা৷ বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে বাড়ির আরও ৪ জন আহত হন৷ গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের সবাইকে স্থানীয় হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখান থেকে তাঁর বাবাকে প্রথমে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, পরে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়৷ অবশেষে এদিন সকালে মারা যান তাঁর বাবা৷

আলাউদ্দিনের দাদা আবুল হোসেন জানান, কংগ্রেসি দুষ্কৃতীদের মারে গুরুতর আহত হন তাঁর ভাই৷ তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন পরিবারের আরও অনেকে৷ তাঁর ভাইকে খুন করেছে এলাকারই সাইদুর আলি, ওবাইদুর আলি, তৈমুর আলি, মজিবুর আলি ও তনজুর আলি৷ এরা সবাই কংগ্রেস কর্মী৷ এদিন তাঁরা এই ৫ জনের বিরুদ্ধে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন৷


আলাউদ্দিনের মৃত্যুর খবর পেয়ে মেডিকেলে যান জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি অম্লান ভাদুড়ি৷ তিনি বলেন, ওই গ্রামে এবার তাঁদের প্রার্থী রোজিনা পারভিন হেরে গিয়েছেন ৷ জিতেছেন কংগ্রেস প্রার্থী অনিল মণ্ডল ৷ ভোটে জেতার পর থেকেই এলাকায় সন্ত্রাস শুরু করে দিয়েছে কংগ্রেসিরা ৷ কংগ্রেস প্রথম থেকেই আলাউদ্দিন ও তাঁর পরিবারকে তাদের হয়ে কাজ করার জন্য চাপ দিচ্ছিল ৷ পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ৷ দলগতভাবে তাঁরা এনিয়ে পুলিশ সুপারকেও জানাবেন ৷ কংগ্রেসিদের সন্ত্রাস বন্ধ করার জন্য তাঁরা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানাবেন৷

এদিকে এই ঘটনাকে পুরোপুরি পারিবারিক বলে মন্তব্য করেছেন জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি৷ তিনি জানান, পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে৷ আগামী লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য তৃণমূল এই ঘটনায় ইচ্ছাকৃতভাবে কংগ্রেসকে দোষারোপ করছে৷ তাঁরাও চান পুলিশ গোটা ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করুক৷

হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে খুন সহ একাধিক মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে৷ তবে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে৷ তাদের খোঁজো তল্লাশি চলছে।


আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

ভডিয়োঃ কৃতাঙ্ক

Comments

Couldn’t Load Comments
It looks like there was a technical problem. Try reconnecting or refreshing the page.

বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page