পারিবারিক বিবাদ থেকে ধারালো অস্ত্রের কোপে খুন
- আমাদের মালদা ডিজিট্যাল

- Aug 2
- 2 min read
স্ত্রীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় সংসারে নিত্যদিনের অশান্তি চলছিল। সালিশি সভায় ওই মহিলা সাফ জানান, তিনি স্বামীর সঙ্গে ঘর করতে চান না। এরপরেই মহিলাকে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার নিদান দেন গ্রামের মাতব্বররা। ছেলের পরিবারের লোকজন তাতে রাজিও হয়ে যান। এরই মধ্যে ছেলের ভাইকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে মহিলার বাবার বাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। এরপর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন ছেলের পরিবারের লোকজন। তাই টাকা-পয়সা নিয়ে আর কোনও কথাবার্তাও হয়নি। গতকাল সন্ধেয় ফের স্ত্রীর বাবার বাড়ির লোকজন ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে ছেলে ও তাঁর বাবার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ছেলের বাবার। আক্রান্ত ছেলে বর্তমানে মালদা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। এনিয়ে থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যেরা। ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াচক ১ ব্লকের বামনগ্রাম মোসিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চামাপাড়া এলাকায়৷
মৃত ব্যক্তির নাম তাজমূল হোসেন (৫৩)। তিনি কৃষিকাজ করতেন। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল সন্ধেয় তাঁর কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁদের ঘিরে ধরে হাঁসুয়া দিয়ে কোপাতে থাকে। বিষয়টি নজরে আসতেই ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের ছুটে আসতে ধেকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান দুষ্কৃতীরা। তড়িঘড়ি দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাজমূলকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় রাতেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন তাজমূল সাহেবের স্ত্রী মিনি বিবি।

মিনি বিবি জানান, হারুগ্রামে ছেলের বিয়ে দিয়েছিলাম৷ কিন্তু মেয়েটি ভালো ছিল না৷ ওর অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল৷ ও আমার ছেলের ভাত খাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়৷ ওর বাবা-মাও মেয়েকে সমর্থন করে৷ এরপর এক শুক্রবার সমাজের লোকজন বসে আমার ছেলে আর ওই মেয়ের বিবাহ বিচ্ছেদ করে দেন৷ এর জন্য মেয়েকে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য আমাদের বলা হয়েছিল৷ আমরা তাতে রাজিও ছিলাম৷ কিন্তু সেদিন বিচারের পর ওরা আমার ছেলেকে ধরে বেধড়ক মারধর করে৷ এনিয়ে পুলিশে অভিযোগও করা হয়েছিল৷ শুক্রবার আমার স্বামী আর ছেলে জমি গিয়েছিল৷ সেই সময় ওদের ৫-৬ জন আমার স্বামী আর ছেলেকে হাঁসুয়া দিয়ে কোপায়৷ আমার স্বামীকে ওরা ফেরে ফেলেছে৷
কালিয়াচক থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে৷ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক৷ তাদের খোঁজ চলছে৷
আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন













Comments