top of page

পরিবারের চার সদস্যকে খুন ছোটো ছেলের, গুদাম ঘরের নিচে মিলল দেহ

পরিবারের চারজনকে খুন করে বাড়িতেই পুঁতে দিয়েছিল বাড়ির ছোটো ছেলে৷ দাদার অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রাতে বিষয়টি সামনে আসে। আজ বাড়ির দেওয়াল ঘেঁষা গুদামঘরের মাটির নীচ থেকে চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কালিয়াচক থানার পুরোনো ১৬ মাইল এলাকায়৷


কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের পুরোনো ১৬ মাইল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন জাওয়াদ আলি (৫৩)৷ কৃষিকাজের পাশাপাশি একাধিক কাজ করতেন তিনি৷ এলাকায় তোলাবাজ হিসাবেও কুখ্যাতি ছিল তাঁর। পরিবারে ছিলেন মা আলেকজান বিবি (৭২), স্ত্রী ইরা বিবি (৩৮), দুই ছেলে ও এক মেয়ে৷ বড়ো ছেলে আরিফ মোহম্মদ পারিবারিক জমি-জায়গা দেখাশোনা করতেন৷ ছোটো ছেলে আসিফ মোহম্মদ (আন্নান) স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।


স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার পরই বাড়ি থেকে চলে যায় আসিফ। টাকার প্রয়োজন পড়লে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যাংকের এটিএমের মাধ্যমে টাকা তুলে নিত। পরিবারের পক্ষ থেকে এনিয়ে থানায় অভিযোগও করা হয়েছিল। অবশেষে আসিফ বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ি ফেরার পরেই বিভিন্ন গ্যাজেট কিনে দেওয়ার জন্য পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে সে। অভিযোগ, ১৮ ফেব্রুয়ারি আসিফ একসঙ্গে বাড়ির চারজনকে খুন করে বাড়ির গুদাম ঘরে পুঁতে দেয়। সেই সময় দাদা আরিফ ভাইকে আটকানোর চেষ্টা করলে তাঁকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়। এরপরেই গোটা বাড়িতে ১৬টি সিসি ক্যামেরা লাগায় আসিফ। স্থানীয়দের একাংশের অনুমান মৃতদেহ হদিশ পাওয়ার ভয়েই এই সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। সম্প্রতি রাজমিস্ত্রি কাজে লাগিয়ে বাড়ি বিক্রির তোরজোর শুরু করে আসিফ। এরপরেই গতকাল কালিয়াচক থানার পুলিশের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে আরিফ।



আরিফের অভিযোগ ভিত্তিতে পুরো বাড়ি সিল করে দেয় কালিয়াচক থানার পুলিশ। সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশসুপার অলোক রাজোরিয়া সহ পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা। এসে পৌঁছন ম্যাজিস্ট্রেটও। এরপরেই আসিফকে সঙ্গে নিয়ে মাটি খুঁড়ে চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।




পুলিশসুপার অলোক রাজোরিয়া জানান, গতকাল রাতে আরিফ মোহম্মদ নামে এক যুবক কালিয়াচক থানায় গিয়ে জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার ছোটো ভাই আসিফ বাবা-মা, ছোট বোন ও ঠাকুমাকে খুন করেছে৷ কালিয়াচক থানার পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে আসে৷ কিন্তু বৃষ্টির জন্য রাতে তদন্ত চালানো যায়নি৷ আজ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আসিফের দেখানো জায়গা থেকে চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে৷ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ঘুমের ওষুধ মেশানো ঠাণ্ডা পানীয় খাইয়ে জলে ডুবিয়ে আসিফ চারজনকে হত্যা করে। চৌবাচ্চায় যখন সে চারজনকে খুন করছিল, তখন তার দাদা আরিফ ঘটনাটি দেখে ফেলে৷ সে ভাইকে বাধা দিতে যায়৷ এনিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে খানিকটা ধস্তাধস্তিও হয়৷ কিন্তু আসিফ তাকে খুনের হুমকি দেয়৷ প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় সে৷ তবে কেন চার মাস পরে অভিযোগ তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের সন্দেহের তালিকায় আরিফের নামও রয়েছে।


আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

Comments


বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page