top of page

কৃষিজীবীদের জমানো প্রায় ১০ কোটি টাকা তছরূপের অভিযোগ

এলাকার প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকা রেখেছিলেন। প্রায় সাত মাস আগে হঠাৎ সমিতির বোর্ড উধাও হয়ে যায়। সেই সময় থেকেই ব্যাংকের শাটারে তালা ঝুলছে। অভিযোগ, কৃষিজীবীদের জমানো প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে ব্যাংকের ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ার। ওই ব্যাংক ম্যানেজারের বাবা এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। মা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। ব্যাংকের ক্যাশিয়ার তার ভাইপো। আমানতকারীরা দু’জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ যদিও এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এদিকে, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন ম্যানেজারের বাবা তথা পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী৷


ঘটনাটি রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহানগর গ্রামের৷ ওই গ্রামে রয়েছে সাহানগর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের মিনি ব্যাংক৷ ওই ব্যাংকের ম্যানেজার অমিতকুমার মণ্ডল ও ক্যাশিয়ার প্রণবকুমার মণ্ডলের বাড়ির সামনে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন আমানতকারীরা।


স্থানীয় বাসিন্দা মীনা মণ্ডল জানান, আমি এই ব্যাংকে সাড়ে ১০ লক্ষ টাকা জমা করেছি৷ মাত্র ৩৫ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছি৷ বাড়ি গেলে অমিত বলছে, সে কিছু জানে না৷ সব ওর বাবা জানে৷ এরা তৃণমূলের লোক৷ ওরা সবসময় প্রণবের দোষ দিচ্ছে৷ ক্যাশিয়ার পঞ্চায়েত প্রধানের ভাইপো হয়৷ ও বাড়িতে নেই৷ দিল্লি পালিয়ে গিয়েছে৷ পুলিশ বলছে, টাকা পাওয়া যাবে৷ কিন্তু কবে পাব সেটা বলছে না৷



আরেক গ্রামবাসী রাজকুমার মণ্ডল জানান, ব্যাংকে ১ লক্ষ টাকা জমা রেখেছি। সম্প্রতি আমার অপারেশন হয়েছে৷ চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা জন্য টাকা প্রয়োজন। টাকার জন্য কালীপুজোর সময় থেকে ঘুরছি। কিন্তু এক টাকাও পাইনি। টাকার জন্য মহানন্দটোলা পুলিশ ফাঁড়ি, রতুয়া থানা, এমনকি বিডিওর কাছেও গিয়েছি৷ কিন্তু কোথাও থেকেই টাকা ফেরতের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি৷ ওদের বাড়িতে অন্তত ৫০ বার গিয়েছি৷ এখানে ১০-১২ হাজার অ্যাকাউন্ট রয়েছে৷ সব মিলিয়ে ১২-১৩ কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে৷


ব্যাংকের ম্যানেজার অমিতকুমার মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী অনিল মণ্ডল জানান, আমি এই ব্যাংকের প্রাক্তন ম্যানেজার৷ এখন অমিতকুমার মণ্ডল ম্যানেজার৷ ব্যাংকের ক্যাশিয়ার প্রণবকুমার মণ্ডল ব্যাংকে থাকা প্রায় তিন কোটি টাকা তছরুপ করেছে৷ প্রণব আমার ভাইপো৷ গত ৬ জুন সে এখান থেকে পালিয়ে গিয়েছে৷ আমি ব্যক্তিগত ঋণ উদ্ধার করে আমানতকারীদের টাকা দিচ্ছি৷


আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

 

Comments


বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page