top of page

মহানন্দার ভাঙনে আতঙ্কিত রাহুতগ্রামের বাসিন্দারা

গঙ্গার ভাঙন নয়, মহানন্দার ভাঙনে বিপন্ন পুরাতন মালদার মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের রাহুতগ্রামের বাসিন্দারা৷ আতঙ্কিত মানুষজন নিজেদের দীর্ঘদিনের ঘর ভাঙতে শুরু করেছেন৷ কিন্তু এরপর কোথায় যাবেন, কী করবেন, কেউ বুঝে উঠতে পারছেন না৷


কয়েক শতকের জনপদ৷ মালদা জেলার প্রাচীন জনপদগুলির অন্যতম বালিয়া নবাবগঞ্জ৷ তার পাশেই রয়েছে রাহুতগ্রাম৷ সেখানেই থাবা বসিয়েছে মহানন্দা৷ এবারের বন্যায় গ্রামের রাস্তার পাশে জল এলেও রাস্তা পার করতে পারেনি৷ কিন্তু জল নামার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা দিয়েছে ভাঙনের বিপর্যয়৷ গ্রামের এক বাসিন্দা জেলারু শেখ জানালেন, এমন ভাঙন কোনওদিন তাঁদের এলাকায় হয়নি৷ গত ১৪ তারিখ থেকে মহানন্দা পাড় কাটতে শুরু করেছে৷ স্রোতের টানে মাটির নীচ থেকে কেটে যাচ্ছে৷ তলিয়ে গিয়েছে বাঁশঝাড়, গাছ, এমনকি বাড়ির নলকূপ, উনুনও৷ এখনও পর্যন্ত বিপন্ন ৫টি পরিবার৷ তবে যেভাবে মহানন্দা পাড় কাটছে, তাতে আরও অনেক বাড়িঘর নদীতে তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা৷ বিপন্নদের মধ্যে একটি পরিবার গঙ্গা ভাঙনে সর্বশান্ত হয়ে এখানে ঘর বেঁধেছিল৷ মহানন্দার ভাঙনে সেই পরিবারটি ফের ঘরছাড়া৷ ওই পরিবারের কর্ত্রী আঞ্জুমানারা বিবি বলেন, গঙ্গায় সব হারিয়ে বছর আটেক আগে এখানে ঘর বেঁধেছিলেন৷ মহানন্দার ভাঙনে বাড়িটা একটু একটু করে ভাঙছিল৷ একসময় হুড়মুড়িয়ে বাড়িটা ধসে গেল৷ সব হারিয়ে পরিবার নিয়ে ফের রাস্তাতেই ঠাঁই নিয়েছেন৷ এখন কী করবেন, জানেন না৷


মহানন্দার ভাঙনে আতঙ্কিত রাহুতগ্রামের বাসিন্দারা

গত ১৪ তারিখ থেকে মহানন্দা পাড় কাটতে শুরু করেছে৷ স্রোতের টানে মাটির নীচ থেকে কেটে যাচ্ছে৷ তলিয়ে গিয়েছে বাঁশঝাড়, গাছ, এমনকি বাড়ির নলকূপ, উনুনও৷


আঞ্জুমানারা বিবি ছাড়াও মহানন্দার ভাঙনে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে সামাউল শেখ, ইয়াদুল শেখ, সইফুর রহমান ও মহম্মদ দিলওয়ার হোসেনের পরিবার৷ এরা প্রত্যেকেই শ্রমিক৷ দিন আনি দিন খাই পরিবার৷ সইফুরের স্ত্রী রেহানা বিবি জানান, বছর পনেরো আগে বিয়ের পর এই বাড়িতেই এসে উঠেছিলেন তিনি৷ শনিবার বাড়ির বেশ কিছু অংশ নদীতে তলিয়ে গিয়েছে৷ ভয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে রাস্তার ধারে বসবাস করছেন৷ তাঁদের জমি বলে কিছু নেই৷ এরপর কোথায় গিয়ে উঠবেন আল্লাহ্‌ই জানেন৷

এপ্রসঙ্গে মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান গুমানি শেখ জানান, রাহুতগ্রামে মহানন্দা নদীর ভাঙনে কয়েকটি পরিবার বিপন্ন হয়ে পড়েছে৷ এলাকার মানুষজন নদীতে স্থায়ী বাঁধেরও দাবি তুলছেন৷ তিনি সমস্ত ঘটনাটি ব্লক দপ্তরে জানিয়েছেন৷ নদী ভাঙনে বিপন্ন পরিবারগুলিকে কোনও সাহায্য করা যায় কিনা তাও দেখা হচ্ছে৷


আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

Opmerkingen


বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page