top of page

ভোটের অর্ধেক আকাশ নারীর

বয়স বড়োজোর ২৮ হবে। ছটফটে মেয়েটা দৌড়চ্ছে, এবাড়ি থেকে ওবাড়ি। গলায় লাল স্কার্ফ জড়িয়ে পাড়ার অলিগলি ঘুরে বেড়াচ্ছে সিপিএমের তরুণ ব্রিগেডের অন্যতম মুখ মধুরিমা ঘোষ। কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের ছাত্রী যে এখন ভোটের মহারণে! প্রতিপক্ষ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর স্ত্রী কাকলী। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের কাউন্সিলার কাকলী ছাড়াও বিজেপির পোড় খাওয়া নেতা সঞ্জয় শর্মা রয়েছেন লড়াইয়ের ময়দানে।


English-Bazar-a-bunch-of-young-women-are-fighting-for-votes

তাতে কি! কুছ পরোয়া নেই। হারজিত যেটাই হোক, লড়াইটা দিতে প্রস্তুত মধুরিমা। রেড ভলান্টিয়ার থেকে ভোটযুদ্ধে নামা এই কমরেড আসলে বামেদের ভবিষ্যতের পুঁজি। ইংরেজবাজার দখলের লড়াইয়ে এবার একঝাঁক তরুণীর উপস্থিতি রাজনীতির আঙিনার ভালো দিকটা তুলে ধরছে।


১৫ নম্বর ওয়ার্ডের হেভিওয়েট প্রার্থী গায়ত্রী ঘোষের বিরুদ্ধে লড়ছেন তিরিশের কোটার দেবযানী। জমিদার বাড়ির মেয়ে দেবযানী এবারই প্রথম ভোট ময়দানে। কাউন্সিলার হওয়ার দৌড়ে কংগ্রেসের এই তরুণ তুর্কি বেশ আত্মপ্রত্যয়ী। আসলে দেবযানী রাজনীতির ময়দানে নতুন হলেও রাজনীতি তাঁর জীবনে নতুন নয়। বরাবর কংগ্রেস ঘরানার এই মেয়ের পারিবারিক ইতিহাসে রাজনীতি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন ভারতে ইংরেজবাজারের প্রথম চেয়ারম্যান মনমোহন সাহা দেবযানীর ঠাকুরদার বাবা। আর ঠাকুরদা ফনি রায় ১৫ নম্বর ওয়ার্ডেরই কাউন্সিলার ছিলেন। তিনিও ইংরেজবাজারের চেয়ারম্যানের পদ সামলেছেন। এমন রাজনৈতিক ইতিহাস যে পরিবারের, সেই পরিবারের মেয়ে হিসেবে দেবযানী গর্বিত। জেতার বিষয়েও আশাবাদী, বিপক্ষে বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষের স্ত্রীই থাকুক না কেন।


এই ১৫ নম্বর ওয়ার্ডেরই নির্দল প্রার্থী সাদিয়া খাতুন। চনমনে সাদিয়াও এবার প্রথম নির্বাচনি ময়দানে। জনসেবা করার ইচ্ছে থেকেই স্রেফ ভোটযুদ্ধে নেমে পড়া। সাদিয়ার অবশ্য আরেকটা পরিচয় আছে। স্যাক্সোফোনে সুরের ঝড় তোলে সাদিয়া। এবার ভোটবাক্সেও সেই ঝড় তুলতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বটে। তবে, নির্দল এই তরুণী যে নারীশক্তির লড়াকু মনোভাবের প্রকাশ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সমাজের অর্ধেক আকাশ যে নারী, সে কথা বুঝিয়ে দিচ্ছেন মধুরিমা, দেবযানী, সাদিয়ারা।




আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page