অপসারিত বিজেপি সভাপতি, আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত

অপসারিত বিজেপি সভাপতি, আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত

পদ থেকে অপসারণের পর দলের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করলেন বিজেপির বিদায়ি মালদা জেলা সভাপতি সঞ্জিৎ মিশ্র৷ আজ দলের জেলা কার্যালয়, শ্যামাপ্রসাদ ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন৷ দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছেন৷


উল্লেখ্য, গতকালই সঞ্জিৎ মিশ্র সহ ৮ জেলার সভাপতিকে অপসারণ করে বিজেপি৷ সেই মেমোতে স্বাক্ষর করেন দলের রাজ্য কমিটির অফিস সেক্রেটারি৷ সেই মেমোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সঞ্জিতবাবু৷ তিনি বলেন, বিজেপির গঠনতন্ত্রে অফিস সেক্রেটারি বলে কোনও পদ নেই৷ দলীয় দঠনতন্ত্রে কোনও রাজ্যে কোনও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী রাজ্য সভাপতি৷ তাঁর পরেই রয়েছেন জেলা সভাপতিরা৷ গত বছরের ২০ জুলাই রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তাঁকে মালদা জেলার দলীয় সভাপতি হিসাবে নিযুক্ত করেন৷ ২৩ জুলাই তিনি সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন৷



সঞ্জিতবাবুর অভিযোগ, প্রথম থেকেই তাঁকে মেনে নিতে পারেননি দলের রাজ্য কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত চ্যাটার্জি৷ সুব্রতবাবুর বুথ সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা না থাকলেও তিনি উপরতলার কয়েকজনকে ধরে সেই দায়িত্ব পান৷ প্রথম থেকেই তিনি তাঁর বিরোধিতা করে আসছেন৷ জেলা সভাপতি হিসাবে তিনি নতুন কমিটি গঠন করলেও সেই কমিটির অনুমোদন দিতে টালবাহানা করেন তিনি৷ নিজের পছন্দের লোকজনকে নতুন কমিটিতে রাখার জন্য সুব্রতবাবু তাঁকে চাপ দেন৷ তিনি গোটা বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানান৷ অবশেষে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে মাস তিনেক পর সেই কমিটি অনুমোদন পায়৷ এরপরেই সুব্রতবাবু তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন৷ নিজের পেটোয়া লোকজনকে দিয়ে তাঁকে পদে পদে অপদস্থ করাতে শুরু করেন৷ হবিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ভোটের ৪ দিন আগে তাঁকে নির্দেশ দেন, তিনি যেন হবিবপুরে না যান৷ তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সেকথা জানান৷ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি হবিবপুরে মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন৷ তার সুফল পেয়েছে দল৷ লোকসভা ভোটেও তিনি এই জেলায় দলকে একটি আসনে জিতিয়েছেন৷ দক্ষিণ মালদার প্রার্থী যদি দলের নির্দেশ মেনে কাজ করতেন তবে সেই আসনেও তাঁরা জিততেন৷ তবে এই কেন্দ্রে হার হবে নিশ্চিত ছিল কেন্দ্র ও রাজ্য কমিটি৷ কোনও কমিটিই এই আসনে গুরুত্ব দেয়নি৷ অথচ তিনি দুই কমিটিকেই বলে দিয়েছিলেন, একটু খাটলেই আসনটি তাঁরা দখল করবেন৷ এই কেন্দ্রের প্রার্থীকেও কেউ কন্ট্রোল করতে পারছিল না৷ তিনি নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করছিলেন৷ সেই কারণেই আসনটি তাঁদের খোয়াতে হয়েছে৷


সঞ্জিতবাবু বলেন, তিনি দলের ট্রেড ইউনিয়নের সর্বভারতীয় সভাপতি হিসাবে কাজ করেছেন৷ তাই দলের আটঘাঁট তাঁর জানা রয়েছে৷ এই নিয়েই তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিত্বের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন সুব্রতবাবু৷ কিন্তু তিনিও এর শেষ দেখে ছাড়বেন৷ গতকাল তাঁকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ বলা হয়েছে, যে ৮ জনকে পদ থেকে সরানো হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে৷ রয়েছে আর্থিক দুর্নীতি ও অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ৷ তিনি দলকে চ্যালেঞ্জ করছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে৷ তা না হলে তিনি কেন্দ্রীয় দপ্তরের সামনে ধরনায় বসবেন৷ প্রয়োজনে দলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন৷ আপাতত তিনি ঠিক করেছেন, যতদিন না তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগের প্রমাণ মিলছে, ততদিন দলের কোনও কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেবেন না৷ তবে দলও ছাড়বেন না৷

বিজ্ঞাপন

হেডলাইন

প্রতিবেদন

রাতভর বিনিদ্র হাট

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ছড়াটি মনে আছে তো? ‘হাট বসেছে শুক্রবারে, বকসিগঞ্জের পদ্মা পাড়ে৷ জিনিসপত্র জুটিয়ে এনে, গ্রামের মানুষ বেচে কেনে’...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
পপুলার

ছয় হাজার লিটার স্যানিটাইজার তৈরি করল এক স্বনির্ভর গোষ্ঠী

জেলাপ্রশাসনের উদ্যোগে স্যানিটাইজার তৈরির প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখলেন জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র। শনিবার দুপুরে ইংরেজবাজার ব্লকের কোতোয়ালি গ্রাম...

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

বিজ্ঞাপন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.