top of page

গুলি করে খুনের ছক বদলে ফেলে আসিফ

গোটা পরিবারকেই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল আসিফ মোহম্মদ। মাত্র উনিশ বছরের এই যুবকের কীর্তিকলাপে হতভম্ব পুলিশের তাবড় কর্তারাও।


বাবা জাওয়াদ আলি, মা ইরা বিবি, বোন আরিফা খাতুন, দাদা আরিফ মোহম্মদ ও ঠাকুমা আলেকজান বেওয়াকে চিরতরে নিকেশ কষে দেওয়ার পরিকল্পনা যে ঠাণ্ডা মাথাতেই করেছিল আসিফ, সে বিষয়ে নিশ্চিত পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রথমে বাড়ির সকলকে গুলি করে খুনের পরিকল্পনা করে সে। সে কারণে বিহার বা ঝাড়খণ্ড থেকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র আনায়। কিন্তু পরে একটা আশঙ্কা থেকে এই ছক বাতিল করে দেয়।



কি সেই আশঙ্কা?


আসিফের আশঙ্কা ছিল, যদি গুলি চালায়, তাহলে প্রতিবেশীরা গুলির আওয়াজ শুনে সব জেনে যাবে। তাই পরিকল্পনা বাতিল। তারপরেই দ্বিতীয় প্ল্যান ধরে এগোতে থাকে মাধ্যমিক পাশ এই যুবক।


পুলিশি জেরায় আসিফ কবুল করেছে, সেই বাড়ির চারজনকে খুন করেছে। কিন্তু এতটুকুও অনুতপ্ত দেখায়নি তাকে। পুলিশ জানতে পেরেছে, গুলি করার পরিকল্পনা বাতিলের পরই জলে ডুবিয়ে খুন করে পুঁতে রাখার ছক কষে আসিফ। সেই মতো এগোয়। কিন্তু কোনোক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে যায় দাদা আরিফ। কালিয়াচক থেকে সোজা কলকাতায় পালিয়ে যায় আরিফ। আসিফের ভয়ে এতদিন লুকিয়েছিল আরিফ।



তাহলে এতদিন পরে সামনে এল কেন?


এই প্রশ্নের উত্তরও মিলেছে। আসিফ তার কাকার কাছে নিজেদের বাড়ি বিক্রি করার কথা বলে। কিন্তু বাড়ি বেচতে গেলে যে তার বাবা, দাদাদের লাগবে, সে কথা জানায় তার কাকা।


কিন্তু বাবা, দাদাকে আনবে কীভাবে? বাবাকে যে নিজে হাতে খুন করেছে। আর দাদা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আসিফ কাকাকে জানিয়েছিল, বাড়ি তার নামে। তাই বেচতে গেলে কাউকে লাগবে না। এখানেই সন্দেহ হয় কাকার। কাকা আরিফকে ফোন করে ডেকে পাঠান। আরিফ কাকার বাড়িতে এসে সব ঘটনা বলে ফেলে। আর দেরি না করে কাকা পুলিশে খবর দেন। তারপর পুলিশ তদন্তে নামে।


তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। খুনের জন্য আনানো অস্ত্র সে টাকার বিনিময়ে বন্ধুদের কাছে লুকিয়ে রাখে। পুলিশ আসিফকে জেরা করে দুই বন্ধু সাবির আলি ও মাহফুজ আলির বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকে প্যাকেটে মোড়া অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র, ৮০ রাউন্ড গুলি, ১০টি ম্যাগাজিন পাওয়া যায়।



এত অস্ত্র!


বিস্মিত সকলেই। এত বিপুল অস্ত্র কীভাবে জোগাড় করল মাধ্যমিক পাশ এক উনিশ বছরের যুবক? কার অস্ত্র সরবরাহ করল তাকে? আসিফকে জেরা করে অস্ত্র কারবারিদেরও হদিস পেতে চাইছে পুলিশ।


তবে তার সঙ্গেই আসিফের ল্যাপটপের ভিতরে লুকিয়ে থাকা তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। কারণ আসিফের সঙ্গে বিটকয়েন আর ডার্ক ওয়েব যোগ আছে বলে সন্দেহ বাড়ছে। আসিফ মোহম্মদ ডার্ক ওয়েবে খুনের ভিডিয়ো আপলোড করে প্রচুর টাকা কামাতে চেয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই রহস্যের গিঁট খুলবে।



আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

Comments


বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page