top of page

প্লাস্টিকের বিকল্পে কচুরিপানার ব্যাগ বানিয়ে তাক লাগাল মালদার ২ ছাত্র

বেকার সমস্যা মেটাতে কচুরিপানা দিয়ে শিল্পের কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তা নিয়ে হইচই পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এবার সেই কচুরিপানা দিয়ে তৈরি ব্যাগ নিয়ে জাতীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেসে যাচ্ছে মালদার দুই পড়ুয়া। ইতিমধ্যে রাজ্যের দরবারে তাদের এই কাজ প্রশংসিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রোজেক্টে আরও কাজ করতে চায় ওই দুই পড়ুয়া।


মালদা টাউন হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র প্রতীক সাহা ও তুষার সাহা। কচুরিপানা দিয়ে কিছু একটা করার ভাবনা এসেছিল প্রতীকের মাথাতেই। এরপরেই এনিয়ে ভাবনা চিন্তা করতে শুরু করে সে। সহপাঠী তুষারকে নিয়ে চলতে থাকে নানা পরীক্ষা। তাদের এই কাজে সাহায্য করেছেন স্কুলের শিক্ষক জিকো দাসও।



প্রতীক জানায়, কচুরিপানা জলাশয়ে জন্মায়,

সেখানেই মারা যায়৷ কচুরিপানার কারণে সূর্যের আলো সরাসরি জলে পৌঁছোতে না পারায় জলে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়৷ গ্রামাঞ্চলে কৃষকরা কচুরিপানাকে সার হিসাবে ব্যবহার করেন৷ এই থেকেই প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে কচুরিপানার কথা মাথায় আসে তাদের। জলাশয় থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করে প্রথমে রোদে শুকোনো হয়। পরে স্কুলের ল্যাবে ব্লিচিং পাউডার, সোডিয়াম মেটা বাই সালফাইড, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডে আলাদ আলাদা করে ভিজিয়ে রাখা হয়। এরপর ১৪ দিন শুকিয়ে তা দিয়ে ব্যাগ তৈরি করা হয়। রাসায়নিক ব্যবহার না করা কচুরিপানা প্রায় ৯ কিলো ওজন বহন করতে পারছে, ক্যালসিয়াম কার্বোনেটে ভিজিয়ে রাখা কচুরিপানা ১৩ কিলো ৭০০ গ্রাম ওজন নিতে পারছে। এই কাজে স্কুলের শিক্ষকও তাদের সাহায্য করেছেন। কলকাতার বিজ্ঞান মেলায় ৭৩৫টি স্কুলের প্রজেক্ট জমা পড়েছিল৷ এর মধ্যে ৩০টি প্রকল্প জাতীয় স্তরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে৷ তাদের কচুরিপানার ব্যাগও জাতীয় স্তরের যাওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

মালদা টাউন হাইস্কুলের রয়াসন বিষয়ের শিক্ষক জিকো দাস জানান, ২০১৮ সাল থেকেই তাঁরা এই প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করছেন৷ এবার রাজ্য স্তরে প্রোজেক্টটি সফল হয়েছে৷ ডিসেম্বরে গুজরাটে আয়োজিত জাতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসে এই প্রোজেক্ট তাঁদের ছাত্ররা নিয়ে যাচ্ছে৷ এই প্রকল্প পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নও ঘটাতে পারবে৷




আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page