top of page

কৃষিজমি গিলছে গঙ্গা

ওই যে ওখানে, ওখানেই ছিল আমার জমিটা৷ আমাদের সোজাসুজি যেখানটায় নিজের জমির অবস্থান বোঝাচ্ছিলেন আবদুর, সেখানে এখন প্রবল স্রোতে বয়ে চলেছে রুদ্ররূপী গঙ্গা৷ আবদুরের জমি তো বটেই, বসতভিটে গঙ্গাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে৷


Floods and erosion

পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন হাজি সাহেব৷ বললেন, ৪ দিনে ৪০০ মিটার জমি গিলে নিয়েছে বাবু৷ এমন ভাঙন আগে দেখিনি কখনো৷ গ্রামের পর গ্রাম নিশ্চিত হয়ে যাবে, এভাবে গঙ্গা সবকিছু কেড়ে নিতে থাকলে৷ বিঘের পর বিঘে চাষের জমি মুহূর্তে তলিয়ে যাচ্ছে৷ আর তার সঙ্গেই হারিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কৃষকের বেঁচে থাকার রসদটুকু৷ রতুয়ার নয়া বিলাইমারি থেকে জঞ্জালিটোলা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অংশে তাণ্ডব চালাচ্ছে গঙ্গা, কোথাও ৪০০, কোথাও ৫০০ মিটার ভিতরে ঢুকে এসেছে নদী৷ কৃষিদপ্তরই বলছে, কম করেও ছয়-সাতশো বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে৷ এইসব এলাকায় ভুট্টা, কলাই, গম ও আউশ ধান চাষ হয়৷ এছাড়া তরমুজ, পটলও চাষ হয়৷


হাজি সাহেব বললেন, ত্রাণের নামে যা মিলছে, তাতে কী আর হয়? আমরা শুধু চাষবাস করতেই শিখেছি৷ কিন্তু জমিটাই তো চলে গেল৷ এবার করবটা কী?

সহ কৃষি অধিকর্তা অজয় রামের বক্তব্য, কৃষিদপ্তর ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট তৈরি করছে৷ রিপোর্ট রাজ্যস্তরে পাঠানো হবে৷ সেখানে থেকে অনুমতি পেলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে যাবে৷ তবে শুধু রতুয়া নয়, নদীর ভয়াল রূপ দেখা যাচ্ছে বৈষ্ণবনগর, মানিকচকেও৷ জমি, বাড়ি হারিয়ে অসহায় মানুষগুলোর এখন দিশেহারা অবস্থা৷


হাজি সাহেব বললেন, ত্রাণের নামে যা মিলছে, তাতে কী আর হয়? আমরা শুধু চাষবাস করতেই শিখেছি৷ কিন্তু জমিটাই তো চলে গেল৷ এবার করবটা কী? মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই৷ পেট ভরার খাবারও নেই, সরকার তো ক্ষতিপূরণ দেবে সামান্য কটা টাকা৷ কিন্তু জমিটা পাব কোথায়, বলতে পারেন? এ প্রশ্নের উত্তর জানা নেই কারোর৷ তবে প্রশাসন চুপ করে বসে নেই৷ ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে রতুয়া গিয়েছেন জেলাশাসক নিজেই৷ পুলিশ সুপার ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের নিয়ে তিনি জলপথে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন৷ ড্রোন উড়িয়ে আকাশপথে ভাঙন দুর্গত এলাকায় সমীক্ষাও শুরু করেছে প্রশাসন৷


আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page