top of page

বাত্তি গুল মিটার চালু: কম ভোল্টেজের ছবি!

'টয়লেট: এক প্রেম কথা'র পর পরিচালক শ্রী-নারায়ণ সিং-এর তৃতীয় ছবি 'বাত্তি গুল মিটার চালু'র প্রধান বিষয় বিদ্যুৎ সমস্যা, আরও স্পষ্ট করে বললে বিদ্যুৎ দুর্নীতি। ছবির প্রেক্ষাপট উত্তরাখণ্ড যেখানে দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না অথচ মিটার চালু থাকে। সাধারণ জীবন তাদের রোজনামচার সঙ্গে লোডশেডিংকে প্রত্যাশিত বলেই ধরে নিয়েছে।


এখন এই প্রধান সমস্যায় আসতে গিয়ে পরিচালক বন্ধুত্ব-প্রেম-ভালবাসা আর মান-অভিমানের টানা নব্বই মিনিটের এক ক্লান্তিকর সাতকাহন ফেঁদেছেন। ছবির প্রধান তিন চরিত্র সুশীল কুমার (শাহিদ কাপুর), সুন্দর ত্রিপাঠী (দিব্যেন্দু শর্মা), ললিতা নৌটিয়াল (শ্রদ্ধা কাপুর) জিগরি বন্ধু। সুশীল পেশাতে উকিল কিন্তু ধুরন্ধর চালবাজ। সুন্দর নিজেকে আরকে লক্ষ্মণের 'কমন ম্যান' ভাবে। সে একটা প্রিন্টিং প্রেস খোলে। নৌটিয়াল ওরফে নওটি নিজেকে উঠতি ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে দেখে। তারপর বন্ধুত্বে এসে পড়ে প্রেম। শুরু হয় দ্বন্দ্ব-মান-অভিমান। এর মধ্যে সুন্দরের প্রেস ফ্যাক্টরিতে চুয়ান্ন লাখের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসে। নানান অফিসে অভিযোগ করেও যখন কোনো সুরাহা হয় না তখন সুন্দর আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। অনুতপ্ত সুশীল চালবাজি ছেড়ে বন্ধুকে ন্যায় দেবার উদ্দেশ্যে এই মনোলিথ সিস্টেমের সঙ্গে এক অসম লড়াই শুরু করে। পাশে দাঁড়ায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ। শুরু হয় কোর্টরুম ড্রামা। শেষ অবধি প্রায় তিনঘণ্টার কাছাকাছি সময়ে পৌঁছে ছবি শেষ হয়।


ছবির প্রধান দুর্বলতা সম্পাদনা যা পরিচালক নিজেই করেছেন। একটা নব্বই মিনিটের ছবিকে টেনে হিঁচড়ে তিনঘণ্টার ছবি করার ফলে যা হবার তাই হয়েছে

শুরু থেকেই গল্পটা দানা বাঁধেনি। ঠোকর খেতে খেতে এগিয়েছে। এতটা সময় নেবার পরেও প্রধান তিন চরিত্রের রসায়নে একেবারেই বুনট আসেনি। সংলাপ অত্যন্ত দুর্বল এবং আলগা। তার সঙ্গে প্রায় সমস্ত সংলাপে 'ঠায়রা' এবং 'বল'এর মতো আঞ্চলিক শব্দের বহুল ব্যবহার অত্যন্ত শ্রুতিকটু লেগেছে। ছবির শেষদিকে শাহিদ কাপুরের কিছু মোটা দাগের চটুল মন্তব্যও আপত্তিকর। দুর্বল চিত্রনাট্যের কারণে চরিত্রগুলোও ঠিক করে মাটি পায়নি। দিব্যেন্দু শর্মা ছাড়া প্রায় সকলেই উঁচু তারে অভিনয় করে বিরক্তি বাড়িয়েছেন। ফরিদা জালাল সহ সুপ্রিয়া পিলগাঁওকর-এর মতো অভিনেত্রীদের যখন ব্যবহার করা হবে না তখন নেওয়া হল কেন !

তবে ছবির প্রধান দুর্বলতা সম্পাদনা যা পরিচালক নিজেই করেছেন। একটা নব্বই মিনিটের ছবিকে টেনে হিঁচড়ে তিনঘণ্টার ছবি করার ফলে যা হবার তাই হয়েছে। ছবিটা ডুবেছে। দর্শক হাঁসফাঁস করে উঠবে এ পথের শেষ কোথায়! ছবির প্রধান বিন্দু অর্থাৎ বিদ্যুৎ সমস্যাতে আসতেই সময় লাগলো নব্বই মিনিটের বেশি। ছবি শেষ হবার পরেও বুঝে ওঠা যায় না এছবির প্রধান বিষয় কি- ত্রিকোণ প্রেম না আর্থসামাজিক সমস্যা, দুটোর অনুপাতে গরমিল এত বেশি !

সাধারণ মধ্যবিত্তের জীবনে দুর্নীতির প্রভাব যে কতটা বিষম হতে পারে, তার নিঃসহায়তার, সুরটাও ঠিক তালে বেজে ওঠেনি। এমনকি ছবির করুণ দৃশ্যগুলো পরিচালকের মুনশিয়ানার অভাবে অত্যন্ত বিরক্তিকর ঠেকেছে। ফলে ছবির শেষে নায়কের ড্রামাটিক মনোলগ অথবা নাজেহাল মানুষের কনজিউমার অ্যাকটিভিজম সবটাই যেন ফাঁকা আওয়াজ।

পরিচালক শ্রী নারায়ণ সিং কিন্তু পুরোপুরি শূন্যতায় কথা বলেননি। এ'ছবির কথক 'বিকাশ' এবং 'কল্যাণ' নামে দুই সহযাত্রী। বিকাশ এবং কল্যাণের নামে যে প্রশাসনিক দুর্নীতি হয়ে চলেছে দেশজুড়ে, তা দর্শকের কাছে বোধগম্য করে তোলা পরিচালকের উদ্দেশ্য ছিল। বিকাশ এবং কল্যাণ এর মতো শব্দগুচ্ছ যে এখন ক্ষমতার অভিমুখ ধরে চলা রাজনীতির ভাষা বই আর কিছুই নয়, সেটাও স্পষ্ট করেছেন। ছবির এক জায়গায় একজন বলে 'বড়ে বঢিয়া দিন আওয়ে ঠায়রে!' সচেতন দর্শকমাত্রেই 'আচ্ছে দিন' এর প্রসঙ্গ মনে পড়বে। দুঃখের বিষয় রাজনৈতিক মেটাফরের মোড়কে এই ছবির শরীর পূর্ণাবয়ব পায়নি। ছবির ক্যানভাস আরও রাজনৈতিক এবং আর্থসামাজিক হয়ে উঠবার দরকার ছিল। তার জন্য প্রয়োজন ছিল এক নরম অথচ ঋজু চিত্রনাট্য।


আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

রেটিং: পাঁচ এ দুই।

Comments


বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page