top of page

পাতে শুধুই খোকা ইলিশ

সকাল থেকেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি পড়ছে৷ শ্রাবণের শেষেও ঘোর বর্ষার আবহ৷ আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা কেমন ইলিশ ইলিশ করে উঠল৷ অমনি থলে নিয়ে বাজারে ছুটলেন অম্বিকেশবাবু৷ গিন্নি বলে দিয়েছে, ইলিশ আনছ, কিন্তু ডিম থাকে যেন! গিন্নির আদেশ শিরোধার্য৷

মকদুমপুরে মাছের ভিড়ে হন্যে হয়ে খুঁজছেন৷ কিন্তু ডিম! সে তো বিলাসিতা! বরফের চাঁই থেকে যেগুলো উঁকি দিচ্ছে, সে সব কি আবার ইলিশ নাকি! ওগুলো তো খোকা!

বাবু, বাজারে এটাই এখন পাবেন৷ ডিমওলা ইলিশ আসছে কই৷

অগত্যা, খোকা ইলিশে আত্মতৃপ্তি করার চেষ্টা৷

খোকা ইলিশে নাকি সরকারের নিষেধ৷ কিন্তু সে সব থোড়াই কেয়ার৷ বাজারে শুধুই রূপালি মাছের ক্ষুদ্র সংস্করণ৷ তাও আকাশ ছোঁয়া দাম৷ মাত্র ৪০০ গ্রামের এক-একটা ইলিশ বিকোচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি দরে৷ আর হাফ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ৬০০ টাকা প্রতি কেজি৷ তবে এসব ইলিশ ফরাক্কার নয়, কোলাঘাট থেকে আমদানি হওয়া৷ শ-তিনেক টাকায় হাফ কেজির ইলিশ নিয়ে ঘরে ফিরলেন গৃহকর্তা, খিচুড়ি-ইলিশের স্বাদ তো নেওয়া যাবে! আর গিন্নিকে বলতে তো পারব, ইলিশ এনে দিয়েছি, দেখো৷


Hilsa Fish

বরফের চাঁইয়ে ইলিশ মাছের ঝাঁক নিয়ে বিক্রি করছিলেন পরিমল৷ সাহাপুরের এই যুবক এবার রূপালি মাছ বেচে খুব একটা তৃপ্ত নন৷ বললেন, বড়ো মাছ দেখতেই তো পেলাম না৷ তার ওপর ফরাক্কা দিয়ে বড়ো গাড়ি ঢোকা বন্ধ৷ জল-বৃষ্টি-বন্যায় ইলিশও যে এদিক মুখো হচ্ছে না৷ ওই খোকাগুলোই বেচছি তাই৷

নদী বিশেষজ্ঞ সুপ্রতিম কর্মকার বলেন, ইলিশের একটা স্বাদ আছে, পূর্ব বাংলায় যাকে বলে বিলিশ৷ মূলত ছোটো ছোটো ইলিশগুলো বিলিশ প্রজাতির৷ আর তার মধ্যে কিছু আছে মুখপুড়ি ইলিশ৷ উৎকৃষ্ট ইলিশের জাতটি বিগত ১০ বছর ধরেই আর পশ্চিমবঙ্গমুখো হচ্ছে না৷ কারণ জলের গুণগত মান এতটাই নেমে গেছে যে, এখানে খাপ খাওয়াতে পারছে না৷

বাংলাদেশ সরকার ইলিশ বাঁচাতে অভিনব পদ্ধতি নিয়েছে৷ তারা তৈরি করেছে মাছ পুলিশ৷ ওই পুলিশ সাধারণ পোশাকে বাজারে ঘুরবে এবং ছোটো ইলিশের ক্রেতা-বিক্রেতা দুজনকেই জরিমানা করবে৷ ছোটো ইলিশগুলোকে ধরলে পরিমাণ স্বভাবতই কমে যাবে৷ ফলে ইলিশের বাস্তুতান্ত্রিক অবস্থানে পরিবর্তন আসবে৷ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিকে হাতে না মেরে ইলিশ ভাতে মারবে৷


আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page