top of page

গ্রাম দখল তৃণমূলের, কিছু আসনে গেরুয়া-হাত

বাংলায় গ্রামের যুদ্ধ শেষ৷ নতুন রাজত্ব কার, সেটাও মোটামুটি জানা গিয়েছে৷ মালদা জেলায় আগামী পাঁচ বছর শুধুই সবুজের রাজত্ব৷ মধ্যে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি গেরুয়া ছাপ থাকলেও লালের চিহ্ন পর্যন্ত নেই৷ জনাদেশ বুঝিয়ে দিয়েছে, রাজ্যের সঙ্গে মালদার গ্রামগঞ্জও মমতার৷


ফলাফল বলছে, এই জেলার ১৪৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৫৯টিতেই দোলা খাচ্ছে ঘাসফুল৷ ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতে পদ্মের চাষ হয়েছে৷ সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ফল বুঝিয়ে দিয়েছে, গনি খানের মালদা এখনও কংগ্রেসকে ছুড়ে ফেলেনি৷ বরং আঠারোর ভোটের তুলনায় কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়াচ্ছে৷ গত ভোটে কংগ্রেস জেলায় মাত্র চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছিল৷ সেবার বিজেপি ২১টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জয়ী হয়েছিল৷ ৬৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ফলাফল ছিল ত্রিশঙ্কু৷ এবার ত্রিশঙ্কুও নিজের শক্তি বাড়িয়েছে৷ ৬৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কে বোর্ড গঠন করতে চলেছে তা এখনও পরিষ্কার নয়৷ এর আগের নির্বাচনে জেলার ১৫টি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে ন’টি দখল করেছিল তৃণমূল৷ দুটিতে বিজেপি এবং একটি কংগ্রেস দখল করেছিল৷ এবার ১৫টির মধ্যে ১০টিই শাসকদলের দখলে৷ পুরাতন মালদা, কালিয়াচক-২ ও ৩ আর হরিশ্চন্দ্রপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির ফল ত্রিশঙ্কু৷ শুধুমাত্র হবিবপুর পঞ্চায়েত সমিতিতে জয় পেয়েছে দখল বিজেপি৷ জেলা পরিষদেও এবার শক্তি বাড়িয়েছে শাসক শিবির৷ ৪৩টি আসনের মধ্যে ৩৩টি তাদের দখলে৷ কংগ্রেস ছ’টি ও বিজেপি চারটিতে জয় পেয়েছে৷ গতবার বিজেপি ছ’টি আসন দখল করেছিল৷ বামেরা পেয়েছিল দুটি আসন৷ কংগ্রেস শূন্য ছিল৷


কিন্তু এত অভিযোগ সত্ত্বেও তৃণমূলের পক্ষে মানুষের রায়ের এমন সুনামির কারণ কী? এনিয়ে জেলার শীর্ষস্তরের এক নেতার সঙ্গে কথা হতেই তিনি বলে ওঠেন, ‘সব কিছু ভুলে যান৷ শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মনে রাখুন৷ ওটাই তৃণমূলের ইউএসপি৷ গ্রামগঞ্জের মহিলারা ঘরে বসে মাসে ৫০০ টাকা পাচ্ছেন৷ এই টাকা কেউ কি উপেক্ষা করতে পারবেন! কোনও কাজ না করেই রোজগার৷ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে উদ্বুদ্ধ বাড়ির পুরুষরাও৷ তাই যতদিন এই প্রকল্প চালু থাকবে, বাংলা থেকে তৃণমূলকে সরানো দূরের কথা, কেউ নড়াতেই পারবে না৷’



বামেরা এবার এই জেলায় বাস্তবেই নিশ্চিহ্ন৷ হয়তো বাম নেতারা দু’চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত কিংবা পঞ্চায়েত সমিতির আসনে জয় অথবা পরে ভোট পরিসংখ্যানের তত্ত্ব তুলে ধরবেন৷ কিন্তু মানুষ ওসব দেখে না৷ তারা দেখে কে পঞ্চায়েত দখল করল৷ যা পরিস্থিতি, তাতে বামেদের ঘুরে দাঁড়াতে আরও কয়েক দশক লাগবে৷ বামফ্রন্টের মালদা জেলার আহ্বায়ক অম্বর মিত্র জানাচ্ছেন, ‘শাসকদল নির্বাচনি সন্ত্রাস চালিয়েছে৷ প্রশাসনের সহায়তায় ছাপ্পা থেকে শুরু করে বুথ পর্যন্ত লুট করেছে৷ পুলিশও হাত খুলে শাসকদলকে সাহায্য করে গিয়েছে৷ বিরোধী প্রার্থীদের জয় আটকে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীদের উইনিং সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে৷ সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে আগামী লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ এসবের জবাব দেবে৷’


জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মোত্তাকিন আলম বলছেন,

‘পুলিশ ও প্রশাসন এমন নির্লজ্জভাবে শাসকদলকে সাহায্য না করলে আমাদের ফল আরও ভালো হত৷ মানুষ আমাদের দিকে আসতে শুরু করেছে৷ তাই এবার আমাদের ফল গতবারের তুলনায় ভালো হয়েছে৷ মানুষ যে আর তাদের পাশে নেই, সেটা বুঝতে পেরেই তৃণমূল ভোটের আগে থেকে সন্ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছিল৷ ভোটের দিন ওদের সন্ত্রাসে কুঁকড়ে থেকেছে মানুষ৷ ব্যালট বাক্স থেকে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরহীন ব্যালট পেপার বেরিয়েছে৷ কমিশনের নির্দেশ উড়িয়ে প্রশাসন সেই ব্যালট পেপার গণনা করেছে৷ তবে লোকসভা কিংবা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এভাবে প্রশাসনকে পাশে পাবে না বলেই আমরা মনে করি৷ ওই দুই ভোটে মানুষ নিশ্চিত নির্ভয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে৷ আর তাহলেই তৃণমূলের পতন শুধু সময়ের অপেক্ষা৷’

উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলছেন,

‘বামনগোলা, হবিবপুর, পুরাতন মালদা আর গাজোল দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির গড়৷ এবারও আমরা এই চার ব্লকে ভালো ফল আশা করেছিলাম৷ তৃণমূল যে এই চার ব্লকে কিছু করতে পারবে না, সেটা অনুমান করেছিল জেলা প্রশাসনও৷ তাই ভোটের আগে জেলাশাসকের পৌরোহিত্যে এই চারটি ব্লকের বিডিওদের নিয়ে গোপন বৈঠক হয়৷ ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই চারটি ব্লকের জন্য অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো হয়৷ সেই ব্যালট পেপারে তৃণমূলে ছাপ দিয়ে কৌশলে প্রশাসনিক আধিকারিকরা গণনা কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন৷ এর প্রমাণ গাজোলে পাওয়া গিয়েছে৷ লোকসভা কিংবা বিধানসভা নির্বাচনে প্রশাসনের এই কৌশল খাটবে না৷ তখন প্রশাসন কীভাবে তৃণমূলকে বাঁচায়, দেখা যাবে৷’

আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page