top of page

শুরুতেই হোঁচট। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেও কি শঙ্কায় কংগ্রেস?

একসময়ের গড়। এখন তা ধু-ধু মাঠ। ভোটের মাঠে খেলোয়াড় খুঁজতেই কি কালঘাম ছুটছে মালদা জেলার কংগ্রেস নেতৃত্বের? নইলে আসন্ন নির্বাচনে জেলার দুই পুরসভায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেও কেন বামেদের সঙ্গে জোটের আশা? সেকারণেই কি আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা?

প্রশ্ন অনেক। উত্তর দেওয়ার লোক নেই। বরকত গনি খানের জেলায় কংগ্রেসের ভঙ্গুর দশাটা ভালোভাবেই টের পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। একুশের ভোটে জেলা তো বটেই, ভোটের আসরে রাজ্য থেকে নিশ্চিহ্ন বাম-কংগ্রেস। জোট করেও মান বাঁচানো যায়নি। সেই ফলের পরেই দুই দলের ভিতর থেকে আওয়াজ উঠেছিল, অনেক হয়েছে জোট-ঘোঁট। এবার একা মাঠে নামা হোক। নইলে আর অস্তিত্ব রক্ষা করা যাবে না। নীচুতলার কর্মীদের মন ইতিমধ্যে পড়ে ফেলেছে বামেরা। কলকাতা কর্পোরেশনে একা লড়ে হেরে গেলেও ভোটপ্রাপ্তিতে তাদের মান কিছুটা বেঁচেছে। আরও বড়ো বিষয়, পক্বকেশ ছেড়ে এবার বামেরা দল এবং ভোট ময়দানে ভরসা রাখছে তরুণ কাঁধে। ইংরেজবাজার পুরসভার যে ১৬টি আসনে তারা প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে, তাতেও সেই ছবি ধরা পড়েছে। ২৮ জানুয়ারি নাটকীয়ভাবে সেই তালিকা ঘোষণা করা হয়েছিল মালদা শহরের প্রাণকেন্দ্র ফোয়ারা মোড়ে। সেদিনই জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, পুর নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা, নৈব নৈব চ।

এই আবহে গতকাল দলের জেলা সদর দফতর হায়াত ভবনে ইংরেজবাজার পুরসভার ২৯টির মধ্যে ১৫টি এবং পুরাতন মালদার ২০টির মধ্যে আটটি ওয়ার্ডে নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। সেই তালিকা ঘোষণা করেন দলের কার্যকরী জেলা সভাপতি কালীসাধন রায়। উপস্থিত ছিলেন একাধিক নেতা। ছিলেন দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি মোস্তাক আলমও। সংবাদমাধ্যমের সামনে মোস্তাক সাহেব যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে তাঁরা যে পুর নির্বাচনে একা লড়ার সাহস সেভাবে পাচ্ছেন না তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।


কী বলেছেন জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি! তাঁর কথায়, ‘আমাদের আর বামেদের লড়াইয়ের লক্ষ্য এক। দিল্লিতে বিজেপি আর রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই। তাই আমরা বিগত দিনে জোটবদ্ধ হয়ে লড়েছি। অবশ্য এবার কলকাতা কর্পোরেশন নির্বাচনে দুই দলই পৃথকভাবে লড়েছে। তবু এই জেলায় বাম-কংগ্রেসের জোটের আশা ছিল। কিন্তু ওরা আগেই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। তাই আর আমরা আর অপেক্ষা করতে পারি না। সেকারণেই আমরা দুই পুরসভায় আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলাম। বাকি ওয়ার্ডগুলি এখনও ফাঁকা রাখা হয়েছে। এখনও বামেদের সঙ্গে আমাদের জোটের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমরা জানি, এনিয়ে জেলা বামফ্রন্ট কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। কারণ, কলকাতা ছাড়া ওরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আমরা এখনও চাইব, আসন্ন পুর নির্বাচনেও এখানে বাম-কংগ্রেসের জোট হোক। আমরা এখনও সেই সুযোগ রেখে দিয়েছি।’

মোস্তাক সাহেব যখন এসব কথা বলছেন, তখন প্রকাশিত প্রার্থী তালিকা নিয়ে কংগ্রেসের নীচুতলা থেকেই শোনা গিয়েছে বিদ্রোহের সুর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক কর্মী জানিয়েছেন, যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তা আদপে তৃণমূলের বি টিম। এই তালিকায় ভালো ফল করা তো দূরের কথা, হায়াত ভবনে কংগ্রেসের সাইন বোর্ডটাও ঠিক থাকবে কিনা সন্দেহ। বিদ্রোহের সেই ছবি কিছুটা অবশ্য ধরা পড়েছে গতকালই। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষিত প্রার্থী সন্তোষ কেশরীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হন কংগ্রেস কর্মীরা। ফলস্বরূপ সেই ওয়ার্ডে প্রার্থী নিয়ে পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয় দলীয় নেতৃত্বকে।




আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

Commentaires


বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page