top of page

মেডিকেল কলেজ ফিরিয়ে দেওয়ায় বাড়িতেই সন্তান প্রসব!

নির্দেশ রয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু তাতে থোরাই কেয়ার করেন মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা! মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, রাজ্য জুড়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ১০০ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। মালদা জেলা সেই জায়গায় এখনও পৌঁছোতে পারেনি। এখনও ৭-৮ শতাংশ প্রসূতির প্রসব বাড়িতেই হয়ে থাকে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের নির্দেশ সম্পূর্ণ করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু মেডিকেলের কিছু চিকিৎসকের গাফিলতিতে সেই চেষ্টা সফল হচ্ছে না। তারই প্রমাণ মিলেছে মালদা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে নরহাট্টা গ্রাম পঞ্চায়েতের বুধিয়া গ্রামে। এই গ্রামের এক প্রসূতি তীব্র প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে গতকাল সকালে মেডিকেলে ভর্তি হন। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাঁকে ছুটি দিয়ে দেন। তাঁরা বলেন, প্রসব হতে আরও দেরি রয়েছে। প্রসব যন্ত্রণা থাকলেও পূর্ণগর্ভা ওই প্রসূতিকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হন বাড়ির লোকজন। রাতে বাড়িতেই এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন ওই প্রসূতি। এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়েছেন মেডিকেলের সহকারী অধ্যক্ষ ও হাসপাতাল সুপার। তবে গোটা ঘটনায় মেডিকেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


ইংরেজবাজারের বুধিয়া গ্রামটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন আজা মিয়াঁ। পেশায় শ্রমিক তিনি। বছরের বেশিরভাগ সময় ভিনরাজ্যে কাজ করেন। তাঁর বিবি সকিনা বিবির (৩৪) ক্ষেত্রেই এই ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকিনাকে মেডিকেলে নিয়ে যান তাঁর ননদ ফিরোজা বিবি এদিন বলেন, তীব্র প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে গতকাল সকালে তিনি সকিনাকে মেডিকেলে নিয়ে যান। সঙ্গে ছিলেন এলাকার আশাকর্মী। তিনিই অ্যাম্বুলেন্সে সকিনাকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। মেডিকেলে তাঁকে অল্প কিছু টাকাও খরচ করতে হয়। যাই হোক, সকিনাকে হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে নেওয়া হয়। ঘণ্টাখানেক পর চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করে বলেন, প্রসব হতে দেরি রয়েছে। তাই সকিনাকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের তিনি বার বার জানান, সকিনার বাচ্চা হয়ে যাবে। তাঁকে যেন এখনই হাসপাতাল থেকে ছুটি না দেওয়া হয়। তাছাড়া তাঁদের বাড়িতে লোকজন নেই। তাই বার বার হাসপাতালে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। ফিরোজা বিবি বলেন, গর্ভ সঞ্চারের পর থেকেই তাঁরা সকিনাকে মেডিকেলে চিকিৎসা করাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসকরা তাঁর কোনও কথাই শুনতে চাননি। শুধু তাই নয়, এক নার্স এনিয়ে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেন। তিনি গোটা ঘটনা গ্রামের আশাকর্মীকে খুলে বলেন। তিনি তাঁকে সকিনাকে নিয়ে যে কোনও উপায়ে হাসপাতালেই থাকতে বলেন। কিন্তু একজন প্রসূতিকে নিয়ে হাসপাতালের বাইরে থাকাটা সমস্যার। তাই তিনি সকিনাকে নিয়ে বাড়ি চলে আসেন। সন্ধের দিকে সকিনার প্রসব যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। অবশেষে সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন সকিনা। এই ঘটনায় তাঁরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় বিরক্ত। যেখানে সরকার হাসপাতালে প্রসব করানোর জন্য প্রচার চালাচ্ছে, সেখানে হাসপাতাল থেকেই প্রসব না করিয়ে সকিনাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না।

এই ঘটনায় সরাসরি চিকিৎসকদের দায়ী করেছেন এলাকার আশাকর্মী সাবিরা মেহবুবা। তিনি বলেন, এই ঘটনায় সম্পূর্ণ দায় মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের। যেখানে তিনি সকিনাকে মেডিকেলে ভর্তি করে এসেছিলেন, সেখানে তাঁর অবর্তমানে সকিনাকে ছুড়ি দেওয়া হল কেন? এই সব চিকিৎসকদের জন্যই জেলায় ১০০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হচ্ছে না। তাঁদের এলাকায় অনেক প্রসূতিরই বাড়িতে প্রসব হয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রুহুল ইসলামও এনিয়ে ঘুরিয়ে মেডিকেলের চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এমন ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য চিকিৎসকদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। যা হয়েছে, তা ভালো হয়নি।

গোটা ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়েছেন মালদা মেডিকেলের এমএসভিপি অমিত দাঁ। তিনি বলেন, এমন ঘটনা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর কাছে খবর এসেছে। এদিনই তিনি একটি নির্দেশিকা জারি করে প্রসূতি বিভাগের সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও প্রসূতি হাসপাতালে এসে তাঁর প্রসব না হলেও ৭২ ঘণ্টা তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তারপর প্রয়োজনে তাঁকে বাড়িতে ফেরানো যেতে পারে। মেডিকেলের হাতে গোনা কয়েকজন চিকিৎসকের জন্য এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। গোটা বিষয় নিয়ে তিনি প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কেন ওই প্রসূতিকে ছুটি দেওয়া হয়েছিল, সেটাও জানতে চাইবেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে হাসপাতালের বৈঠকেও। এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য তিনি প্রসূতি বিভাগের প্রধানকে মাথায় রেখে একটি কমিটি গঠন করছেন।

অমিতবাবু আরও জানান, এই হাসপাতালে প্রতি মাসে ১৫০০-১৬০০ প্রসূতির প্রসব হয়। তার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রসূতির অস্ত্রোপচার হয়। বুধিয়ার ওই প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর প্রসব নিয়ে কোনও সমস্যা ছিল না। সেক্ষেত্রে কেন তাঁর আলট্রা সোনোগ্রাফি করা হল না, তা তিনিও জানেন না। তবে এমন ঘটনার কথা এর আগেও তাঁর কানে এসেছে। হাতে গোনা কয়েকজন চিকিৎসকের জন্য এমন ঘটনা ঘটছে। তিনি সকিনা বিবির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।


আমাদের মালদা এখন টেলিগ্রামেও। জেলার প্রতিদিনের নিউজ পড়ুন আমাদের অফিসিয়াল চ্যানেলে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

বিজ্ঞাপন

Malda-Guinea-House.jpg

আরও পড়ুন

bottom of page