বাবা চায় সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসুক ছেলে

বাবা চায় সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসুক ছেলে



নাম মহম্মদ দিলওয়ার হোসেন। বছর পঁচিশের এই যুবক কালিয়াচকের সুলতানগঞ্জের বাসিন্দা। দেখতে সাদাসিধা মোটামুটি মেধাবী এই যুবক জেলার খবরের শিরোনামে এখন। প্রসঙ্গত, বিহারের বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় গতকাল ঝাড়খণ্ডের পাকুড়িয়া থেকে তাঁর বড় ছেলে দিলওয়ার হোসেন ওরফে ওমরকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। খুব শীঘ্রই তাকে হেপাজতে নেবে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সিও। তবু তিনি চাইছেন, ছেলে ফের সুস্থ হয়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসুক। তার জন্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উপরেই ভরসা রাখছেন দিলওয়ার হোসেনের ব্যবসায়ী বাবা নজরুল ইসলাম।

সংবাদমাধ্যমের দৌলতে গতকাল কালিয়াচকের সুলতানগঞ্জের বাসিন্দারা জেনে ফেলেছেন, এলাকার যুবক ওমর জামিয়াতে মুজাহিদিন ইন্ডিয়া নামক এদেশের এক ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনের মডিউলের মাথা। সেই খবর প্রচারিত হওয়ার পরেই লোকচক্ষুর অন্তরালে নজরুল সাহেবের পরিবার। মুদি ব্যবসায়ী নজরুল সাহেবের সুলতানগঞ্জের বাথান মোড়ে বাড়ি ও দোকান। নজরুল সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী তাঁর ৩ ছেলের মধ্যে মহম্মদ দিলওয়ার হোসেন বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর প্রথমে ভর্তি হয় বহরমপুরের কেএন কলেজে। তবে সেখানে তার ভালো না লাগায় সে কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে জুলজি বিভাগে ভর্তি হয়। কিন্তু জুলজি নিয়ে সে পড়তে চায়নি। বছর খানেক পড়ার পর সে বাড়ি চলে আসে। তিনি তাকে বুঝিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্তত স্নাতক না হলে সে কোনো কাজ পাবে না। তাকে ফের ভর্তি করা হয় ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে সে নিজের পড়াশোনা নিয়ে আর এগোয়নি। বাড়ি ফিরে গ্রামের মসজিদে নমাজ পড়ার পাশাপাশি মসজিদের কাজ করত। প্রায় ৯ মাস আগে তাঁর মা বলে সে ২-৩ দিনের জন্য কলকাতা চলে যাওয়ার পর আর সে ফিরে আসেনি। তিনি ছেলের সন্ধান পাওয়ার অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সে নিজের ফোন নম্বর বদলে ফেলে। একদিন নিজেই ফোন করে জানায়, কেরালায় সে কাজ পেয়েছে। কাজ শেষ করেই বাড়ি ফিরে আসবে। কিন্তু আর সে বাড়ি ফেরেনি।

ওমরের বড় ভাই সামসুজ্জোহা কালিয়াচক কলেজের ছাত্র। ছোট ভাই সাহাদাত হোসেন এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ৩ ভাইকে এলাকার লোকজন ভালো ছেলে হিসাবেই জানত। নজরুল সাহেব বলেন, দিলওয়ারের বয়স এখন ২৫ বছর। পড়াশোনায় ভালোই ছিল সে। তিনি বলেন, মাস খানেক আগে একটি পত্রিকার সাংবাদিক হিসাবে কয়েকজন তাঁর বাড়ি এসে জানায়, তাঁর ছেলে বুদ্ধগয়ার মহাবোধি মন্দিরে বোমা বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। এই বিষয়ে তারা নাকি সমীক্ষা করতে এসেছে। এর ঠিক তার কয়েকদিন পরেই ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির সদস্যরা তাঁদের বাড়িতে আসে। তারা তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তখনই তাঁরা বুঝতে পারেন, সাংবাদিকদের পরিচয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরাই তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি আধিকারিকদের তাঁরা সবরকম সাহায্য করেছেন বলে জানান নজরুল সাহেব। তিনি একাধিকবার ফরাক্কার টাউনশিপ মোড়ে ওই সংস্থার দপ্তরে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর ছেলে যে কাজ করেছে তার জন্য তিনি লজ্জিত। এলাকায় তাঁদের সম্মান রয়েছে। ছেলের এই কাজ তাঁদের সেই সম্মানে আঘাত করেছে। গতকাল ঝাড়খণ্ডে ছেলে গ্রেফতার হওয়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। তাই তিনি চান, বিচারের পর তাঁর ছেলে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসুক।

প্রতীকী ছবি।

#DigitalDesk #Misc

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.