ব্যাংক কিংবা বাজার, কয়েন দেখলেই বেজার
Guinea Emporium header.jpg

ব্যাংক কিংবা বাজার, কয়েন দেখলেই বেজার

নরেন্দ্র মোদীর নোটবন্দির বয়স পেরিয়ে গিয়েছে এক বছর৷ এর মধ্যেই দেশ জুড়ে লাগু হয়েছে গুডস্ অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স৷ সাদা কথায় জিএসটি৷ সাধারণ মানুষের অবোধ্য৷ কিন্তু আমআদমির কাছে যা বোধ্য, তা হচ্ছে দ্রব্যমূল্যের লাগামছাড়া বৃদ্ধি আর খুচরোর ভয়ংকর সমস্যা৷ এই দুইয়ের দাপটে নাজেহাল সবাই৷



বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন নোট না ছেড়ে মোদীর নোটবন্দির ঘোষণা করা কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল, তা নিয়ে এখনও রয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর৷

কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষ যে ভয়াবহ সমস্যায় পড়েছিল, তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই৷ প্রথমে ব্যাংকের দীর্ঘ লাইন দিয়ে বড়ো নোট ভাঙাতে হয়েছে সবাইকে৷ ব্যাংক থেকে সবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে খুচরো কয়েনের থলি৷ তা প্রত্যেককে নিতেই হবে বলে কার্যত ফতোয়া জারি করে দিয়েছে ব্যাংকগুলি৷ এতেই দেখা দিয়েছে সমস্যা৷ বাজারে ঢুকে গিয়েছে কোটি কোটি টাকার কয়েন৷ এই মুহূর্তে রিজার্ভ ব্যাংক প্রচুর পরিমাণে নতুন নোট বাজারে ছেড়েছে৷ তা এখনো পর্যাপ্ত না হলেও নোট সমস্যা মিটেছে অনেকটাই৷ একই সঙ্গে বাজারে থেকে গিয়েছে কয়েনও৷ এই কয়েন নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার কথার লড়াই এখন নিত্যদিনের৷


মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে চায়ের দোকান রয়েছে বীরেন হালদারের৷ দিনে একশো কাপেরও বেশি চা বিক্রি করেন তিনি৷ ৪/৫ টাকা প্রতি কাপ৷ বীরেনবাবুর বক্তব্য, তাঁর ব্যবসা মূলত কয়েনের উপরেই চলে৷ কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়৷ তিনি কয়েনে ব্যবসা চালালেও বড়ো ব্যবসায়ীরা তা নিতে রাজি নন৷ ব্যাংক ও কয়েন নিতে রাজি হচ্ছে না৷ এভাবেই তাঁর কাছে জমে গিয়েছে কয়েক হাজার টাকার কয়েন৷ সেসব কী করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না৷ একই পরিস্থিতি নেতাজি মার্কেটের সবজি ব্যবসায়ী সমীর দাসের৷ তিনি জানাচ্ছেন, ক্রেতারা সবজি কিনে কয়েন ধরাচ্ছেন৷ ব্যবসার তাগিদে সেই কয়েন নিতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি৷ কিন্তু ক্রেতাদের যখন কয়েন দিচ্ছেন, তখন তাঁরা আর নিতে চাইছেন না৷ এমনকি ৫ টাকার কয়েন নিতেও ক্রেতাদের অনীহা৷ কিন্তু তাঁরা এত নোট কোথায় পাবেন? এনিয়েই ক্রেতাদের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হচ্ছে৷


নারায়ণ কুণ্ডু মুদিখানার পাইকারি ব্যবসায়ী৷ তাঁর বক্তব্য, এই মুহূর্তে তাঁর কাছে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার কয়েন রয়েছে৷ রিজার্ভ ব্যাংক নির্দেশ দিলেও ব্যাংকগুলি এখনও কয়েন জমা নিচ্ছে না৷ এই অবস্থায় তিনি কী করবেন? তাই কয়েনের মাধ্যমে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি৷ তবুও ব্যবসার তাগিদে প্রতিদিন কিছু কয়েন তাঁকে নিতেই হয়৷ শুধু তিনি নন, একই অবস্থা জেলার অন্যান্য পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও৷


এই সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলার বণিকসভা, মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক উজ্জ্বল সাহাও৷ তিনি বলেন, কয়েন এখন ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্যান্সারের আকার নিয়েছে৷ এর মূল প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর৷ এই মুহূর্তে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছে এক লক্ষ টাকা মজুত থাকলে তার মধ্যে ৬০ হাজার টাকাই কয়েন৷ বাজারে কয়েনের বিপুল উপস্থিতির কারণ গ্রামীণ মহিলারাও৷ তাঁরা বাড়িতে মূলত কয়েন জমান৷ নোটবন্দির পর সেই জমানো কয়েন তাঁরা বাজারে নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন৷ এভাবেই বাজারে কোটি কোটি টাকার কয়েন চলে এসেছে৷ সমস্যা আরও বাড়িয়েছে ব্যাংকগুলি৷ মুখে বললেও তারা কয়েন জমা নিচ্ছে না৷ এনিয়ে জেলাশাসককে তাঁরা একবার ডেপুটেশনও দেন৷ দুর্ভাগ্যের বিষয়, তাতে কোনো কাজ হয়নি৷ তাঁরা ফের এই সমস্যা সমাধানে জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করবেন৷ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনিকভাবে যাতে ডিস্ট্রিক্ট লেভেল ব্যাংক কমিটিতে আলোচনা হয়, তার আর্জি জানাবেন৷ তবে সেই বৈঠকে ব্যবসায়ীদেরও রাখতে হবে৷ তা না হলে সমস্যার সমাধান হবে না৷ উজ্জ্বলবাবু পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, কয়েন সমস্যায় জেলার অর্থনীতি ভাঙতে বসেছে৷ এনিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরো ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হবে৷


#Malda

হেডলাইন

প্রতিবেদন

ডিজিট্যাল যুগে বাধ সাধে নি লন্ঠন, যমজ বোনের সাফল্য উচ্চমাধ্যমিকে

বিদ‍্যুৎ পরিষেবা পেলেও আর্থিক সঙ্কট থাকায় বকেয়া বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বাধ্য হয়েই তিন বছর ধরে লন্ঠনের আলোতেই পড়াশুনা চালিয়েছেন...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.