কেন্দ্রে গৈরিক, রাজ্যে সবুজ, ‘সাধু’ ট্র্যাডিশন অপরিবর্তনীয়
f.jpg

কেন্দ্রে গৈরিক, রাজ্যে সবুজ, ‘সাধু’ ট্র্যাডিশন অপরিবর্তনীয়


সদ্য প্রকাশিত সাত পুরসভার প্রত্যক্ষ নির্বাচনই হউক কিংবা দেশপতি বা উপ-দেশপতি বাছিয়া লইবার পরোক্ষ বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা-- বাহুবলে অথবা খল-কৌশলে বিরোধী শক্তিকে গুঁড়াইয়া দেবার তীব্র স্পৃহা স্পষ্টতই প্রতীয়মান৷ সাধু পাঠকগণ এই সাধু ভাষার লিখনি দেখিয়া যৎপরোনাস্তি বিরূপ হইতেই পারেন৷ কিন্তু সাধু সাবধান৷ আপনাদিগ অপেক্ষা সাধুতর পুর এবং দেশপতিদিগের পেশি এবং বেশি শক্তির (সাধু সাধু বলিয়া) তারিফ করিবার নিমিত্তই এই সাধু ভাষার ব্যবহার৷ আর সাধু-সন্ত-সাধবীর দেশে সাধু ভাষার ব্যবহার যথোপযুক্তও বটে৷

পাঠককুল লক্ষ করিয়া দেখুন আমরা প্রকৃত অর্থেই নিবিড়ভাবে জাতীয়তাবাদী হইয়া উঠিয়াছি৷ আচরণে না হইলেও বর্ণে তো বটেই৷ দেশ জুড়িয়া গেরুয়া প্রলেপ বুলাইয়া দিবার প্রবল অভীপ্সা প্রায় সম্পূর্ণ হইয়াছে৷ দেশপতি’র ভবনটি গেরুয়া করিয়া দিতে পারিলেই হয়তো বা ষোলোকলা পূর্ণ হইত৷ কিন্তু সাধুদিগের আর যাই হউক চক্ষুলজ্জা বলিয়াও একটি শব্দ-বন্ধ রহিয়াছে৷ সর্বোপরি বাহিরের বর্ণে কিই বা যায় আসে! যেটুকু বা যায় আসে সদ্য নির্বাচিত উপদেশপতির গেরুয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সেই অভাবটুকুও মুছিয়া ফেলিয়াছে৷


কিন্তু শুধু গেরুয়াতে স্বদেশপ্রেম উদ্বেলিত হয় না৷ কারণ আমাদিগের প্রয়োজন আরও দু’টি বর্ণের৷ মধ্যের শ্বেতশুভ্র পরিসরে আমাদিগের ন্যায় নোটবন্দি এবং ভোটবন্দি নাগরিকগণের অনায়াসে সংকুলান হইয়া যাইবে৷ সত্যই আমাদিগের নিজস্ব বর্ণ নাই৷ যখন যে বর্ণ প্রয়োজন আমরা তাহাতেই নিজেদের রঞ্জিত করিয়া লইতে পারি৷

বাকি রহিল হরিৎ বর্ণ৷ এরাজ্যের নির্বাচন বারংবার প্রমাণ করিয়াছে পশ্চিমবঙ্গ এখন সবুজ দ্বীপ৷ নির্বাচন পঞ্চায়েত হউক বা পুর-- পুরোটাই সবুজময়৷ মুখ্য বিষয়টি হইল বিজয়৷ এমন ‘সবুজ বিপ্লব’-এ বিরোধী-কণ্ঠ বেসুরো বাজে৷ সুতরাং জাতীয়তাবাদ এবং সবুজ বিপ্লবের স্বার্থে আমাদের স্বাধীনতার ৭০তম বর্ষে আমরা সত্য সত্যই ত্রিবর্ণে রাঙিয়া উঠিয়াছি৷ ইহা যৎপরোনাস্তি সুখের সময় বটে৷ যিনি যেখানেই বিরোধী হউন, অধিকারের দাবিতে ক্রন্দন সুখশ্রাব্য নহে৷ বরং তাল কাটিয়া দিবার অপচেষ্টা করিলে তাহা উদগিরিত জাতীয়তাবাদ এবং অনন্য উন্নয়নের পরিপন্থী বলিয়া বল এবং কৌশল পূর্বক পরিত্যাজ্য৷

অবশ্য রাঙাইয়া দেবার এই অভিপ্রায় বঙ্গবাসীর নিকট নূতন নহে৷ স্মৃতি বিভ্রান্ত না করিলে অনায়াসে স্মরণ করাই যায় এই বঙ্গভূমেই একদা বাম আমলের পূর্তমন্ত্রী প্রয়াত যতীন চক্রবর্তী মহাশয় (ভক্তকুলের কাছে যিনি আদরের ‘জ্যাকি দা’ ছিলেন) বিপ্লব ত্বরান্বিত করিবার লক্ষ্যে কলকাতার শহিদ মিনারের শীর্ষ গম্বুজটিকে রক্তিম বর্ণে রাঙাইয়া দিয়াছিলেন৷ অদ্যকার গেরুয়া এবং সবুজ বিপ্লব দেখিয়া যে সকল বিপ্লবীপ্রবরগণ হা-হুতাশ করিতেছেন, তাহারাও সেই বিপ্লবাচ্ছন্ন স্বপ্নে ‘সাধু সাধু’ চিৎকারে আকাশ-বাতাস মুখরিত করিয়া তুলিয়াছিলেন৷

আমরা যাহারা সব দেখিয়া শুনিয়া খ্যাপিয়া না গিয়া শ্বেতবর্ণে অবস্থান করিতেছি তাহাদের মনে পুরোনো উদ্ধৃতিটি নিশ্চয়ই ফিরিয়া ফিরিয়া আসিতেছে-- ‘সেই ট্রাডিশন সমানে চলিতেছে৷’

#PrintEdition #SoumyaDeSarkar

হেডলাইন

প্রতিবেদন

ডিজিট্যাল যুগে বাধ সাধে নি লন্ঠন, যমজ বোনের সাফল্য উচ্চমাধ্যমিকে

বিদ‍্যুৎ পরিষেবা পেলেও আর্থিক সঙ্কট থাকায় বকেয়া বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বাধ্য হয়েই তিন বছর ধরে লন্ঠনের আলোতেই পড়াশুনা চালিয়েছেন...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.