বাঙালি বঙ্গাব্দের বনেদিয়ানা
Header.jpg

বাঙালি বঙ্গাব্দের বনেদিয়ানা


এসো হে বৈশাখ দিয়ে শুরু হল বাঙালির আরও একটা নতুন বছর। বঙ্গাব্দ ১৪২৪। কিন্তু ঠিক কবে থেকে, কার উদ্যোগে, কীসের ভিত্তিতে এই দিনটি এই মর্যাদা পেল সেই বিতর্ক আজও বাঙালির পিছু ছাড়েনি। তর্ক গড়িয়েছে বহুদূর অতীতে, আবার বহু কাহানির আকারেও। এই ব্যাপারে এই বিশ্বাসের ভিত গড়তে চান ষষ্ঠ/সপ্তম শতকে, যখন কর্ণ-সুবর্ণের শেষ স্বাধীন হিন্দু রাজা ছিলেন শশাঙ্ক নরেন্দ্র গুপ্ত। তাঁর আমলেই বাংলা সন বঙ্গাব্দ শব্দটির আক্ষরিক প্রয়োগ শুরু হয়। কিন্তু সমস্যা হল শশাঙ্কের আমলে বাঙলা বা বঙ্গ নামে কোনো রাজ্য ছিল না। তাছাড়া সেকালের 'বঙ্গ' ফরিদপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ অথবা একালের ঢাকা বিভাগ শশাঙ্কের আওতাভুক্ত ছিল বলেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও বঙ্গাব্দ শব্দটি অঞ্চল বিশেষে পুঁথি লিপিকাররা অন্তত এই সময় বা এর আগে থেকেও ব্যবহার করে আসছে। যেমন ব্যবহৃত হত বিক্রমসম্বৎ, মল্লাব্দ, লক্ষণাব্দ, শকাব্দ ইত্যাদি। এছাড়া মঘীসন, কুমিল্লা, ত্রিপুরায় ত্রিপুরাব্দ, মুসলিমদের মধ্যে হিজরি সন, পূর্ববঙ্গের সিলেটে পরগনাতি সন ইত্যাদি জমিজমা সংক্রান্ত কাজের বাৎসরিক নাম। এরপরের গল্পটিই কিছু সত্যি।


কর্ণ-সুবর্ণের শেষ স্বাধীন হিন্দু রাজা শশাঙ্ক নরেন্দ্র গুপ্তের আমলেই বঙ্গাব্দ শব্দটির আক্ষরিক প্রয়োগ শুরু হয়। কিন্তু সমস্যা হল শশাঙ্কের আমলে বাঙলা বা বঙ্গ নামে কোনো রাজ্য ছিল না।

দীর্ঘদিনের হিন্দু শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ তখন দুরন্ত তুর্কিদের কবজায়। কিন্তু ওই নামেই, কিছুতেই বাংলার সবর্ত্র সর্বত্র যে শাসন ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাচ্ছে না তার কারণ বাংলার প্রায় সর্বত্র স্বাধীন ভুঁইয়াদের প্রবল পরাক্রম। এইসব পরাক্রমশালীদের মধ্যে ছিলেন ভূষণার মুকুন্দরাম, চন্দ্রদ্বীপের কন্দপ নারায়ণ, জালালপুরের মজলিশ কুতুব, ডাকার চাঁদ রায়, কেদার রায়, মঙ্গলবাড়ির ঈশা খাঁ, যশোরের প্রতাপাদিত্য রায় ছাড়াও আরও অনেকে। এই সময় মাত্র তেরো বছর বয়সে তামাম ভারতবর্ষের অভিভাবক হয়ে দিল্লির সিংহাসনে বসলেন মহামতি আকবর। যদিও এই সময় তাঁর সর্বক্ষণের পরামর্শদাতা ছিলেন বৈরম খাঁ। মাত্র চার বছর এই অধীনতা মেনে নিয়ে আকবর সাম্রাজ্য পরিচালনার ব্যাপারে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করলেন। প্রথমেই নজর দিলেন বাংলাদেশের দিকে। সাফল্যও পেলেন হাতে হাতে। কিন্তু চার-চারটি দশক কেটে গেলেও জয়ের সাফল্য বশ্যতা বা অধীনতায় পরিবর্তিত হল না, কারণ সেই ভুঁইয়াদের মোগল শক্তির সঙ্গে টক্কর দেবার সমক্ষমতা। চিন্তিত আকবর একিদন সপার্ষদ এক জায়গা অন্য জায়গায় যাচ্ছিলেন। পথ সংক্ষেপ করতে জমির উপর দিয়ে যখন চলছিলেন তখন হাতি-ঘোড়া মানুষজন ইত্যাদির পায়ের চাপে দলে মুচড়ে যাচ্ছিল বহু ফসল। এই সময় সবার নজর উপেক্ষা করে সামনে এসে দাঁড়াল এক রাজপুত যুবক। তিনি সোজাসুজি হাতির পিঠে বসা আকবরকে প্রশ্ন করলেন, যে দেশে প্রতিবছর খাদ্যের অভাবে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়, সেই দেশের সম্রাট হয়ে এইভাবে ফসল নষ্ট করা তাঁর মানায় কিনা! যুক্তিতে এবং সাহসিকতায় চমৎকৃত, মুগ্ধ হলেন সম্রাট। দিল্লিতে ফিরে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে ডেকে পাঠালেন তাঁকে। দেশের অর্থব্যবস্থার সাথে যুক্ত হতে আহ্বান জানিয়ে দিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ সন্মানীয় দেওয়ান পদ। শুধু তাই নয়, নতুন অধিকৃত বাংলাদেশের অনির্ধারিত জমির রাজস্ব আদায়ের এবং ভূমি রাজস্ব আইন নতুন করে ঢেলে সাজানোর দায়িত্ব দিলেন এই তরুণ যুবককে।

এই সিদ্ধান্তে ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়েছিলেন মুঘল সম্রাট। তীব্র বিরোধিতা ছিল বৈরাম খাঁ আর তাঁর অনুগামীদের। আরও তীব্র বিরোধিতা ছিল বাংলার ভুঁইয়াদের। তবুও কাজ শুরু হল। বাংলায় প্রথম নির্দিষ্ট পদ্ধতির ভিত্তিতে ভূমিসংস্কারের তথা রাজস্ব চিহ্নিত করার কাজ। আকবর নিজে এই সনটার নাম দিয়েছিলেন তারিখ-ই-ইলাহি। সময়টা ফসলি সন ৯৩৬ হিজরি। পরবর্তী কোনো তথ্যপ্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত বাঙালির নিজস্ব বঙ্গাব্দ এই সময় থেকেই শুরু বলা যায়।

লেখিকা সুস্মিতা সোম, গৌড় মহাবিদ্যালয়ের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসার

#SusmitaShome #Misc #Malda

হেডলাইন

প্রতিবেদন

ডিজিট্যাল যুগে বাধ সাধে নি লন্ঠন, যমজ বোনের সাফল্য উচ্চমাধ্যমিকে

বিদ‍্যুৎ পরিষেবা পেলেও আর্থিক সঙ্কট থাকায় বকেয়া বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বাধ্য হয়েই তিন বছর ধরে লন্ঠনের আলোতেই পড়াশুনা চালিয়েছেন...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.