শেখান কেমন করে শিখতে হয়

শেখান কেমন করে শিখতে হয়

১৬ মে-র প্রথম শ্রেণির পত্রিকায় একটি সংবাদের শিরোনাম – বাংলা আবশ্যিক সব স্কুলেই। রাজ্যের সব স্কুলে এবার থেকে বাংলা ভাষা পড়তেই হবে। তা সেই স্কুল যে বোর্ডেরই হোক। স্কুলের শিক্ষার মাধ্যম যে ভাষাই হোক, অন্যতম ভাষা হিসেবে বাংলা রাখতেই হবে। একই সঙ্গে চালু হতে চলেছে তিন ভাষা নীতি। তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী সরকারি স্কুলগুলিতে দুটি ভাষার মাধ্যমে পঠনপাঠন চালু করার কথাও বলেছেন। কারণ অবশ্যই স্পষ্ট – পড়ুয়ারা ইংরেজি মাধ্যমের বেসরকারি স্কুলে চলে যাচ্ছে। স্কুলে তিনটি ভাষা পড়ানো হোক, ক্ষতি নেই।


কতো লোকে মাতৃভাষার মাধ্যমে লেখাপড়া করে পরবর্তীকালে ইংরেজিতে অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেছেন। এদের সাফল্যের পেছনে আছে শিক্ষকদের নিরলস প্রয়াস। শেখানোর চেয়ে তাঁরা শেখার আগ্রহ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সঞ্চার করতে পেরেছেন বেশি।

অনেকের মাতৃভাষার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ফলে নিজের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটছে না। এর পরিণতি আমরা প্রতিনিয়তই উপলদ্ধি করছি। তবে সব সরকারি স্কুলগুলিতে দুটি মাধ্যম চালু করা বাস্তবে সবচেয়ে বড়ো অসুবিধা হ’ল উপযুক্ত সংখ্যক যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করা। এখনকার অনেক ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া হয় এমন স্কুলে আমরা দেখতে পাই শিক্ষকদের উপযুক্ত ভাষাজ্ঞান নেই। সরকারি স্কুলগুলিতে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে হলে অনেকগুণ বেশি উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ করা দরকার – যা অসম্ভব বললেই চলে। তাছাড়া এখন সমাজে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট দুটি শ্রেণি আমরা দেখতে পাই – ইংরেজি মাধ্যমে পড়া ও মাতৃভাষার মাধ্যমে পড়া। এবার আমরা প্রতিটি বিদ্যালয়ে আলাদাভাবে এই দুটি শ্রেণিতে চিহ্নিত করবো। ফল খুব ভালো হবে বলে মনে হয় না। এমনও তো হতে পারে- আমরা ভেবে দেখি আমাদের বাংলা ভাষার মাধ্যমে লেখাপড়া হয় এমন বিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রছাত্রীরা ইংরেজিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করছে না কেন। শিক্ষকরা বলেন, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা শ্রেণীকক্ষে অনেক বেশি। সবার দিকে নজর দেওয়া যায় না। তাছাড়া বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে অন্য একটি ভাষা শেখার এমনকি লেখাপড়ার পরিবেশ নেই। দরকার হলে আমরা ইংরেজি পড়ানোর জন্য বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক সংখ্যা বাড়াতে পারি। এখানেও উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগের সমস্যা আছে। বরং শিক্ষকরা পরিবেশের অসুবিধাগুলি মেনে নিয়ে সহানুভূতি সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে নিজস্ব পদ্ধতি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করুন। শ্রেণিকক্ষে কর্মরত অবস্থায় ভাবুন। বাড়ি ফিরে ভাবুন। আমরা দেখেছি প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকরা উপযুক্ত শিক্ষণ দক্ষতা অর্জন করতে পারেন না। প্রতিদিনের কর্মে তাঁরা নিজস্ব প্রচেষ্টায় নিজ নিজ ছাত্রছাত্রীদের জন্য পদ্ধতি উদ্ভাবন করুন ও প্রতিনিয়ত প্রয়োগ করুন। ছাত্রছাত্রীরা যাতে ইংরেজি শোনার ও বলার সুযোগ পায় দেখুন। পড়া ও লেখার ব্যাপারটি তো পরীক্ষার প্রয়োজনে আবশ্যিক। এছাড়াও সরকারিভাবে মাঝে মাঝে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা দরকার। ওয়ার্কশপগুলিতে তাঁরা আলাপ আলোচনা করুন। উপযুক্ত প্রশিক্ষকদের সংস্পর্শে আসুন। প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে ও নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলির সমাধান নির্ণয়ে সচেষ্ট হোন। সহানুভূতির সঙ্গে ছাত্রছাত্রীর অসুবিধাগুলির কথা ভাবুন। তাদের ভুলত্রুটি সহ্য করতে শিখুন। ইংরেজি ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে নিজেদের বিষয়ের ইংরেজি প্রতিশব্দগুলির সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের পরিচয় করান। ইংরেজি শেখা যে গুরুত্বপূর্ণ এটি সবাই একসঙ্গে ভাবুন। সবধরনের ছাত্রছাত্রীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করুন। বিশেষ করে দেখুন যেন তারা এই ভাষাটি শেখার প্রতি আগ্রহী হয়। বিনা কারণে যেন তাদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার না হয় এদিকে লক্ষ রাখুন। ছাত্রছাত্রীরা দক্ষতা প্রদর্শনে সামান্যমাত্র সাফল্য অর্জন করলে উৎসাহিত করুন। জানি বড়ো কঠিন কাজ। বলবেন, বলা সহজ করা কঠিন। কিন্তু চেষ্টা করে যে দেখতেই হবে। কারণ, আমাদের ছাত্রছাত্রীরা যে মনে মনে তাদের স্বপ্নগুলি আমাদের পায়ে অজান্তে বিছিয়ে দিয়েছে। আমরা যেন মাড়িয়ে না দিই।

দেখবেন আমাদের ভালোবাসাই পারবে অসাধ্য সাধন করতে। কতো লোকে মাতৃভাষার মাধ্যমে লেখাপড়া করে পরবর্তীকালে ইংরেজিতে অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেছেন। এদের সাফল্যের পেছনে আছে শিক্ষকদের নিরলস প্রয়াস। শেখানোর চেয়ে তাঁরা শেখার আগ্রহ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সঞ্চার করতে পেরেছেন বেশি। আমাদের বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলি ছাত্রছাত্রীদের শেখাবে কেমন করে ভাবতে হয়, কেমন করে শিখতে হয় ও কেমন করে সারাজীবন ধরে উপযুক্ত দক্ষতা ও পারদর্শিতা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হয়।


#Malda #ShaktipadaPatra #Education

বিজ্ঞাপন

হেডলাইন

প্রতিবেদন

রাতভর বিনিদ্র হাট

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ছড়াটি মনে আছে তো? ‘হাট বসেছে শুক্রবারে, বকসিগঞ্জের পদ্মা পাড়ে৷ জিনিসপত্র জুটিয়ে এনে, গ্রামের মানুষ বেচে কেনে’...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
পপুলার

ছয় হাজার লিটার স্যানিটাইজার তৈরি করল এক স্বনির্ভর গোষ্ঠী

জেলাপ্রশাসনের উদ্যোগে স্যানিটাইজার তৈরির প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখলেন জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র। শনিবার দুপুরে ইংরেজবাজার ব্লকের কোতোয়ালি গ্রাম...

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

বিজ্ঞাপন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.