উৎসবের আগে দিনগুলো

সময়ের গায়ে কেমন মধ্যযুগের গন্ধ৷ আসন্ন উৎসবের প্রস্তুতিতে যদিও নাক বন্ধ৷ আবার সেই আরাকান, মগের মুলুক, নদীর জলে ভেসে যাচ্ছে নারী, পুরুষ, শিশুর লাশ৷ কোথায় ওদের আসল মুলুক? ইতিহাস উত্তর খুঁজুক৷ রোহিঙ্গারা কারা? প্রশ্নটা কাকে করা হচ্ছে সেই অনুযায়ী উত্তর আসবে৷ বার্মার (বর্তমান মায়ানমার) একটা অঞ্চলে শতাব্দী প্রাচীন যাদের বসবাস, ব্রিটিশ শাসনকালে যারা একসময়ে (যার শুরু ১৮২৪ সালে) ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে পাড়ি দিয়েছিল বার্মায় জীবিকার সন্ধানে, (কারো মতে সময়টা মোগল আমল) নাকি তারা যারা সেই ১৯৮২ সাল থেকে রাতারাতি মায়ানমারের প্রশাসনের মতে সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, যাদের ভোটাধিকার নেই, নেই সরকারি চাকরিতে যোগদানের অধিকার, দেশের সংখ্যাগুরু বৌদ্ধদের কাছে যারা মুসলিম সন্ত্রাসবাদী ছাড়া আর কিছুই না অতএব এথনিক ক্লিনজিং৷ গ্রামের পর গ্রাম জ্বলছে, আন্তর্জাতিক প্রেসের প্রবেশ নিষিদ্ধ তবে উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ছে৷ পাল পাল লোক প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছে৷ যারা ধরছে ডাঙার পথ তাদের অনেকেই বার্মা-বাংলাদেশ সীমান্তে পেতে রাখা ল্যান্ডমাইন ফেটে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হচ্ছে আর যারা সামান্য ডিঙি নৌকায় ভেসে পড়ছে সমুদ্রপথে তাদের কতজন ডুবে যাচ্ছে মাঝদরিয়ায় হিসেব নেই৷ রাষ্ট্রপুঞ্জ বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো দেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর অত্যাচারের নিদর্শন৷ অবশেষে মুখ খুলেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়িনী, বলেছেন যা ঘটছে রটছে তার বেশি, সন্ত্রাসবাদীদের সব অপপ্রচার৷ ইতিমধ্যেই তিন লক্ষ মানুষ সহায় সম্বলহীন৷ কোনোরকমে প্রাণ নিয়ে পেরিয়ে এসেছে সীমান্ত৷ কক্সবাজারে মাইলের পর মাইল জুড়ে ক্যাম্পগুলো উপচে পড়ছে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড়ো গণপ্রস্থানে৷


আধুনিকতার প্রাথমিক শর্তগুলোর মধ্যে একটা হল-- ভিন্ন মতের, বিকল্প ভাবনার পরিসর তৈরি করা৷ বিরোধী কণ্ঠের সুরক্ষা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রাথমিক কর্তব্য৷ একজন গুরুত্বপূর্ণ মহিলা সাংবাদিক, পত্রিকা সম্পাদক, তাঁর বিকল্প ভাবনার জন্য বাড়ির সামনে গুলি খেয়ে শুধু মারাই যাচ্ছেন না, সেই মৃত্যুর জন্য প্রকাশ্যে উল্লাস ব্যক্ত করছেন অনেকেই৷ ডিজিট্যাল দেশের ভেতরও প্রকট মধ্যযুগের হাওয়া৷

এদিকে একমাস হয়ে গেল উত্তরবঙ্গ সহ দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল রেল যোগাযোগে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন৷ উৎসবে বহু মানুষের ঘরে ফেরা, বাইরে যাওয়া, আশা নিরাশার হাওয়ায় দুলছে৷

বন্যার জল সরে গিয়ে একটু একটু করে তবু জেগে উঠছে উৎসব, আমার শহর, তোমার শহর সাজছে হোর্ডিং আর তোরণে, খানাখন্দ আর টোটোয় ভরা রাস্তাগুলো মেরামত হচ্ছে, চারদিকে জমকালো নিয়ন আলো৷ কিন্তু তারপরেও কিছু অঞ্চলে আজও জ্বলেনি আলো/ কিছু রাস্তায় তাই সাজেনি তোরণ/ কিছু মানুষ আজও অগোছালো/ জল দিয়ে গেছে রক্তক্ষরণ৷

৯/০৯/২০১৭

#PrintEdition #ThirdEye #DebrajRoychaudhuri

1
রাতে 'কুপিয়ে' খুন হলেন দু’জন, মোতায়েন বিশাল পুলিশবাহিনী

Popular News

776

2
কফিনবন্দি দেহ ফিরল মালদায়, স্যালুট জানিয়ে শেষ শ্রদ্ধা পুলিশের

Popular News

889

3
গঙ্গায় মিশে যেতে পারে ফুলহর, বাজছে বিপদ ঘণ্টা

Popular News

849

4
আত্মীয়ের বাড়িতে এসে গ্রেফতার বাংলাদেশি

Popular News

1325

5
বাংলাদেশে পণ্য পাঠানো বন্ধ করে দিলেন মহদীপুরের এক্সপোর্টার্সরা

Popular News

897

পপুলার

বিজ্ঞাপন

টাটকা আপডেট
 

aamadermalda.in

আমাদের মালদা

সাবস্ক্রিপশন

যোগাযোগ

স্বত্ব © ২০২০ আমাদের মালদা

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • YouTube
  • Pinterest
  • RSS