একটি কাল্পনিক পুজো পরিক্রমা- থিমে ঘেরা ড্রিম

একটি কাল্পনিক পুজো পরিক্রমা- থিমে ঘেরা ড্রিম


ভেতরটা কী দারুণ ঠান্ডা, কটা এসি চলছে কে জানে! যাবতীয় দৃশ্যাবলী যেন ক্লাস ফাইভ বা সিক্সের ভূগোল বই থেকে উঠে এসেছে৷ চারদিকে ধবধবে সাদা বরফ (বরফগুলো আসল? নাকি অন্য কিছু দিয়ে তৈরি!) তার মাঝখানে কয়েকটা ওলটানো বাটির মতো ইগলু আর ইতস্তত লোমশ কম্বলে মাথা থেকে পা অবধি ঢাকা এস্কিমো! এছাড়া বলগা হরিণ স্লেজ গাড়ি সবই আছে আর অবশ্যই মধ্যমণি হয়ে ছেলেমেয়ে বাহন আর অসুর সমেত দেবী দুর্গা! তাদের পরিধানে অবশ্য কোনো শীত পোশাক নেই হয়তো এই কারণে যে তাঁরা বাকি সময়টা হিমালয়ের বরফ রাজ্যেই বাস করেন৷ তো সেখান থেকে তারা সোজা মেরু প্রদেশে, এস্কিমোদের দেশে৷ আবহে এক অশ্রুতপূর্ব শব্দ, আশেপাশের হাঁ হয়ে থাকা জনগণের কেউ বলছে সেটা পেঙ্গুইনের ডাক কারও মতে সেটা এস্কিমোদের গান!


কয়েক বছর আগে এক বিগ বি (বড়ো বাজেট) পুজোয় এমনই থিমের দাপটে পুলিশ প্রশাসন সব হিমসিম৷ এয়ার কনডিশনড মণ্ডপ দেখতে একেবারে জন জঙ্গল৷ এত কসরত করে ভেতরে ঢুকতে হচ্ছে কিন্তু সব্বাই বলছে... একদম সত্যিকারের... যেন সবাই উত্তর কী দক্ষিণ মেরুতে (কোন মেরুতে যেন এস্কিমোরা থাকে?) গিয়ে চাক্ষুষ করে এসেছে আসল এস্কিমো! আমার সঙ্গী বালুর মানে বালকৃষ্ণণের প্রাথমিক বিস্ময় বোধটা দেখলাম কেমন যেন বিপন্নতায় বদলে গেল৷ বালু তামিল ব্রাহ্মণ, চার বছর একসাথে এক হস্টেলে কাটিয়েছি সেবার পুজোর আগে ও এসেছিল কলকাতায়৷ বাঙালির দুর্গাপুজো নিয়ে শুনেছে প্রচুর কিন্তু দেখেনি কোনোদিন, তাই দু’জনে মিলে ষষ্ঠীর দিন বেড়িয়েছিলাম৷ এমনিতেই হিন্দুদেবীর পবিত্র উপাসনাস্থলের কয়েক হাতের মধ্যেই বিভিন্ন স্টলে রোল, মোগলাই, বিরিয়ানি, চাউমিন, চিকেন চাপ ইত্যাদির চাপ হজম করতে পারেনি৷ ওর নিরামিষ হৃদয় তার উপর এই এস্কিমো-ইগলু ইত্যাদি আর সহ্য করতে পারেনি বেচারা৷ থিমের ব্যাপারে নিতান্তই অজ্ঞ সে, ওর মাথায় দুর্গা বলতে সেই চিরন্তন মিথ৷

এস্কিমোদের আধঘণ্টা দূরেই পেয়ে গেলাম ‘সাক্ষরতা’, সেখান থেকে ‘পরিবেশ’ হয়ে জুরাসিক পার্কে যখন পৌঁছালাম তখন বালু রীতিমতো হাঁপাচ্ছে৷ ওকে বোঝানোর চেষ্টা করি চিরকালই বাঙালি থেকেছে মাছে ভাতে আর ভাবনাতে৷ থিম ব্যাপারটা আমাদের সেই নিজস্ব ভাবনার ফসল৷ সেখানেই তো রয়েছে প্রকৃত ক্রিয়েটিভিটি, আসল শিল্প৷

আমার থিম থিয়োরিতে বিশেষ আশ্বস্ত হয় না বালু৷ দেবী দুর্গার আরাধনার সাথে এস্কিমোদের কী মিল, তার থই পায় না ওর তামিল মস্তিষ্ক! পুজো-আচ্চার সঙ্গে পরিবেশ, সাক্ষরতা, ইতিহাস, ভূগোল এত গোলমাল মেনে নিতে নিতান্তই অপারগ সে৷ বাঙালি ক্রিয়েটিভিটি একদমই ক্যাপচার করতে পারে না তাকে৷ বালু ক্যাপ্টিভ থেকে যায় সাবেকি ধ্যানধারণায়৷

এই পর্যন্ত নয় তাও চলছিল এরপর বালু আচমকা এক ক্লাব কর্মকর্তাকে এইসব থিমটিমের ব্যাপারে কী সব প্রশ্ন করে বসলো৷ ষষ্ঠীর রাতে সে ভদ্রলোক ঈষৎ টলোমলো ছিলেন তো তিনি থিম নিয়ে যা বললেন তাতে বালু তো কোন ছাড় আমিও কেমন ঝিম মেরে গেলাম৷ তাঁর মতে, থিম না থাকলে নাকি থেমে যেত অনেক বড়ো পুজোই কারণ মন্দির মহল বা কেল্লা কম পড়ছিল, মানে সেই মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী, আমেদাবাদের অক্ষরধাম, দিল্লির লোটাস, কোনারকের সূর্য আর অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির৷ এছাড়া জয়পুরের হাওয়ামহল, হায়দরাবাদের চারমিনার কী সেই চিরকালীন তাজ এমন দু-তিনটে স্থাপত্য৷ আর কেল্লা বলতে তো মাত্র তিনটে... গোলকুণ্ডা, সোনার কেল্লা আর লাল কেল্লা৷ অবশ্য বাইরের আঙ্করভাট কী হোয়াইট হাউস ইত্যাদি হয় তবু এই লিমিটেড রিসোর্স দিয়ে আর টানা যাচ্ছিল না৷ এদিকে পাবলিক চাঁদা দিয়েই চাপ দেয় নতুন কিছু করার জন্য৷ এমনি একটা পরিস্থিতিতে কোনো এক বাঙালির ড্রিমে থিম এসে বাঁচিয়ে দিল পুজো কমিটিগুলোকে৷

ফেরার পথে বালুকে জিজ্ঞেস করলাম কেমন লাগল বাঙালির পুজো? ক্লান্ত বিধ্বস্ত বালু অস্ফুটে যা বলল আমার মনে হল হরিবোল, হয়তো সে বলতে চেয়েছিল হরিবল্ ...

স্কেচঃ মৃণাল শীল

#PrintEdition #DebrajRoychaudhuri

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.