অগ্নিদ্বগ্ধ গৃহবধূ, গ্রেফতার স্বামী সহ শ্বশুর-শাশুড়ি

অগ্নিদ্বগ্ধ গৃহবধূ, গ্রেফতার স্বামী সহ শ্বশুর-শাশুড়ি

এক গৃহবধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে৷ এই ঘটনায় এদিন পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত বধূর বাবা৷ এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷ ঘটনাটি ঘটেছে গাজোল থানার বাবুপুর গ্রামে৷



মৃত বধূর নাম বন্দনা রায় (মণ্ডল)৷ বয়স ২৮ বছর৷ বাবার বাড়ি গাজোল থানার চিৎকোল গ্রামে৷ বাবা সুশান্ত রায় পেশায় দিনমজুর৷ বাবুপুর গ্রামের বিনয় মণ্ডলের সঙ্গে ৯ বছর আগে দেখাশোনা করে তাঁর বিয়ে হয়৷ পেশায় শ্রমিক বিনয়৷ বছরের বেশিরভাগ সময় সে কেরালায় থাকে৷ তাঁদের ৮ বছরের ও ৫ বছরের দুটি মেয়ে রয়েছে৷

সুশান্তবাবুর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ কারণে তাঁর মেয়ের উপর অত্যাচার চালাত বিনয় ও তার বাবা-মা৷ কিছুদিন পর থেকে শুরু হয় বাবার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার চাপ৷ কখনও ১ লক্ষ, কখনও বা ২ লক্ষ টাকা নিয়ে আসার জন্য তাঁর মেয়েকে চাপ দিত বিনয় ও তার বাবা-মা৷ এনিয়ে মেয়ের সংসারে অশান্তি লেগেই ছিল৷ তবুও নিজের ও দুই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মেয়ে মুখ বুজে সমস্ত অত্যাচার সহ্য করত৷ গতকাল সন্ধেতেও বিনয় ও তার বাড়ির লোকজন তাঁর মেয়েকে বেধড়ক মারধর করে বলে তিনি জানতে পেরেছেন৷ রাত ১০টা নাগাদ তিনি খবর পান, তাঁর মেয়ে গায়ে আগুন দিয়েছে৷ খবর পেয়েই তিনি তড়িঘড়ি বাবুপুর গ্রামে ছুটে যান৷ দেখেন, মেয়ে অগ্নিদ্বগ্ধ অবস্থায় ঘরে পড়ে রয়েছে৷ বিনয় কিংবা তার বাবা-মা সেখানে নেই৷ গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে বন্দনাকে গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ বিনয় ও তার বাবা-মায়ের প্ররোচনাতেই তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে৷ তাই তিনি বিনয়, তার বাবা যোগেশ মণ্ডল ও মা শোভারানি মণ্ডলের কঠোর শাস্তি দাবি করছেন৷

এদিকে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, দিন কয়েক আগেই বিনয় কেরালা থেকে গ্রামে ফিরে এসেছে৷ সে নাকি আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করার চেষ্টায় ছিল৷ এনিয়ে বিনয়ের সঙ্গে তার স্ত্রীর অশান্তি শুরু হয়েছিল৷ গতকাল সন্ধেয় বন্দনা পাশে বাগানে গিয়ে কাঁদছিল৷ তা দেখে গ্রামের কয়েকজন মহিলা সেখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন৷ সেখানে তাঁরা বিনয়কেও ডাকেন৷ কিন্তু তখন বিনয় ও তার বাবা মদ্যপ অবস্থায় ছিল৷ রাতে তাঁরা বন্দনার গায়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন৷ তাঁরাই দিয়ে তার গায়ের আগুন নেভান৷ সেই সময় বিনয়রা পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও বন্দনার শরীরের আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেনি৷ তাঁরা নিশ্চিত, বিনয়রাই বন্দনার গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে৷

এদিন সকালে সুশান্তবাবু অভিযোগ দায়ের করার পরেই গাজোল থানার পুলিশ বিনয় ও তার বাবা-মাকে গ্রেফতার করেছে৷ ধৃতদের এদিনই জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে৷ আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তিনজনকেই ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য দায়রা বিচারক৷

প্রতীকী ছবি সৌজন্যে পিক্স অ্যাবে।

#Crime #DigitalDesk

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.