বিজ্ঞাপন

বিয়ের দিন সকালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা পাত্রের

গলায় গামছা জড়ানো অবস্থায় শোওয়ার ঘর থেকে বিয়ের দিন সকালে পাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার হল হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কনুয়া ভবানীপুর গ্রামে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে৷ এই ঘটনায় পুলিশ একটি অস্বাভবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে৷ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গ্রামে।


সম্প্রতি মোহনের বিয়ে ঠিক হয় চাঁচল থানার মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি গ্রামে৷ ওই গ্রামের এক যুবতির সঙ্গে দিন দশেক আগে তাঁর রেজিস্ট্রি বিয়েও হয়ে যায়৷ দেখাশোনা করেই সেই বিয়ে ঠিক হয়েছিল৷ এদিন ছিল বিয়ের দিন৷ গতকাল গায়েহলুদ থেকে শুরু করে আইবুড়ো ভাত খাওয়া পর্যন্ত সমস্ত রীতি পালন করা হয়েছিল৷ পেশায় কৃষক ছিলেন পাত্র মোহন৷ কনুয়া ভবানীপুর গ্রামে দাদুর বাড়িতেই বড়ো হয়েছিলেন ২৬ বছরের মোহন সরকার ৷ তাঁর বাবা-মা’ও কনুয়া ভবানীপুর গ্রামে থাকতেন৷ বাবা, তপন সরকার স্ত্রী শেফালিদেবী সহ ছেলেমেয়েদের নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন৷ তাঁদের আসল বাড়ি চাঁচল থানার বীরস্থল গ্রামে৷



পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে সমস্ত অনুষ্ঠানের পর প্রতিদিনের মতো মোহন দাদুর সঙ্গে একই ঘরে ঘুমোতে যায়৷ ভোরে দাদু জ্যোতিষ মণ্ডল বাথরুমে যান৷ বাথরুম থেকে বেরিয়ে তিনি দেখেন, ঘরের দরজা বন্ধ৷ অনেক ডাকাডাকি করার পরেও মোহন দরজা না খোলায় পরিবারের সবার সন্দেহ হয়৷ এরপর দরজা ভেঙে দেখা যায়, ঘরে ফ্যান লাগানোর হুকে গলায় গামছা জড়ানো অবস্থায় মোহনের দেহ ঝুলছে৷ সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির লোকজন হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় খবর দেন৷ খবর পেয়ে সকালে মোহনের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷ পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেলে পাঠানো হয়৷

মেয়েটার জন্যই মোহন আত্মহত্যা করেছে৷ বললেন, মোহনদের এক আত্মীয় নিত্যানন্দ মণ্ডল। এই ঘটনায় তিনি সরাসরি পাত্রীকে দায়ী করে বলেন, গতকাল রাতে ওই মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে মোহন৷ তারপরেই সে আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়৷ দু’দিন আগেও ওই মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে আকণ্ঠ মদ্যপান করেছিল সে৷ প্রথমবার মদ্যপান করে সে অসুস্থও হয়ে যায়৷ তাঁরা ওষুধ দিয়ে তাকে সুস্থ করেন৷ তাঁরা শুনেছেন, এদিনই মেয়েটির সঙ্গে অন্য এক ছেলের বিয়ে হচ্ছে৷ তাই তাঁরা নিশ্চিত, মোহনের আত্মহত্যার পিছনে ওই মেয়েটির মদত রয়েছে৷ এনিয়ে তাঁরা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করবেন৷ মোহনের এক বন্ধু জীবনভদ্র মণ্ডলও একই সন্দেহ করছেন৷ তিনি বলেন, গতকাল রাত পৌনে ১১টায় হবু পত্নীর সঙ্গে শেষ কথা হয়৷ তারপরেই সে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়৷ তাঁরা শুনেছেন, ওই মেয়েটির সঙ্গে অন্য একটি ছেলের সম্পর্ক রয়েছে৷ সেই কারণেই তাঁর বন্ধু নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়৷ একই বক্তব্য মোহনের তুতো ভাই মানিক দাসেরও৷ তিনি বলেন, এদিন ভোরে বাড়িতে ব্যান্ডপার্টি চলে এসেছিল৷ চলে এসেছিল রান্না করার লোকজনও৷ তখনই তাঁর দাদার আত্মহত্যার খবর জানা যায়৷ এনিয়ে আর তাঁদের কিছু বলার নেই৷ তাঁর দাদাকে খুনে প্ররোচনা দিয়েছে হবু বউদি৷ এনিয়ে তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন৷

আপাতত পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছেন৷ হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জীব বিশ্বাস জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে৷ তবে প্রাথমিকভাবে তাঁদের অনুমান, মানসিক অবসাদেই এই ঘটনা ঘটেছে৷ ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনও অভিযোগ দায়ের হলে তাঁরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন৷

ভিডিয়োঃ কৃতাঙ্ক

Tags:

30 views

বিজ্ঞাপন

MGH.jpg
পপুলার
1

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মালদায় মৃত ১৬

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মালদায় মৃত ১৬
2

চোরাই মোবাইল পাচারচক্রের হদিশ, ধৃত তিন

চোরাই মোবাইল পাচারচক্রের হদিশ, ধৃত তিন
3

সরানো হল মালদা সদর মহকুমাশাসককে

সরানো হল মালদা সদর মহকুমাশাসককে
4

কেন ইংলিশবাজার? নাম পরিবর্তনের ইচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর

কেন ইংলিশবাজার? নাম পরিবর্তনের ইচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর
5

ইংরেজবাজারে উদ্ধার মানুষের মাথার খুলি

ইংরেজবাজারে উদ্ধার মানুষের মাথার খুলি
Earnbounty_300_250_0208.jpg