মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়রদের হাতে আক্রান্ত সিনিয়র চিকিৎসক

মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়রদের হাতে আক্রান্ত সিনিয়র চিকিৎসক



বেশ কিছুদিন ধরেই মালদা মেডিক্যাল কলেজে জুনিয়র রাজ কায়েম হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। অভিযোগ উঠছিল, মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকরা অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কোনও গুরুত্বই দেন না। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনও উপেক্ষা করেন তাঁরা।

তার প্রত্যক্ষ উদাহরণ পেয়েছেন মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসক আকতারুজ্জামান। মেডিক্যাল চত্বরেই জুনিয়রদের হাতে আক্রান্ত হন তিনি। এই ঘটনায় আক্রান্ত চিকিৎসক চার জুনিয়রের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার স্থানীয় ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগ দায়ের করেছেন মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছেও। অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্তের জন্য চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন মালদা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ। গোটা ঘটনায় স্তম্ভিত শিক্ষা মহল। তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও মেডিক্যালের জুনিয়র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের আক্রমণ করার অভিযোগ উঠেছিল।

রোগীর পরিবারের লোকজনকে বলে দেন, পুরোনো প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রোগীকে ওষুধ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রোগীকে যেন তাঁদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো হয়। এই ঘটনায় ঘাবড়ে যান রোগীর বাড়ির লোকজন।

মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল আকতারুজ্জামান সাহেব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীকে পরীক্ষা করে কিছু ওষুধ লিখে দেন। পরে সেই রোগীকে দেখতে যান জুনিয়ররা। তাঁরা আকতারুজ্জামান সাহেবের প্রেসক্রিপশন উপেক্ষা করে নতুন প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। রোগীর পরিবারের লোকজনকে বলে দেন, পুরোনো প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রোগীকে ওষুধ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রোগীকে যেন তাঁদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো হয়। এই ঘটনায় ঘাবড়ে যান রোগীর বাড়ির লোকজন। তাঁরা ছুটে যান আকতারুজ্জামান সাহেবের কাছে। সব দেখেশুনে স্তম্ভিত হয়ে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওই জুনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কেন তাঁর প্রেসক্রিপশন বাতিল করা হল এবং সেই ক্ষমতা জুনিয়রদের আছে কিনা তা তাঁদের কাছে জানতে চান। তাঁর অভিযোগ, এরপরেই জুনিয়ররা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। তিনি তাঁদের মেডিক্যালের সহকারী অধ্যক্ষের ঘরে যেতে বলেন। এরপর তিনি যখন সহকারী অধ্যক্ষের ঘরে যাচ্ছিলেন, তখন মাঝপথে চার জুনিয়র সহ কয়েকজন বহিরাগত তাঁর সঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু করে। তারপরেই তারা তাঁর উপর হামলা চালায়। তাঁকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়। সেই সময় কয়েকজন হাসপাতাল কর্মীর হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান। এরপরেই তিনি গোটা ঘটনা জানিয়ে সহকারী অধ্যক্ষের কাছে একজন হাউস স্টাফ ও তিনজন জুনিয়র চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিন তিনি ওই চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশেও অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আকতারুজ্জামান সাহেব চার বছর আগে মালদা মেডিক্যাল কলেজে কাজে যোগ দেন। তাঁর বাড়ি পুরাতন মালদার সাহাপুর এলাকায়। বর্তমানে শহরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন মেডিক্যালের সহকারী অধ্যক্ষ অমিত দাঁ। তিনি এই ঘটনায় ইতিমধ্যে চারজনের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটিতে রয়েছেন হাসপাতালের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের প্রধান, হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ও হস্টেল সুপার। ওই কমিটিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পেটানোর অভিযোগ উঠেছিল। রোগীর পরিবারকেও শারীরিক নিগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে আগে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ কিন্তু জুনিয়রদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল। যা অবাক করেছিল সবাইকে। এবার একজন সিনিয়র চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ার পর মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

#Medical #DigitalDesk

হেডলাইন

প্রতিবেদন

মহানন্দার উজান স্রোতে ভবানীপুরে অশনির ঘণ্টা বাজছে

ফি বছর বর্ষায় বেড়ে যায় মহানন্দার জলস্তর। স্রোতের আওয়াজ ঘুমন্ত গ্রামবাসীদের কানের পর্দায় যেন ধাক্কা দেয়৷ এবারও বেড়েছে মহানন্দার জল৷ খানিকটা..

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.