সরস্বতী শুধু ভারতে নয়, পূজিত হন চিনে, জাপানেও

সরস্বতী শুধু ভারতে নয়, পূজিত হন চিনে, জাপানেও

সরস্বতী শব্দের ব্যুৎপত্তি হল, সরস + বতুপ + স্ত্রীপ (স্ত্রীলিঙ্গে)। সরস শব্দের অর্থ হল তড়াপ, জলাশয় ইত্যাদি। এ থেকে বোঝা যায়— আর্যরা এদেশে এসে সিন্ধু নদের তীরে বসবাসকালে কৃষির প্রধান ভরসা বা আশ্রয়স্থল হিসাবে সরস্বতীকে দেবী জ্ঞানে পূজা করত। তাই প্রথম দিকে তাঁকে কৃষির দেবতা হিসাবে যে গণ্য করা হত সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকে না। যাই হোক, শাস্ত্রে আমরা অনেকরকম সরস্বতীর পরিচয় পাই।


সরস্বতী চিনে তিয়েন-মু, জাপানে বেনতেন নামে পরিচিত

মহা সরস্বতী— কালিকাপুরাণ ও শ্রীশ্রী চন্ডীতে এই দেবী অষ্টভুজা শ্বেত-পদ্মাসনা ও বীণাবাদনরতা। ইনি মহাকালী, মহালক্ষ্মী ও মহাসরস্বতীর মিলিত এক রূপ। অষ্টভুজা এই দেবী শ্বেত-পদ্মাসনা ও বীণাবাদনরতা। ঘণ্টা, ত্রিশূল, লাঙ্গলের ফলা, শাঁখ, মুষল, চাকতি, ধনুক ও তীর (শর) তাঁর হাতে ধরা। শারদ পূর্ণিমার চন্দ্রর মতো তাঁর দীপ্তি। গৌরীর শরীর থেকে তাঁর জন্ম এবং তিনি শুম্ভ ইত্যাদি অসুরদের বধকারিণী। তিনি সত্যগুণের প্রতীক। জীবকে পরাবিদ্যা দান করেন।

বজ্র সরস্বতী— সরস্বতীর আরেকটি রূপ। বজ্রসরস্বতী রক্তবর্ণা, ত্রিমস্তকযুক্ত, ষড়ভুজা, নীল ও সাদা রঙের তিনটি মুখ। পালযুগের একটি বীণাবাদিনী সরস্বতীর মূর্তি পাওয়া গেছে যেটি বৌদ্ধ সরস্বতীর একটি উৎকৃষ্ট নিদর্শন। এছাড়া পাত্র ও পদ্ম হাতে নালন্দার ব্রোঞ্জের মুর্তিটিও খুবই উল্লেখযোগ্য, এটি নবম শতাব্দীর তৈরি। বিদ্যার দেবী সরস্বতী জৈনদেরও একজন প্রধান দেবী। জৈনরা সরস্বতীকে শ্রুতদেবী নামে অভিহিত করেছেন। মথুরার কঙ্কালটিলায় একটি মস্তকবিহীন (ভাঙ্গা) জৈন দেবী সরস্বতীর একটি মূর্তি পাওয়া গেছে। হিন্দু ধর্মের গণ্ডি অতিক্রম করে দেবী সরস্বতী বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মেও প্রবেশ করেছেন, কিন্তু সব ধর্মেই সরস্বতীকে বিদ্যার দেবী রূপেই দেখা যায়।

মহা বিদ্যা নীল সরস্বতী— এই দেবী মহাবিদ্যা তারার আর এক রূপ। কথিত আছে— বিদ্যাবতীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বনের মধ্যে এক জলাশয়ে কালিদাস যখন প্রাণ বিসর্জন দিতে যান তখন নীল সরস্বতী আবির্ভূত হয়ে তাঁকে আত্মহত্যায় নিরস্ত্র করেন। এরপর কালিদাসের প্রার্থনায় তুষ্ট হয়ে তিনি কালিদাসের জিহ্বার অগ্রভাগে সদা বিরাজ করতে থাকেন। এরই ফলে মূর্খ কালিদাস হয়ে ওঠেন মহাপণ্ডিত।

আমরা দেবী সরস্বতীর যে মূর্তি দেখি, তা হল দেবী শ্বেতবসনা, এক হাতে বীণা, অন্য হাতে বরাভয় মুদ্রা, দেবীর বাহন রাজহাঁস। ইনি ব্রহ্মার মুখ থেকে জন্মান। কিন্তু অনন্যসাধারণ সৌন্দর্যের অধিকারিণী এই দেবীকে দর্শনমাত্রই ব্রহ্মা তাঁর রূপে মোহিত হন ও তাঁকে বিবাহ করেন। স্বল্পালংকারা এই দেবী ত্রিভুবনের জ্ঞানদাত্রী। তাঁর চার হাত মন, বুদ্ধি, সচেতনতা ও অহমের দ্যোতক। অন্যভাবে বলা যায় তাঁর চার হাত চার বেদের প্রকাশক। এখানে বেদ বলতে তিন প্রকার সাহিত্য— গদ্য, পদ্য ও সঙ্গীতকে বোঝানো হয়েছে। তাই তাঁর হাতের পুস্তক (পবিত্র বেদ)— বিশ্বজনীন, স্বর্গীয় ও পরমসত্যের আধার। অক্ষসূত্রের মালা— ধ্যান ও আধ্যাত্মিক শক্তির প্রকাশক। কাঁখে পবিত্র জলের ঘট— সৃষ্টি ও পবিত্র শক্তির প্রতীক। আর বীণা— কলা ও বিজ্ঞান জ্ঞানের প্রতীক।


সরস্বতী চিনে তিয়েন-মু, জাপানে বেনতেন নামে পরিচিত

পূর্ব ভারতে মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমীতে এই দেবীর পূজা হয়। আর দক্ষিণ ভারতে শরৎকালে নবরাত্রিতে তিনি পূজিত হন। সাহিত্য ও কলাবিদ্যার দেবী বলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাবে ধুমধাম করে তাঁর পূজা করা হয়। চিনে সরস্বতী ‘তিয়েন-মু’ নামে ও জাপানে সরস্বতী ‘বেনতেন’ নামে পরিচিত। তিব্বতে যেসব সরস্বতীর নিদর্শন পাওয়া গেছে তার অধিকাংশ দেখা গেছে দেবী ময়ূরবাহনা। রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ মিউজিয়ামেও একটি সরস্বতী মূর্তি পাওয়া গেছে, মায়ানমারে ত্রিপিটক রক্ষার দেবী হলেন সরস্বতী।

বিভিন্ন পুরাণগ্রন্থে সরস্বতীর উৎস সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে। পদ্মপুরাণে সরস্বতীকে দক্ষকন্যা এবং কশ্যপ-পত্নী হিসাবে পাওয়া যায়। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে সরস্বতী বিষ্ণু বা নারায়ণের পত্নী। কিন্তু পদ্মপুরাণে তিনি কশ্যপ মুণির পত্নী। শিবপুরাণ আর স্কন্ধপুরাণ মতে সরস্বতী আবার শিবেরও পত্নী। ঋগ্বেদ-পরবর্তী হিন্দু শাস্ত্র আলোচনায় সরস্বতী ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর এই ত্রিদেব-এর পত্নী রূপে বর্ণিত হলেও, অধিক প্রচলিত মতে তিনি নারায়ণ-পত্নী। আবার কোনও কোনও আলোচনায় দেখা যায়, বিষ্ণু অর্থাৎ নারায়ণের তিন স্ত্রী, গঙ্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতী। বিহারীলাল চক্রবর্তী সারদামঙ্গল কাব্যে লিখেছেন, ‘তুমি লক্ষ্মী-সরস্বতী আমি ব্রহ্মাণ্ডের পতি। হোক গে বসুমতী, যার খুশি তার’। কিন্তু গঙ্গা এবং বিদ্যাবত্তার কারণে সরস্বতী নারায়ণের হৃদয় জয় করতে অসমর্থ হলে বিষ্ণু তাঁদের দু’জনকে যথাক্রমে মহাদেব ও ব্রহ্মাকে দান করে দেন।

বিজ্ঞাপন

হেডলাইন

প্রতিবেদন

রাতভর বিনিদ্র হাট

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ছড়াটি মনে আছে তো? ‘হাট বসেছে শুক্রবারে, বকসিগঞ্জের পদ্মা পাড়ে৷ জিনিসপত্র জুটিয়ে এনে, গ্রামের মানুষ বেচে কেনে’...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
পপুলার

ছয় হাজার লিটার স্যানিটাইজার তৈরি করল এক স্বনির্ভর গোষ্ঠী

জেলাপ্রশাসনের উদ্যোগে স্যানিটাইজার তৈরির প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখলেন জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র। শনিবার দুপুরে ইংরেজবাজার ব্লকের কোতোয়ালি গ্রাম...

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

বিজ্ঞাপন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.