প্রতিশোধের আগুনে চিকিৎসিককে কুপিয়ে খুন

প্রতিশোধের আগুনে চিকিৎসককে কুপিয়ে খুন


সন্দেহের বশে প্রতিহিংসার আগুন কতটা ভয়ানক হতে পারে তার প্রমাণ পেয়েছেন কালিয়াচকের মোসিমপুরের বাসিন্দারা। শুধুমাত্র সন্দেহের জেরেই বাবা ও ছেলে কুপিয়ে খুন করল এক চিকিৎসককে। শনিবার রাতে মোসিমপুরের চিকিৎসক খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অবশ্য অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। কিন্তু জনরোষে ছাই হয়ে গিয়েছে অভিযুক্তদের বাড়ি।

শনিবার রাতে মোসিমপুর গ্রামে নিজের চেম্বারে খুন হন সেখানকার হাতুড়ে চিকিৎসিক ওবায়েদুল্লা শেখ। বছর আঠাশের ওবায়েদুল্লা রাতবিরেতে ছিলেন গ্রামবাসীদের একমাত্র ভরসার জায়গা। প্রথম অবস্থায় তাঁকে কে বা কারা খুন করল, কেন করল তা বুঝতে পারেননি গ্রামবাসীরা। বুঝতে পারেনি পুলিশও। যখন সেই ঘটনা সামনে আসে, তখন জনতার রোষ পৌঁছোয় চরম পর্যায়ে। এরপরেই অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় তাদের বাড়িতে।


এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে মোসিমপুরেরই মিজামুদ্দিন শেখ ও তার ছেলে বাবর আলির। খুনের পিছনের কারণ জানলে আঁতকে উঠবেন যে কেউ। কী হয়েছিল? এই প্রশ্নে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিজামুদ্দিন পেশায় শ্রমিক। বেশিরভাগ সময় ভিনরাজ্যে থাকে সে। গত মে মাসে দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হন নিজামুদ্দিনের স্ত্রী তাজমিরা বিবি। নিজামুদ্দিন স্ত্রীকে ওবায়েদুল্লা সাহেবের কাছে নিয়ে যায়। কিছুদিন তাজমিরার চিকিৎসাও করেন ওবায়েদুল্লা। কিন্তু তাজমিরার শারীরিক পরিস্থিতি দেখে তিনি তাঁকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। যদিও তাঁর পরামর্শ না মেনে স্ত্রীকে ওবায়েদুল্লা সাহেবের কাছেই চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে থাকে নিজামুদ্দিন। একসময় ওবায়েদুল্লা সরাসরি জানিয়ে দেন, তিনি তাজমিরার চিকিৎসা করতে পারবেন না। এরপর খানিকটা বাধ্য হয়েই স্ত্রীকে মালদা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায় নিজামুদ্দিন। কিন্তু ভর্তি করার পরদিনই মৃত্যু হয় তাজমিরার। তখন থেকেই নিজামুদ্দিন এলাকায় বলতে শুরু করে, ওবায়েদুল্লাই তার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছে। সে এর প্রতিশোধ নেবে।

সেই প্রতিশোধের আগুনেই শনিবার রাতে নিজামুদ্দিন, ছেলে বাবরকে সঙ্গে নিয়ে ওবায়েদুল্লা সাহেবের চেম্বারে যায়। সুযোগ বুঝে প্রথমে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলি করে ও পরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। গ্রামবাসীর চিকিৎসকের চিৎকারে ছুটে একে বাবা-ছেলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এখনও তারা পলাতক।

ওবায়েদুল্লাকে নিজামুদ্দিন ও বাবর খুন করেছে এমন খবর চাউর হতেই উত্তেজিত গ্রামবাসীরা তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িতে যথেচ্ছ ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, গোটা ঘটনায় পুলিশ ছিল নীরব দর্শক। অবশ্য সেই সময় উত্তেজিত কয়েক হাজার মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের পক্ষে কার্যত অসাধ্য ছিল।

এদিন গ্রামের বাসিন্দারা সকলেই এই ঘটনায় নিজামুদ্দিন ও বাবরের ফাঁসির দাবি তুলেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতারের আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। তারা দুজনেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

#Crime #DigitalDesk

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.