নিখোঁজ ছেলের খোঁজ দিল ফেসবুক

নিখোঁজ ছেলের খোঁজ দিল ফেসবুক



বর্তমান সমাজে নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলি। আর সেই সোশ্যাল সাইটের মাধ্যমে নিখোঁজ ছেলের মৃতদেহ খুঁজে পেলেন বাবা৷ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে মৃতের পরিবার পরিজন৷ পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় পুলিশি তদন্ত দাবি করা হয়েছে৷ গোটা ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রতুয়া থানার আটগামা সংলগ্ন পূর্ব কমলপুর গ্রামে৷

মৃতের নাম রবি সরকার৷ তার বাবা আশু সরকার পেশায় শ্রমিক৷ মা জোশিয়া সরকার সাধারণ গৃহবধূ৷ পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ বর্ষীয় রবি সামান্য মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিল৷ সেই প্রতিবন্ধকতার জন্য পড়াশোনা হয়নি তার৷ এমনকি কোনও কাজও করতে পারত না রবি৷ রবিরা দুই ভাই, এক বোন৷ সে বড়ো৷

আশুবাবুর এক বন্ধু বিজয় রায় জানান, প্রতিদিনের মতই গত বুধবার সন্ধেতেও রবি বাবার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিল। বাবা বাড়ি ফিরতেই সে বায়না ধরে, তাকে বিস্কুট কিনে দিতে হবে৷ ছেলেকে দোকানে নিয়ে গিয়ে বিস্কুট কিনে বাড়ি ফিরে আসেন৷ প্রায় প্রতিদিনই রবি প্রতিবেশীদের বাড়িতে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখতে যেত৷ বিস্কুট পাওয়ার পর সেদিনও সে টিভি দেখতে কারোর বাড়ি চলে যায়৷ কিন্তু রাত ৯টা বেজে গেলেও ছেলে বাড়ি না ফেরায় রবির খোঁজখবর শুরু করেন তার বাবা-মা৷ খোঁজ শুরু করেন তাঁরাও৷ কিন্তু সেই রাতে তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি৷ পরদিন সকালে তাঁরা গোটা ঘটনা জানিয়ে রতুয়া থানায় রবির নামে একটি মিসিং ডায়ারি করেন৷ পুলিশ আশ্বাস দেয় রবিকে খোঁজার জন্য তারা যথাসম্ভব চেষ্টা করবে৷ পুলিশের আশ্বাসে তাঁরাও বাড়ি ফিরে যান৷ কিন্তু রবির আর খোঁজ মেলেনি৷

অবশেষে গতকাল সকালে গ্রামের একটি ছেলে আশুবাবুকে জানায়, ফেসবুকের মাধ্যমে সে জানতে পেরেছে, রবিকে মানিকচক থানার নাজিরপুর গ্রামে গঙ্গার ঘাটে পাওয়া গিয়েছে৷ সেই খবর পেয়েই তাঁরা মানিকচক থানায় ছুটে যান৷ সেখানে রবির মৃতদেহ শনাক্ত করেন তাঁরা৷ মানিকচক থানার পুলিশ রবির মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়৷ কিন্তু তাঁদের প্রশ্ন, রবির মতো মানসিক ভারসাম্যহীন একটি ছেলে রতুয়া থানা এলাকা থেকে মানিকচক থানা এলাকায় এল কীভাবে? সে রাস্তাঘাট সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল নয়৷ তবে কি এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও রহস্য আছে? তাঁদের অনুমান, রবিকে কেউ বা কারা রতুয়া থেকে মানিকচক নিয়ে এসেছিল৷ গোটা ঘটনা জানতে তাঁরা পূর্ণাঙ্গ পুলিশি তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন৷ এদিকে ছেলেকে হারিয়ে বাকরূদ্ধ হয়ে পড়েছেন আশুবাবু৷ কোনও কথা বলার ক্ষমতা নেই তাঁর৷ শুধু ছেলের ছবি হাতে অঝোরে কেঁদে চলেছেন তিনি৷

প্রতীকী ছবি সৌজন্যে পিক্স অ্যাবে।


হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.