পুলিশ শাসকদলের অস্ত্র, অভিযোগ রতুয়ায়



পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক মুহূর্তে শাসকদলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। রতুয়া থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। গতকাল রতুয়া ১ ব্লকের বালুপুর খোঁচখামার ও সালাবাদপুর গ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীদের বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগ ও বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে৷ সেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে এক কংগ্রেস প্রার্থীকেই গ্রেফতার করেছে রতুয়া থানার পুলিশ৷ এছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে বালুপুর খোঁচখামার গ্রামের ৪ জন সাধারণ নাগরিককেও৷ যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রতুয়া ১ ব্লকের চাঁদমুনি ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা রাজনৈতিক মহলে কংগ্রেসের ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত৷ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এই পঞ্চায়েত দখল করে কংগ্রেস ও বামেদের জোট৷ এবারে শাসকদলের বিজয় রথ প্রবেশ করতে চাইছে সেখানে। সেকারণেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর থেকেই এলাকার দখল নিতে শুরু করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা, এমনটাই অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আরও অভিযোগ, গতকাল সকাল থেকেই তাণ্ডব চলে তৃণমূলের সশস্ত্রবাহিনীর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য তারা চাঁদমুনি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর সংসদের কংগ্রেস প্রার্থী মাসিদুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালায়৷ বোমাবাজি ও বাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তারা ৯টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়৷ দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় ঘরবাড়ি৷ দুষ্কৃতীরা এখানেই না থেমে, ওই গ্রাম থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরের সালাবাদপুর গ্রামে পঞ্চায়েত সমিতির কংগ্রেস প্রার্থী মমতাজ বেগমের বাড়িতেও হামলা চালায়৷ বোমাবাজি ও বাড়ি ভাঙচুরের পর তারা মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য মমতাজ বেগমকে রীতিমতো হুমকি দেয় বলে অভিযোগ৷

এদিকে, গতকালের এই ঘটনার পর থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল থেকেই এলাকায় বসেছে পুলিশ পিকেট৷ রাতেই পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করে৷ ধৃতরা হলেন মোক্তার হোসেন, হাসান আলি, আকতার আলি, নইমুদ্দিন ও খোদ মাসিদুর রহমান৷ অভিযোগ, পুলিশ প্রথম ৪ জনকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে বয়ান নথিভূক্ত করার কথা বলে থানায় ডেকে নিয়ে যায়৷ থানায় পা দিতেই গ্রেফতার করা হয় তাঁদের৷

এদিন মাসিদুর সাহেব বলেন, পুলিশ গতকাল তাঁকে বলে, যেহেতু তাঁর বাড়িতে বোমাবাজি ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে, তাই তাঁকে একটি লিখিত অভিযোগপত্র থানায় জমা দিতে হবে৷ পুলিশের পরামর্শে তিনি থানায় যান৷ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়৷ তাঁরই বাড়ি পুড়ল, তাঁরাই বাড়ি থেকে বিতাড়িত হলেন, আর পুলিশ তাঁকেই গ্রেফতার করল৷ পুলিশের এই তদন্ত কোন দিকে ইঙ্গিত করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷

এই ঘটনায় সংবাদমাধ্যমকে কিছু জানাতে অস্বীকার করেছে রতুয়া থানার পুলিশ৷ তবে থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় আইনের ৪৪৮, ৪৩৬, ৪২৭, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে৷ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় অভিযোগকারী হলেন রতুয়া থানার এসআই শংকর সরকার৷

প্রতীকী ছবি সৌজন্যে পিক্স অ্যাবে।


1
রাতে 'কুপিয়ে' খুন হলেন দু’জন, মোতায়েন বিশাল পুলিশবাহিনী

Popular News

819

2
কফিনবন্দি দেহ ফিরল মালদায়, স্যালুট জানিয়ে শেষ শ্রদ্ধা পুলিশের

Popular News

905

3
গঙ্গায় মিশে যেতে পারে ফুলহর, বাজছে বিপদ ঘণ্টা

Popular News

862

4
আত্মীয়ের বাড়িতে এসে গ্রেফতার বাংলাদেশি

Popular News

1341

5
বাংলাদেশে পণ্য পাঠানো বন্ধ করে দিলেন মহদীপুরের এক্সপোর্টার্সরা

Popular News

908

পপুলার

বিজ্ঞাপন

টাটকা আপডেট
 

aamadermalda.in

আমাদের মালদা

সাবস্ক্রিপশন

যোগাযোগ

স্বত্ব © ২০২০ আমাদের মালদা

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • YouTube
  • Pinterest
  • RSS