স্ত্রীর পেটে লাথি, গর্ভস্থ সন্তানকে খুন করল স্বামী

স্ত্রীর পেটে লাথি, গর্ভস্থ সন্তানকে খুন করল স্বামী


অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভস্থ সন্তানকে খুন করল স্বামী৷ অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে হবিবপুর ব্লকের বৈদ্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাহিভিটা গ্রামে৷ এই ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত বধূর জ্যেঠু৷ তবে ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন৷ তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে হবিবপুর থানার পুলিশ৷

হবিবপুরের ইতিহাসপ্রসিদ্ধ গ্রাম জগজীবনপুর৷ মাহিভিটা গ্রামটি জগজীবনপুর সংলগ্ন৷ সেখানেই বাবার বাড়ি নিরুপমা বিশ্বাস হালদারের৷ বয়স মাত্র ১৯৷ একই গ্রামের যুবক সমর হালদারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল নিরুপমার৷ সমর সাটারিং মিস্ত্রির কাজ করে৷ তার বাবা মারা গিয়েছেন কয়েক বছর আগেই৷ বাড়িতে রয়েছেন মা দিপালী হালদার ও ২১ বছরের ভাই সরজিৎ৷ ভালোবেসেই এক বছর আগে নিরুপমাকে বিয়ে করে সমর৷ দুই বাড়ির লোকজনও এই বিয়ে মেনে নিয়েছিলেন৷ নিরুপমার বাবা অমিয় বিশ্বাস পেশায় ভিন রাজ্যের শ্রমিক৷ এখন তিনি বেঙ্গালুরুতে কর্মরত৷


বিয়ের পর গর্ভবতী হন নিরুপমা৷ ৬ মাস আগেই গর্ভধারণ করেন তিনি৷ কিন্তু সেই ঘটনাই তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে কাল হয়ে দাঁড়ায়৷ নিরুপমার মা সরস্বতী বিশ্বাসের অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে বিয়ের পর সমরের সঙ্গে পাশের আদিবাসীপাড়ার একটি মেয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে৷ এনিয়ে তাঁর মেয়ে-জামাইয়ের মধ্যে ঝামেলা চলছিলই৷ এরই মধ্যে গর্ভধারণ করে নিরুপমা৷ সেকথা শুনে সমর তাঁর মেয়েকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে তাকে৷ তার উদ্দেশ্য ছিল, ওই আদিবাসী মেয়েটিকে বিয়ে করা৷ কিন্তু নিরপমার সন্তান হলে সেই বিয়েতে সমস্যা হতে পারে ভেবেই সে তাঁর মেয়ের গর্ভপাত করাতে চায়৷ কিন্তু নিরুপমা গর্ভপাত করাতে অস্বীকার করে৷ প্রথম সন্তানকে সে কিছুতেই নষ্ট করতে চায়নি৷ এরপরেই শুরু হয় তাঁর মেয়ের উপর শারীরিক অত্যাচার৷ মারধরের পাশাপাশি তার সারা শরীরে বিড়ি-সিগারেটের ছ্যাঁকাও দিত সমর৷ অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে নিরুপমা বেশ কয়েকবার তাঁদের বাড়িতে চলে আসে৷ গত ১ অগাস্ট সে সমর, শাশুড়ি দিপালী ও দেওর সরজিতের বিরুদ্ধে হবিবপুর থানায় অভিযোগও দায়ের করে৷ যদিও গ্রামবাসীরা সালিশির মাধ্যমে সেই সমস্যা মিটিয়ে দেন৷ সমরও ভবিষ্যতে কখনও নিরুপমার উপর অত্যাচার করবে না বলে শপথ করে৷

নিরুপমার জ্যেঠু উকিল বিশ্বাস জানান, সালিশি সভায় সমর স্ত্রীর উপর অত্যাচার করবে না বলে কতা দিলেও গত রবিবার ফের সে নিরুপমাকে বেধড়ক মারধর করে৷ রাস্তায় ফেলে নিরুপমার পেটে লাথি মারতে থাকে সে৷ সেই দৃশ্য দেখে গ্রামবাসীরাই নিরুপমাকে উদ্ধার করেন৷ সোমবার নিরুপমাকে স্থানীয় বুলবুলচণ্ডী গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ পরে হাসপাতাল থেকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরেও যায় তাঁর ভাইঝি৷ কিন্তু গতকাল রাতে ফের তার উপর অত্যাচার শুরু করে সমর৷ লাথি ও মারের চোটে অজ্ঞান হয়ে যায় তাঁর ভাইঝি৷ রাত ১১টা নাগাদ তাঁরা নিরুপমাকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসেন৷ পরীক্ষা করেই চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, নিরুপমার গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে৷ মাঝরাতে অস্ত্রোপচার করা হয় তার৷ তার পেট থেকে তিনটি খণ্ডে গর্ভস্থ ভ্রুণ বের করেন চিকিৎসকরা৷ এই ঘটনায় তিনি হবিবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ তাঁরা সমরের কঠোর শাস্তি চান ৷

হবিবপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই পলাতক সমর ও তার বাড়ির লোকজন৷ অভিযুক্তদের খোঁজে জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে ৷ যেভাবেই হোক, তাদের গ্রেফতার করা হবে৷

#Crime #DigitalDesk

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.