পুরুষ দিবস

পল্টুদার মেজাজটা কদিন ধরেই খিঁচড়ে রয়েছে৷ অফিসে কাজের প্রচণ্ড চাপ, ফাইলের স্তূপ টেবিলের উপর থেকে উঁকি মারছে আর সেদিকে তাকালেই আরো ব্যাজার হয়ে যাচ্ছে পল্টুদা৷ তার মধ্যেই এ হপ্তাতেই নবান্ন থেকে বাবুরা আসবে অফিসে৷ তার জন্য উদয়াস্ত পরিশ্রম, সাজো সাজো রব৷ পুজোর ছুটিটা যে শেষ হয়ে গেছে, সেটা ভালোভাবে ঠাহর করার জন্য একটা মিনিমাম সময় তো দরকার৷ কালীপুজোর প্যান্ডেল খোলার পর ডেকোরেটর বাঁশগুলো পর্যন্ত এখনও নিয়ে যাওয়ার সময় পায়নি৷ আহ, কী ভাসানটাই না হল সেদিন, অতটা পথ নাচতে নাচতে যেতে গিয়ে পল্টুদার মাজায় সে কী ব্যথা৷ আপনাদের বউদিকে পরের দিন বাংলার পাঁচের মতন মুখ করে ভলিনি মালিশ করতে হয়েছিল৷ তবু মাইক বাজিয়ে নেচে গেয়ে ভাসান দেওয়ার আনন্দটাও বা কম কীসে? আসলে পাড়ার ছেলে ছোকরাদের কাছে পল্টুদার মিঠুন চক্রবর্তী স্টাইলের রেট্রো ড্যান্স এবার খুব হিট৷ এমনকি আশেপাশের পাড়ার ছেলেরাও খবর পেয়ে পল্টুদাকে ভাসানে ডেকে নিয়ে গেছিল৷ কে যেন আবার ইউটিউবে একটা ভিডিয়ো আপলোড করে দিয়েছে৷ লাইক পড়ছে পটাপট৷ এসব ভাবতে ভাবতেই পল্টুদার চোখ দুটো লেগে আসছিল, কম ধকল তো যায়নি কদিন৷ হঠাৎই বসের কেবিন থেকে সেই বাজখাঁই গলার হুংকার৷ দিলো মুডটা নষ্ট করে৷ এই লোকটা ট্যালেন্টের মূল্য কোনোদিন বুঝবে না৷ পল্টুদার ক্লান্ত চোখটা গিয়ে পড়ল নভেম্বরের ক্যালেন্ডারে আর গলার কাছে একটা দলাপাকানো কষ্ট ডুকরে উঠল৷ রবিবার ছাড়া কোনো লাল দাগ নেই আর গুরুনানক দিবসটাও শনিবার৷ লাল দাগের এই অগণতান্ত্রিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদে গর্জে উঠতে চাইল পল্টুদার মন—একটা বন্ধ যদি—নাহ থাক—বনধে আবার ব্রেক অফ সার্ভিসের নীল-সাদা খাঁড়া৷ মলিন মুখটা ক্যালেন্ডার থেকে সরিয়ে নিতেই পল্টুদার চোখাচোখি হয়ে গেল উল্টোদিকের টেবিলের হাস্যমুখী মল্লিকার সঙ্গে৷ বাচ্চা মেয়ে, জয়েন করেছে মাসখানেক হল আর কাজেও বেশ চটপটে৷ কিন্তু ওর এই দুষ্টু মিষ্টি হাসিটা এই বয়সেও পল্টুদার বুকের ভেতরটাকে কেমন যেন এলোমেলো করে দেয়৷ নিজেকে সামলে নিয়ে পল্টুদাও পালটা মুচকি হাসি দিয়ে ফাইলটা টানতে যাচ্ছিল, এমন সময় কথা বলল মল্লিকা৷ এ যাবৎ ওদের যোগাযোগ ওই হাসি-পালটা হাসিতেই সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু আজ মল্লিকা বলল, কী পল্টুদা, ছুটি চাই নাকি? চমকে উঠল পল্টুদা৷ খাস মনের কথাটা জানলো কী করে মেয়েটা? একটা দুষ্টু হাসি ঠোঁটে রেখে বলল, এ মাসের উনিশ তারিখ তো আপনাদের দিন, মানে পুরুষ দিবস৷ ধরে নিন ওটাই আপনার প্রাপ্য ছুটি৷ ক্যালেন্ডারে পাবেন না অবশ্য৷ একনাগাড়ে বলে দিয়ে কম্পিউটারে ডুবে গেল মল্লিকা৷ পল্টুদা তো কস্মিনকালেও এমন কোনো পুরুষ দিবসের কথা শোনেননি৷ আপনি শুনেছেন নাকি?


পুরুষ দিবস

না শোনাটাও দোষের নয় খুব একটা৷ পণ্ডিতরা যাকে ‘কালচার’ বলেন, মানে আমাদের পারিপার্শ্বিক জগৎ, জানা, পড়া, গান শোনা, বেড়ে ওঠায় পুরুষ দিবস কোথাও নেই৷ নিন্দুকেরা আবার বলে রোজই তো পুরুষ দিবস, আলাদা দিন লাগে না৷ কথাটা হয়তো খুব একটা ভুলও না৷ অফিসের বস থেকে পাড়ার রক, টলিউড থেকে হলিউড, আন্দোলনের মুখ থেকে আক্রমণের চোখ— সর্বত্রই পুংদের প্রাধান্য৷ সেই আদম থেকে আজ অবধি নিরবিচ্ছিন্ন, দাপুটে পুরুষতন্ত্রের ধারক ও বাহক যে৷ তবুও, ইতিহাসের এই বোঝা কি একজন পুরুষকেও ক্লান্ত করেনি? পুরুষতন্ত্র অত্যাচারী, তাই পুরুষ দিবস ধ্যাসটামো—এটাও অতি সরলীকরণ হয়ে যাচ্ছে না তো? কে জানত, দুনিয়া জুড়ে প্রতি বছর আত্মহননে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে মহিলাদের তুলনায় তিনগুণ বেশি পুরুষ? এসব প্রশ্ন/ ভাবনা উসকে দিতেই পুরুষ দিবস৷ এ শতাব্দীর গোড়ার দিকে শুরু, কাজেই গরিমায়, কলেবরে, ইতিহাসে নারী দিবসের তুলনায় নেহাতই পুঁচকে৷ তবু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের মতন অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, ‘হুম, এদিকটাও তো ভেবে দেখতে হচ্ছে৷ পুরুষের স্বাস্থ্য, মনটাও তো বুঝতে হবে৷’

তাই হে পুরুষ, মন ভালো রাখুন৷ বেশি চাপ নেবেন না৷ ভীষণ কষ্ট হচ্ছে কেঁদে নিন? চাইলে প্রিয়জনের কোলে মাথা রেখে হাপুস কাঁদুন, যে যাই বলুক৷ আর ভাঙতে থাকুন পৌরুষের ভ্রান্ত পাঠ৷ মনটা এতটাও শক্ত করবেন না যে, খুন করতেও হাত কাঁপবে না৷

পুরুষ দিবসের ঝকঝকে ওয়েবসাইটে ‘লিঙ্গের সাম্য’ ডাকে সাড়া দিচ্ছে ফেমিনিস্টরাও৷ কারণ হিংসায় ধবস্ত এই কঠিন সময়ে খাঁটি পুরুষের যে বড়োই প্রয়োজন আমাদের৷ না, পুরুষ দিবস সেসব পুরুষের মুখোশ পরা অমানুষদের জন্য নয় যারা ঘুমন্ত মেয়ের মুখে অ্যাসিড ছুড়ে দিয়ে অন্ধকারে গা-ঢাকা দেয় বা মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরে প্রতি রাতে বউকে বেদম পেটায়৷ যদি কোনোদিন আপনার বাচ্চা মেয়ের সদ্য শেষ করা চিপসের খালি প্যাকেটটা অবলীলায় রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেওয়ার আগের মুহুর্তে তার হাত ধরে তাকে আটকান বা কালীপুজোর রাতে আপনার ছেলেকে বোঝান যে, আকাশটা বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভরিয়ে দেওয়াটাকে আনন্দ বলে না— তবে আপনাকে স্বাগত৷ বাংলা ভাষায় পুরুষ শব্দটার একটা অসাধারণ প্রতিশব্দ আছে, যা দুনিয়ার অন্য কোনো ভাষায় পাওয়া মুশকিল৷ ঠিক ধরেছেন— ‘পুরুষ মানুষ’৷ কারণ, পুরুষ হতে গেলে আগে মানুষ হতে হয়৷(#PrintEdition #SamipendraBanerjee #MrinalSeal #Cartoon)

কার্টুনঃ মৃণাল শীল

হেডলাইন

প্রতিবেদন

মহানন্দার উজান স্রোতে ভবানীপুরে অশনির ঘণ্টা বাজছে

ফি বছর বর্ষায় বেড়ে যায় মহানন্দার জলস্তর। স্রোতের আওয়াজ ঘুমন্ত গ্রামবাসীদের কানের পর্দায় যেন ধাক্কা দেয়৷ এবারও বেড়েছে মহানন্দার জল৷ খানিকটা..

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.