বিজ্ঞাপন

স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের অভাব, ক্যান্সার থেরাপি ইউনিটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত



প্রায় পাঁচ বছর আগে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ক্যান্সার থেরাপি ইউনিট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার৷ সেই প্রকল্পের জন্য অর্থও বরাদ্দ করে রাজ্য৷ কিছুটা দেরিতে কাজ শুরু হলেও সেই ইউনিট নির্মাণের কাজ এখন শেষ৷ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের পাশেই নির্মিত হয়েছে এই ইউনিটের চারতলা ভবন৷ সেখানে ভাবা পারমাণবিক কেন্দ্রের গাইডলাইন মেনে তৈরি করা হয়েছে রেডিয়েশন কক্ষ৷ ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ছয় কোটি টাকা৷ এখন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং চিকিৎসক, নার্স ও দক্ষ কর্মী নিয়োগের কাজই শুধু বাকি৷ কর্মী নিয়োগের প্রস্তাবও রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠানো হয়েছে৷ এপ্রসঙ্গে মালদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রতীপ কুণ্ডু জানান, ওই ক্যান্সার থেরাপি ইউনিট চালু করতে হলে নার্স ছাড়া অন্তত পাঁচজন চিকিৎসক, চারজন টেকনিশিয়ান, একজন রেডিয়েশন সেফটি অফিসার, ছয়জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী, ছয়জন সাফাইকর্মী, একজন ডাটা এন্ট্রি অফিসার, চারজন নিরাপত্তাকর্মী ও একজন স্টোরকিপার প্রয়োজন৷ তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যভবনে পাঠিয়ে দিয়েছেন তাঁরা৷ আশা করছেন, ক্যান্সার থেরাপি ইউনিট দ্রুত চালু করতে স্বাস্থ্যভবন থেকে খুব তাড়াতাড়ি প্রয়োজনীয় কর্মীদের এখানে পাঠানো হবে৷

যখন মালদা মেডিক্যাল কলেজে ক্যান্সার থেরাপি ইউনিট চালু হতে চলেছে, ঠিক সেই সময় কেন্দ্রীয় সরকার মালদা মেডিক্যাল কলেজ ট্রমা কেয়ার ইউনিট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা৷ তার মধ্যে ১২০ কোটি টাকা কেন্দ্র ইতিমধ্যে সিপিডব্লিউডির হাতে তুলে দিয়েছে৷ হাসপাতালের পুরোনো নার্সিং কোয়ার্টারের জায়গায় সেই ভবন নির্মাণের কাজও শুরু করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় পূর্তদপ্তর৷ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এই ট্রমা কেয়ার ইউনিট চালু হয়ে যাবে৷ সেখানেও থাকবে ক্যান্সার থেরাপির ঘর৷ কেন্দ্র-রাজ্য চুক্তি অনুসারে, ট্রমা কেয়ার ইউনিট চালু করতে সমস্ত পরিকাঠামো নির্মাণ করবে কেন্দ্রীয় সরকার৷ কিন্তু সেখানে চিকিৎসক, নার্স কিংবা অন্যান্য কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের৷ মালদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের বক্তব্য, ক্যা্ন্সার থেরাপি কিংবা ট্রমা কেয়ার ইউনিট, দুই জায়গাতেই কমপক্ষে চারজন করে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন৷ কিন্তু এই মুহূর্তে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম৷ রাজ্য জুড়েই স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে৷

এপ্রসঙ্গে স্বাস্থ্যভবনের এক কর্তা জানান, গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে নিউরো বিভাগের অধিকাংশ আসন ফাঁকা পড়ে থাকছে৷ এই বিভাগে পড়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন না পড়ুয়ারা৷ এর পিছনের কারণ প্রসঙ্গে ওই কর্তা বলেন, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী চিকিৎসকদের অন্তত তিন বছর গ্রামে গিয়ে প্র্যাকটিস করতে হবে৷ কিন্তু এই রাজ্যের গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গ্রামীণ হাসপাতাল কিংবা জেলাস্তরের হাসপাতালে স্নায়ুরোগ চিকিৎসার পরিকাঠামোই নেই৷ সেক্ষেত্রে পড়ুয়াদের ভাবনা, স্নায়ুরোগের চিকিৎসা শিখে তা যদি প্রয়োগই না করা যায় তবে তিন বছরে তাঁরা সব ভুলে যাবেন৷ এই যুক্তিতেই পড়ুয়ারা ওই বিভাগে পড়াশোনার উৎসাহ দেখাচ্ছেন না ৷

তাই মালদা মেডিক্যাল কলেজে ক্যান্সার থেরাপি ইউনিট হোক অথবা ট্রমা কেয়ার ইউনিট, তা পরিচালনার জন্য দক্ষ চিকিৎসক পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়েই চিন্তিত মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ৷

#DigitalDesk #Medical

2 views

বিজ্ঞাপন

MGH-Advt.jpg
পপুলার
1

চোরাই মোবাইল পাচারচক্রের হদিশ, ধৃত তিন

চোরাই মোবাইল পাচারচক্রের হদিশ, ধৃত তিন
2

সরানো হল মালদা সদর মহকুমাশাসককে

সরানো হল মালদা সদর মহকুমাশাসককে
3

কেন ইংলিশবাজার? নাম পরিবর্তনের ইচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর

কেন ইংলিশবাজার? নাম পরিবর্তনের ইচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর
4

ইংরেজবাজারে উদ্ধার মানুষের মাথার খুলি

ইংরেজবাজারে উদ্ধার মানুষের মাথার খুলি
5

করোনায় আক্রান্ত রেলকর্মীর মৃত্যু, আতঙ্ক মালদা শহরে

করোনায় আক্রান্ত রেলকর্মীর মৃত্যু, আতঙ্ক মালদা শহরে
Earnbounty_300_250_0208.jpg
টাটকা আপডেট