অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় হেনস্তা

অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় হেনস্তা



ফতেয়ার জেরে গ্রামের কেউ তাঁদের পরিবারের কোনও সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না। কারণ, নাসিররা গ্রামবাসীদের হুমকি দিয়েছে, কেউ তাঁদের সঙ্গে কথা বললে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

কালিয়াচকের জালুয়াবাথাল গ্রামে দীর্ঘদিনের বসবাস হাবিবুদ্দিন শেখ ও তহিদুল মিয়াঁর। তাঁরা দুজনেই কৃষিজীবী। নিম্নবিত্ত পরিবার। গ্রামে নিজেদের বাড়ি রয়েছে তাঁদের। বাড়ির সামনে শিশুদের একটি স্কুল। তার সামনে রয়েছে বেশ খানিকটা খাস জমি। সেই জমি নিয়েই দেখা দিয়েছে সমস্যা।

হাবিবুদ্দিন শেখ, তহিদুল মিয়াঁ এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মাস দেড়েক আগে সেই খাস জমিতে বেআইনিভাবে নির্মাণ কাজ শুরু করে এলাকার কংগ্রেস অঞ্চল প্রধান নাসির শেখ। সে ও তার দলবল ওই জমিতে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করছিল। কিন্তু ওই জমিতে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি হলে তাঁদের বাড়িতে ঢোকার রাস্তা আর থাকবে না। এমনকি শিশুদের স্কুলটিতেও বাচ্চারা ঢুকতে পারবে না। সেই কারণে তাঁরা দুজন প্রথমে প্রতিবাদ জানান। নাসিরকে ওই কমপ্লেক্সের কাজ বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু তাঁদের কথায় সে কান দেয়নি। বাধ্য হয়ে তাঁরা স্থানীয় কালিয়াচক থানা এবং গ্রাম পঞ্চায়েতে বিষয়টি লিখিতভাবে জানান এবং সেই অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করার আবেদন করেন। এতেই সমস্যার সূত্রপাত।

হাবিবুদ্দিন ও তহিদুলের অভিযোগ, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করায় তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে নাসির। এনিয়ে সে গ্রামে বিচার বসায়। বিচারসভায় উপস্থিত মাতব্বররা ছিল তারই লোক। তাঁদের কোনও কথা না শুনে ওই বিচারে তাঁদের একঘরে করে রাখার পক্ষে রায় দেওয়া হয়। সেই রায় মাইকযোগে গোটা গ্রামে প্রচার করে নাসিররা। সে তাঁদের পরিবার সহ গ্রামছাড়া করবে বলেও হুমকি দেয়। তাদের ভয়ে তাঁরা এই ঘটনার কথা প্রশাসনকে জানাতে পারেননি। এদিকে এই ফতেয়ার জেরে গ্রামের কেউ তাঁদের পরিবারের কোনও সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না। কারণ, নাসিররা গ্রামবাসীদের হুমকি দিয়েছে, কেউ তাঁদের সঙ্গে কথা বললে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। এদিকে ফতোয়ার জেরে তাঁরা গ্রামের দোকান থেকে জিনিস কিনতে পারছেন না, চিকিৎসক তাঁদের কাউকে চিকিৎসা করতে পারছেন না, এমনকি পানীয় জলও সংগ্রহ করতে পারছেন না। প্রায় এক মাস ধরে এভাবেই দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

নাসিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে জালুয়াবাথাল গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলি প্রধান আতাউল ইসলামের কাছে এই ঘটনা সম্পর্কিত কোনও প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই। বাস্তবিকই নাসিরের মতো জমি মাফিয়াদের দাপটে তিনি ঠুঁটো জগন্নাথ। এই অবস্থায় সংবাদমাধ্যমই যেন ভরসার জায়গা হাবিবুদ্দিন, তহিদুল এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের।

গ্রামবাসীদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই মুহূর্তে শুধু ওই দুটি বাড়ি নয়, বন্ধ হয়ে পড়েছে শিশুদের স্কুলটিও। নাসির এলাকার দাপুটে নেতা। তার বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষমতা কারোরই নেই। পুলিশ ও প্রশাসনও তারই কথায় চলে। তাই এতকিছুর পরেও তার বিরুদ্ধে পুলিশ কিংবা প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছে না। নাসির কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি হলেও জালুয়াবাথাল গ্রাম পঞ্চায়েতটি তৃণমূলের। কিন্তু এক্ষেত্রে চুপ তারাও।

গোটা ঘটনা জেনে স্তম্ভিত জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি। তিনি সাফ জানান, এই ঘটনার দায় দল কিছুতেই নেবে না। এমন ঘটনা দল বরদাস্তও করবে না। এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় ওই অঞ্চল প্রধানের। তিনি বেআইনি কাজ করে থাকলে পুলিশ নির্দ্ধিধায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনমাফিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এদিকে ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখে পুলিশ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

#DigitalDesk #Crime

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.