বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল অজানা, মুখ্যমন্ত্রী মমতা জিভের ডগায়

আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস৷ আর আজকের দিনেই জেলার শিক্ষাব্যবস্থার অস্থিসার চেহারাটা বেরিয়ে এল৷ যে শিক্ষকের কাছে শিখে ভবিষ্যতের নাগরিক হবে জেলার শিশুরা, তাঁরাই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাজ্যপালের নামই জানেন না৷ তবে একটি নাম তাঁরা ভুল বলেন না, তা হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

সারা পৃথিবীতে এই দিনটি নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে উদ্‌যাপন করা হচ্ছে৷ ভারতও আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালনে ব্যতিক্রম নয়৷ দেশের প্রতিটি মানুষকে ন্যুনতম শিক্ষিত করতে প্রতি বছর খরচ হচ্ছে কোটি কোটি টাকা৷ মালদাতেও প্রচুর অর্থ এই খাতে ব্যয় করা হচ্ছে৷ এদিন মালদা শহরের টাউন হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫২তম আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করা হয়৷ সেখানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) অরুণকুমার রায়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান আশিস কুণ্ডু, জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা৷ আরও ছিলেন সাক্ষরতা মিশনের শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিশুর দল৷ অনুষ্ঠানের শুরুতে টাউন হলের সামনের ময়দানে সাক্ষরতা মিশনের পতাকা উত্তোলন করা হয়৷ তারপর একটি মিছিল শহর পরিক্রমা করে টাউন হলে এসে শেষ হয়৷ এরপরেই শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান৷

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস৷

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এদিন আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হচ্ছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্ন, সারা বাংলায় একটি শিশুও যেন নিরক্ষর না থাকে৷ রাজ্যের আবাল বৃদ্ধ বণিতা, সকলেই যেন সাক্ষর হয়, সেটাই চান তিনি৷ তাঁদের অঙ্গীকার, মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে আগামী দিনে তাঁরা এই বাংলাকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করতে চান৷ অতিরিক্ত জেলাশাসক নিজের বক্তব্যে জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এই মুহূর্তে এই জেলায় সাক্ষরতার হার অনেকটাই বেড়েছে৷ তবে এক্ষেত্রে এই জেলা এখনও অনেকটা পিছিয়ে৷ বর্তমানে এই জেলার ৫২ শতাংশ মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় নিয়ে আনা হয়েছে৷ সরকারি চাকরি নয়, নিজেদের কাজ নিজেরা যাতে করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই মিশন৷ একজন সাক্ষর মানুষের জানার চাহিদা অনেক বেড়ে যায়৷ সে তখন গোটা পৃথিবীটাকেই জানতে চায়৷ এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষা৷ জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি বলেন, শিক্ষা ছাড়া জীবনে কোনও আলো নেই৷ যে জাতি যত শিক্ষিত, সেই জাতি তত এগিয়ে৷ তাই শিক্ষা ছাড়া আমাদের কোনও অগ্রগতি হবে না৷ শিক্ষা ছাড়া উন্নয়নও সম্ভব নয়৷ তাই উন্নয়নের জন্য সবার শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন৷ সেকারণেই এই দিনটাকে গোটা পৃথিবীতে পালন করা হয়ে থাকে৷

শিক্ষা ছাড়া উন্নয়নও সম্ভব নয় বুঝলাম কিন্তু কার হাত ধরে এরা শিখবে? নিশ্চিতভাবে যারা শৈশবে শিক্ষার আলো দেয়, তাঁদের হাত ধরেই৷ তেমনই একজন শিক্ষিকা লক্ষ্মী দাস৷ রাষ্ট্রপতি কে? তাঁর ঝটপট উত্তর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মুখ্যমন্ত্রীর নাম জিজ্ঞাসা করতে ফের তাঁর মুখে উঠে এল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম৷ তবে অনেক চিন্তাভাবনা করেও রাজ্যপালের নামটা বলতে পারেননি তিনি৷ একই পরিস্থিতি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষিকার৷ তিনি বললেন, প্রাথমিক পড়া ও লেখার পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞানও তিনি ছোটো পড়ুয়াদের শেখান৷ অবশ্য প্রশ্নের মুখে কে আর নারায়ণকে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসিয়েছেন তিনি৷ তাঁর কাছে প্রধানমন্ত্রী হলেন মোদী সরকার৷ রাজ্যপালের নামটা বলতে না পারলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তাঁর জিভের ডগায়৷ মান বাঁচাতে বললেন, এতদূর পর্যন্ত তিনি এখনও আসেননি৷ প্রাথমিক শিক্ষাতেই আটকে আছেন এখনও৷ আরেক শিক্ষিকা মোমেনা খাতুন৷ তিনি চান, প্রতিটা ঘরে যেন শিক্ষা পৌঁছে যায়৷ তা না হলে লোন মিলবে না৷ এর সঙ্গে পড়ুয়াদের সাধারণ জ্ঞানও শেখান তিনি৷ তবে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ছাড়া তিনিও আর কারোর নাম বলতে পারেননি৷

বিজ্ঞাপন

Republic-Day.jpg
পপুলার
1

শহরের জঞ্জাল পরিষ্কার হবে কীভাবে? প্রশ্ন বঙ্গরত্নের

582

শহরের জঞ্জাল পরিষ্কার হবে কীভাবে? প্রশ্ন বঙ্গরত্নের
2

জেলায় দ্বিতীয় বইমেলার প্রস্তুতি শুরু

3031

জেলায় দ্বিতীয় বইমেলার প্রস্তুতি শুরু
3

স্থান বদলে শুরু হল মালদা বইমেলা, চলবে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত

3295

স্থান বদলে শুরু হল মালদা বইমেলা, চলবে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত
4

মালদায় শুরু করোনা টিকাকরণ, প্রথম টিকা পেলেন কৃষ্ণা

634

মালদায় শুরু করোনা টিকাকরণ, প্রথম টিকা পেলেন কৃষ্ণা
5

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মালদায় এল করোনা ভ্যাকসিন

1195

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মালদায় এল করোনা ভ্যাকসিন
Earnbounty_300_250_0208.jpg
At the Grocery Shop
টাটকা আপডেট

সাবস্ক্রিপশন

স্বত্ব © ২০২০ আমাদের মালদা

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • YouTube
  • Pinterest
  • RSS