স্কুল বাঁচাতে জেলাশাসকের দ্বারস্থ গ্রামবাসীরা

চুলোয় যাক শিক্ষার অধিকার আইন৷ তার থেকে প্রশাসনের কাছে অনেক বড়ো বিষয় মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্পকে রূপদান করা৷ তাই ১৩০ পড়ুয়ার ভবিষ্যতের কথা না ভেবে চালু থাকা একটি প্রাথমিক স্কুলকে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চাঁচল মহকুমা প্রশাসন৷ এই অভিযোগ তুলে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন গ্রামবাসীরা৷ তাঁরা জেলাশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করে ওই স্কুলটি বাঁচানোর আর্জি জানিয়েছেন৷ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মালদা সফরের আগে এনিয়ে মন্তব্য নেই জেলা প্রশাসনের শীর্ষকর্তার৷ তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান৷



ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের পারভালুকা গ্রামে৷ জেলাশাসকের কাছে জমা দেওয়া আবেদনপত্রে সেখানকার প্রায় সাড়ে চারশো গ্রামবাসী জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে ফুলহরের ভয়ঙ্কর বন্যায় পারভালুকা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রায় নষ্ট হয়ে যায়৷ তারপর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরের পাশে সরকারি একটি খাস জমিতে স্কুলটিকে স্থানান্তর করে৷ গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় শিক্ষা দপ্তর সেখানে একটি অস্থায়ী স্কুলও নির্মাণ করে দেয়৷ ওই জমিটির আয়তন প্রায় ২৫ শতক৷ ২০১৫ সালে জেলা প্রশাসন স্কুলটি পরিদর্শনের পর তার পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য সর্বশিক্ষা মিশন থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ করে৷ বরাদ্দ করা টাকায় পড়ুয়াদের জন্য শৌচাগার ও তাদের খেলার জন্য সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়৷ এখনও সেসব স্কুলে রয়েছে৷ কিন্তু সম্প্রতি তাঁরা জানতে পারেন, স্কুলের সেই জমিতে কর্মতীর্থ গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন৷ তাঁরা আরও জানতে পেরেছেন, সরকারি এই খাস জমিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় কিছু লোভী মানুষ৷ ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে একশোরও বেশি পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ৷ স্কুলটি কোনও কারণে উঠে গেলে এলাকার গরিব ঘরের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে৷ এই পরিস্থিতিতে তাঁরা এলাকার খুদেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্কুলটি ওই জায়গাতেই বহাল রাখার জন্য জেলাশাসকের কাছে আর্জি জানাচ্ছেন৷

শিবপ্রকাশ ওঝা নামে এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, পারভালুকা গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ অত্যন্ত গরিব৷ ঘরের ছেলেমেয়েদের দূরের স্কুলে পাঠানোর ক্ষমতা নেই তাঁদের৷ তাই তাঁরা এই স্কুলেই ছেলেমেয়েদের শিক্ষাগ্রহণের উদ্দেশ্যে পাঠান৷ ১৯৬২ সালে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়৷ ২০১৩ সালে ফুলহরের বন্যায় স্কুলটির প্রায় ৮০ শতাংশ নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছিল৷ স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর স্কুলটিকে অস্থায়ীভাবে তৈরি করে৷ গতবছরও তাঁরা জানতে পেরেছিলেন, স্কুলটিকে তুলে দিয়ে ওই জায়গায় কর্মতীর্থ গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চাঁচল মহকুমা প্রশাসন৷ সেকথা জানতে পেরেই তাঁরা মহকুমাশাসকের দ্বারস্থ হন৷ কিন্তু তাঁদের কোনও কথাই শুনতে চাননি তিনি৷ শেষে তাঁরা জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন৷ জেলাশাসকের হস্তক্ষেপে সেবারের মতো তাঁরা স্কুলটিকে বাঁচাতে পারেন৷ সম্প্রতি তাঁরা আবার জানতে পারেন, স্কুলটিকে ফের তুলে দিতে চাইছে মহকুমা প্রশাসন৷ অথচ এখনও ওই স্কুলে ১৩০ জন পড়ুয়া পড়াশোনা করে৷ এই পরিস্থিতিতে তাঁরা ফের জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন৷

এই ঘটনায় এদিন জেলাশাসকের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷ তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি আশিস কুণ্ডু জানিয়েছেন, এমন কোনও অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি৷ তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন৷ কোনও খুদে পড়ুয়া পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হবে, এটা হতে পারে না৷ তার জন্য যা ব্যবস্থা নেওয়ার তিনি নেবেন৷


#DigitalDesk #Misc #Harishchandrapur

1
কফিনবন্দি দেহ ফিরল মালদায়, স্যালুট জানিয়ে শেষ শ্রদ্ধা পুলিশের

Popular News

848

2
গঙ্গায় মিশে যেতে পারে ফুলহর, বাজছে বিপদ ঘণ্টা

Popular News

812

3
আত্মীয়ের বাড়িতে এসে গ্রেফতার বাংলাদেশি

Popular News

1300

4
বাংলাদেশে পণ্য পাঠানো বন্ধ করে দিলেন মহদীপুরের এক্সপোর্টার্সরা

Popular News

877

5
মালদা ডিভিশন তৈরি, অনুমতি মিললেই শুরু হবে ট্রেন পরিসেবা

Popular News

1064

পপুলার

বিজ্ঞাপন

টাটকা আপডেট
 

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.