বিজ্ঞাপন

আক্কেল গুরুঙ্গ

সুবাস ঘিসিঙ্গ-এর আমলেও যেমন, এখনো তেমন, পাহাড়ি রাজনীতি মানেই পথঘাট, যোগাযোগ, জীবনযাপন বন্ধ করার রাজনীতি৷ এই আত্মঘাতী মানসিকতা না পালটালে কোনো রাজনৈতিক অগ্রগতি অসম্ভব৷ রাজনৈতিকভাবে ক্রমাগত কোণঠাসা হতে থাকায় বিমল গুরুঙ্গ-এর দল যে নিজেদের অস্তিত্বরক্ষায় ওই তাণ্ডব চালিয়েছে, বুঝতে বেশ বুদ্ধি খরচ করতে হয় না৷ পরিস্থিতি অনুকূলে আনার জন্য যেনতেন প্রকারেণ আন্দোলন প্রয়োজন ছিল তাঁর৷ সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন তিনি৷ পাহাড়বাসীকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে, আগুন জ্বালিয়ে নিরাপদ আস্তানায় আত্মগোপন করেছেন৷


পাহাড়ের অর্থনীতি বরাবর দাঁড়িয়ে থাকে টি, টিম্বার ও টুরিজমের উপর৷ ঘিসিঙ্গ-এর সময় এই তিনটে ‘T’ প্রবল আঘাত খেয়েছিল৷ বছরের পর বছর মানুষ আর পাহাড়মুখো হয়নি৷ চলে গিয়েছিল অন্যত্র৷ পর্যটকরা না গেলে পাহাড়বাসী খাবেই বা কী? বলা-কওয়া নেই কার্যত বিনা নোটিশে আচমকা এই তাণ্ডবে সবচেয়ে বড়ো বিপদ হয়েছে পর্যটকদের৷ কয়েক হাজার মানুষ পাহাড়ে ছিলেন৷ সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাঁরা নেমে এসেছেন৷ বিরাট অর্থনীতিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে হোটেল থেকে শুরু করে অন্যান্য ব্যবসায় যুক্ত মানুষকে৷ এইরকম অবস্থার জন্য মানুষের কাছে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে বিমল গুরুঙ্গদের৷ এই আকস্মিক হিংসাত্মক আন্দোলন কেন? বাংলা ভাষাকে পাহাড় থেকে মুছে দেওয়ার ডাক দিলেন৷ ঔদ্ধত্য এতটাই যে, তাঁরা বাংলা ভাষাকেও অপমান করলেন৷ মুখ্যমন্ত্রী কখনও বলেননি, বাংলা ভাষা পাহাড়ে ‘আবশ্যিক’৷ বলেছেন ‘ঐচ্ছিক’৷ তবে মিথ্যার উপর ভর করে মোর্চা নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে গণতন্ত্রকে দুরমুশ করে হিংসার পথে ফিরে গেল?

আপনি তো বেশ ছিলেন৷ অর্থ, সম্মান, প্রভাব, দাদাগিরি-- কোনো কিছুর তো অভাব ছিল না৷ তাহলে আগুন নিয়ে খেলা কেন? আমরা এলিতেলি জাতি নই৷ বাংলার মাটি, বাংলা ভাষাকে এভাবে অপমান করবেন না৷ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলা ভাষা৷ আপনি বাংলা পড়লে পড়ুন, না পড়লে ছেড়ে দিন৷ তাতে কিছু যায় আসে না৷ মংপুর ইতিহাসকে আপনি ইচ্ছা করলেও মুছে ফেলতে পারবেন না৷ সংবিধানপ্রদত্ত স্বাধীনতায় কে, কী ভাষায় কথা বলবে, এত ঘৃণা কিসের?

বাংলার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পৃথক রাজ্য চাইছেন এঁরা৷ সে রাজ্যের পড়াশুনোর ভাষা নিয়ে বিমল গুরুঙ্গদের কোথাও একটা মানসিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে৷ হয়তো ভাবছেন, বাংলা ভাষা শেখা মানে বাংলার সাথে বন্ধনে জড়িয়ে পড়া৷ বাংলা ভাষার বিষয়টিকে খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরে নেপালি ভাবাবেগকে উসকে দিতেই এই ঘটনা ঘটানো৷ কারণ অন্য যে ইশ্যুগুলি রয়েছে, তার উপর ভিত্তি করে তাণ্ডব চালানো কঠিন৷ গুরুঙ্গ এখানে সর্বস্ব পণ করে লড়ছেন-- বাজি জিতলে পাহাড়ে তাঁর আধিপত্য ফের নিরঙ্কুশ হবে, আর হারলে রাজনৈতিক বানপ্রস্থের সম্ভাবনা বাড়বে৷ প্রসঙ্গত, পাহাড়ের উন্নয়নের প্রশ্নটি ক্রমশই আইডেন্টিটির রাজনীতির তলায় তলাইতে উদ্যত৷

ছবিঃ মিসবাহুল হক


#AamaderDiary #NorthBengal

বিজ্ঞাপন

MGH
পপুলার
1

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মালদায় এল করোনা ভ্যাকসিন

1174

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মালদায় এল করোনা ভ্যাকসিন
2

বাসের জন্য নতুন স্টপেজ রথবাড়িতে

5855

বাসের জন্য নতুন স্টপেজ রথবাড়িতে
3

করোনার বিষ দাঁত ভেঙে শুরু হচ্ছে বইমেলা

722

করোনার বিষ দাঁত ভেঙে শুরু হচ্ছে বইমেলা
4

চাকরির টোপে প্রতারণার অভিযোগ জেলাপরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে

964

চাকরির টোপে প্রতারণার অভিযোগ জেলাপরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে
5

মালদায় জমে উঠেছে সোনাঝুড়ি হাট

4001

মালদায় জমে উঠেছে সোনাঝুড়ি হাট
Earnbounty_300_250_0208.jpg
At the Grocery Shop
টাটকা আপডেট

সাবস্ক্রিপশন

স্বত্ব © ২০২০ আমাদের মালদা

  • Facebook
  • Twitter
  • Instagram
  • YouTube
  • Pinterest
  • RSS