বিজ্ঞাপন

দুই বঙ্গের সংযোগরক্ষাকারী ফরাক্কা ব্যারেজ সংস্কারের হ্যাপা



গঙ্গার বুকে শতাধিক লকগেট নিয়ে দাঁড়িয়ে ফরাক্কা ব্যারেজ৷তার ওপর দিয়ে দিবারাত্রি ছুটে চলেছে অগণিত যাত্রীবাহী বাস, গাড়ি, পণ্যবোঝাই লরি, এমনকি ট্রেনও৷ শুধু উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যেই নয়, সমস্ত উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগরক্ষাকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কের ওপর ব্যারেজের রাস্তাটির অবস্থান৷ অথচ দীর্ঘদিন ধরে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খুবই বিপজ্জনক দশায় পৌঁছে গিয়েছিল এই রাস্তা৷ এমন পরিস্থিতিতে ব্যারেজ ও তার রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত লাগায় প্রশাসন৷ কিন্তু একাজ করতে গিয়ে দিনভর একটা লেন বন্ধ রাখতে হচ্ছে৷ অপরদিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে পণ্যবাহী লরির যাতায়াত আর এতেই মহাবিপাকে পড়েছেন ট্রাক মালিকরা৷

কিন্তু কেন? মালদার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক সরকার জানান, সংস্কারকাজ চলাকালীন প্রায় মাস তিনেক কোনো ভারী যান চলাচল করতে পারবে না৷ বিষয়টি ইতিমধ্যেই গাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে৷ একটি লেন খোলা থাকবে৷ কিন্তু সেখান দিয়ে শুধু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কাজে ছোটো গাড়ি যেতে পারবে৷

৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর অবস্থিত ব্যারেজের রাস্তা৷ এই রাস্তা দিয়ে খাবারদাবার, দরকারি মালপত্র নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লরি উত্তরবঙ্গে ও উত্তরপূর্ব ভারতে পাড়ি জমায়৷ কিন্তু তিন মাস সেইসব লরি বন্ধ থাকলে ভয়ংকর সমস্যায় পড়বেন লরির মালিকরা৷ কাঁচামাল লরিতেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে৷ পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য, এই সমস্যার সমাধান আছে৷ তার জন্য ঘুরপথে ট্রাক নিয়ে যেতে হবে চালকদের৷ ট্রাকগুলিকে বিহার হয়ে ঘুরে যেতে বলা হচ্ছে৷ কিন্তু ন্যাশনাল পারমিট নেই এমন লরিগুলির কী হবে?

এই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি কেউ৷ লরির মালিকদের প্রশ্ন, বেঙ্গল পারমিটের গাড়িগুলি পণ্য নিয়ে ভিনরাজ্যের ভিতর দিয়ে কীভাবে যাবে? কাজ চলাকালীন দ্রুততার সঙ্গে বিশেষ পারমিট দেওয়ারও দাবি তুলেছেন তাঁরা৷ কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না করলে কাঁচামাল লরি থেকেই পচে যাবে৷ বিপুল আর্থিক ক্ষতি হবে৷

অবশ্য প্রশাসন এই সমস্যা মেটাতে নিদান দিয়েছে৷ বলা হয়েছে, ফরাক্কায় বড়ো লরি থেকে মাল নামিয়ে ছোটো ছোটো গাড়িতে করে পাঠানো হোক সেতুর ওপারে৷ তারপর আবার এপারে থাকা বড়ো লবি::তে করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া যায় ওইসব মালপত্র৷ কিন্তু এভাবে মালপত্র লোডিং আনলোডিং করলে খরচা বহুগুণ বেড়ে যাবে৷ সময়ও লাগবে বেশি৷ লরির মালিকদের বক্তব্য, এভাবে কাজ করলে ব্যবসাই ওঠে যাবে৷

ট্রাক মালিকদের মাথাব্যথা বাড়িয়েছে ব্যারেজের সংস্কারকাজে ঢিলেমি৷ হেলেদুলে এভাবে কাজ চললে প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হবে না বলে আশঙ্কা তাঁদের৷ ব্যারেজ কর্তৃপক্ষের অবশ্য দাবি, নতুন বছরের প্রথম দিনেই একটি লেনের সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে৷ তারপরেই সেই লেন দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়ে যাবে৷

তবে এসবের মাঝেই সুখবর হচ্ছে, ফরাক্কার প্রথম সেতুর ওপর চাপ কমাতে দ্বিতীয় সেতু তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়া৷ ফরাক্কা সেতু থেকে নদীর নিম্নগতিতে ৫০০ মিটার দূরে নতুন সেতুটি তৈরি করা হবে৷ গঙ্গার ওপর ২.৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুতে ৪টি লেন থাকবে৷ অ্যাপ্রোচ ওয়ে মিলিয়ে সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪.৫৬ কিলোমিটার হবে৷ সেতুটি তৈরিতে প্রায় ৫২১ কোটি টাকা খরচ হবে৷ তিন বছরের মধ্যেই নতুন সেতুটি তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ৷

#FarakkaBarrage

বিজ্ঞাপন

MGH.jpg
পপুলার
1

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মালদায় মৃত ১৬

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মালদায় মৃত ১৬
2

চোরাই মোবাইল পাচারচক্রের হদিশ, ধৃত তিন

চোরাই মোবাইল পাচারচক্রের হদিশ, ধৃত তিন
3

সরানো হল মালদা সদর মহকুমাশাসককে

সরানো হল মালদা সদর মহকুমাশাসককে
4

কেন ইংলিশবাজার? নাম পরিবর্তনের ইচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর

কেন ইংলিশবাজার? নাম পরিবর্তনের ইচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর
5

ইংরেজবাজারে উদ্ধার মানুষের মাথার খুলি

ইংরেজবাজারে উদ্ধার মানুষের মাথার খুলি
Earnbounty_300_250_0208.jpg