মর্ত্যলোকে বিপত্তি আছে? জানতে নারদমুনির স্ট্রিং অপারেশন

মর্ত্যলোকে বিপত্তি আছে? জানতে নারদমুনির স্ট্রিং অপারেশন

স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল ত্রিলোকে যার অবাধ যাতায়াত বীণাবাদনরত সেই নারদমুনি ঢেঁকির পিঠে চড়ে কৈলাস পর্বতে শিবভূমিতে উপস্থিত হলেন৷ উমার পিত্রালয়ে যাওয়া আসন্ন৷ আকাশে নীল, সাদা মেঘ কাশ ডানা মেলেছে- শারদোৎসবের ঢাকের বাদ্যি দেবাদিদেব পরিবারকে উম্মনা করে তুলেছে৷ এদিকে মহাশঙ্কায় মহাদেবের তৃতীয় নয়ন কুঞ্চিত হয়েছে৷ একপক্ষকাল আগে দেবীর খুঁটিপুজোর আহ্বানে মায়ের আদেশে নন্দিভৃঙ্গি মর্ত্যলোকে গমন করেছিল৷ প্রাচীনকালের রীতি অনুযায়ী দেবীর কাঠামো পুজোর বদলে সর্বজনীন পুজোয় আজকাল মর্ত্যবাসীগণ-- ঢাকবাদ্য সহকারে ষোড়শোপচারে খুঁটিপুজো করে থাকেন৷ শারদোৎসব বলে কথা৷ রঙিন জগতের নায়ক-নায়িকা থেকে দাপুটে নেতা-মন্ত্রীদের সাথে খুঁটিপুজোর আনন্দে নন্দিভৃঙ্গিও মেতেছিল৷

নারদমুনি ঢেঁকির পিঠে চড়ে কৈলাস পর্বতে শিবভূমিতে উপস্থিত হলেন৷

এখন কৈলাসে ফিরে কম্প দিয়ে ধূমজ্বরে নন্দি কাহিল৷ প্রাণ যাবার উপক্রম হয়েছে৷ ওদিকে দেবীবোধন আসন্ন, পুত্রকন্যাদের নিয়ে শিবজায়া পিত্রালয়ে যাত্রার উদ্যোগে মেতেছেন৷ মর্ত্যের হালহকিকত না জেনে মহাদেব তো পারেন না মহামায়াকে পিত্রালয়ে যেতে দিতে৷ কারণ সেবারে দক্ষরাজার যজ্ঞস্থলে সতীর দেহত্যাগের বিরহ ক্ষত আজও তিনি বিস্মৃত হননি৷ তাই মর্ত্যলোকে কোনো বিপত্তির আশঙ্কা আছে কিনা, তা সরজমিনে তদন্ত করার জন্য নারদমুনিকে পাঠাতে চাইছেন উনি ওখানে৷

কৈলাসপতির আদেশপ্রাপ্ত হয়ে নারদ মর্ত্যে অবতরণ করলেন৷ বীণার বদলে হাতে নিলেন একটি স্মার্টফোন৷ মর্ত্যে বহু বিচরণের সুবাদে যন্ত্রটির কারিগরি ও রপ্ত হয়েছে নারদের৷ প্রথমেই মুহুর্মুহু সেলফি নিলেন৷ ইনটারনেট কানেকশনের সুবাদে নারদমুনির সম্মুখে মর্ত্যলোকের খুঁটিনাটি উদ্ভাসিত হল৷

নন্দির অসুস্থতার কারণ অনুসন্ধান করতে মহামুনি নারদ হাসপাতালগুলিতে একে একে উপস্থিত হলেন৷ মশকদংশনে আক্রান্ত মানুষজনের অবস্থা দেখে তাঁর চক্ষু চড়কগাছ৷ রোগীদের মৃত্যু তালিকাও লম্বা৷ নন্দির রোগ ও রোগের কারণ নারদের সম্মুখে জলবৎ স্বচ্ছ হল৷ হাসপাতাল থেকে অন্যত্র গমনকালে ভয়ংকর সব দৃশ্যের সম্মুখীন হলে সদা শান্ত বাদ্যগীতে অভ্যস্ত নারদমুনি৷ একদল মানুষ লাঠি, বোমা, ইটপাটকেল নিয়ে আর একদলের দিকে ছুটছে৷ উন্মত্ত কিছু মানুষজন পরস্পর হাতাহাতি লাঠালাঠিতে মত্ত৷ প্রাণভয়ে কিছু নিরীহ জনতা পলায়ন করছে৷ চারিদিকে দাউ দাউ করে জ্বলছে অগ্নি৷ নারদের বীণার সুরে ছন্দপতন ঘটল৷ সংবাদমাধ্যমের একজনের কাছে তিনি জ্ঞাত হলেন এদেশে দুই যুযুধান রাজনৈতিক দল একে অপরের সাথে সদাসর্বদা বিরোধ করে চলেছেন৷ বোমাগুলি বর্ষণের মধ্যে নারদ কোনোক্রমে প্রাণ নিয়ে অন্যত্র পলায়ন করলেন৷

তবু সমগ্র বঙ্গদেশ পরিভ্রমণ করে তিনি অবলোকন করলেন৷ এরই মাঝে মায়ের আগমনের আনন্দে দোকান, বাজার, শপিংমলে ভিড় উপচে পড়ছে৷ শারদোৎসবের থিম পুজোর হরেক আদলে পুজো প্যান্ডেলগুলি সেজে উঠছে৷ বিজ্ঞাপনে শহর-গ্রামগঞ্জের মুখ ঢেকে গেছে৷ কারণ মা আসছেন৷ শরতের ঠান্ডা আমেজ, শিউলির গন্ধ টের না পেলেও মহামুনি মানুষের মনের খুশির আমেজে মায়ের আগমনি অনুভব করলেন৷

এই যে দাদারা... ট্যটকা খবর কিনুন-- পরকীয়ায় সুপ্রিমকোর্টের রায়... মাত্র পাঁচ টাকা... কিনুন খবর৷ কী বলছে লোকটি? নারদ একটু উৎসুক হয়ে একটি খবরের কাগজ কিনেই ফেললেন৷ একি! পরমাশ্চর্য ঘটনা৷ পুরাণ, মহাভারতে পরকীয়া তো সাধারণ ঘটনা ছিল৷ বর্তমান সমাজব্যবস্থায় পরকীয়ার পক্ষে রায় দিল এদেশের শীর্ষ আদালত৷ বুদ্ধিমান চতুর নারদ মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন- কৈলাসপতি দেবাদিদেব মহাদেব ও তাঁর পরমারাধ্য শ্রী নারায়ণকে এমন খবর দিলে তাঁদের রক্তচাপ বৃদ্ধি হয়ে স্বর্গলোকে মহা অনর্থ ঘটতে পারে৷ এভিন্ন শিবজায়া মহামায়া ও নারায়ণজায়া শ্রীলক্ষ্মীর মর্ত্যলোকে আগমনের উপর পত্নিপ্রেমী দুই স্বামীদেবতা নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারেন৷ উপরন্তু কোনো স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি নয়’ এমন আইনও মানবেন না দুই পুরুষ দেবতা৷ বুদ্ধিমান নারদের অবশ্য খবর গোপন করার পুরোনো অভ্যেস আছে৷ ওসব তিনি সহজেই ম্যানেজ করে ফেলবেন৷

সন্ধে হতেই শহর আলো ঝলমলে হয়ে উঠল৷ রঙিন জগতের তারকাদের স্টুডিয়োতে যাওয়ার লোভ সংবরণ করতে পারলেন না মহামুনি৷ তারকাজগতে প্রবেশ করে তিনি চমৎকৃত হলেন৷ দেবীবোধন অর্থাৎ মহালয়ার শুটিং চলছে৷ সর্বজ্ঞ নারদের মনে পড়ে গেল সেই পুরাণ কথা৷ স্বর্গরাজ্যে অসুরদের অত্যাচার থেকে দেবতাদের মুক্ত করার জন্য দেবতাগণ তাদের তেজঃপুঞ্জ দিয়ে দেবী মহামায়ার সৃষ্টি করলেন৷ দেবীকে নিজ নিজ অস্ত্র দান করে অসুরনিধনের জন্য তিলে তিলে তৈরি করলেন৷ অতঃপর অসুর নিধন করে মহিষাসুরমর্দিনী দেবী মর্ত্যলোকে পূজিতা হলেন৷

সত্যিই বঙ্গের এহেন শারদোৎসবের তুলনা নেই৷ বঙ্গদেশ দর্শন করে অতঃপর ঢেঁকি বাহনে চড়ে নারদ বীণা বাজাতে বাজাতে কৈলাসে গমন করলেন৷ মায়ের পিত্রালয়ে আগমনের যাত্রাপথকে সুগম করতে হবে যে৷

বিজ্ঞাপন

হেডলাইন

প্রতিবেদন

রাতভর বিনিদ্র হাট

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ছড়াটি মনে আছে তো? ‘হাট বসেছে শুক্রবারে, বকসিগঞ্জের পদ্মা পাড়ে৷ জিনিসপত্র জুটিয়ে এনে, গ্রামের মানুষ বেচে কেনে’...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
পপুলার

ছয় হাজার লিটার স্যানিটাইজার তৈরি করল এক স্বনির্ভর গোষ্ঠী

জেলাপ্রশাসনের উদ্যোগে স্যানিটাইজার তৈরির প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখলেন জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র। শনিবার দুপুরে ইংরেজবাজার ব্লকের কোতোয়ালি গ্রাম...

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

বিজ্ঞাপন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.