বিজ্ঞাপন

রেস্টুরেন্টে হানা, মিলল পচা মাংস ও কারখানায় ব্যবহৃত রং

কলকাতায় ভাগাড় কাণ্ডের পর চারিদিকে শুরু হয় অভিযান। ইংরেজবাজার পুরসভার পর জেলা প্রশাসনও ময়দানে নেমে পড়ল। এদিন দুপুরে জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল মালদা শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে হানা দেয়। গন্ধ যুক্ত মাংস ছাড়াও উদ্ধার হয় কলকারখানায় ব্যবহৃত রং। সম্ভবত যা রান্নার কাজে ওই সমস্ত হোটেল ব্যবহার করত। সমস্ত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিনের অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) পদম সুমন৷ অতিরিক্ত জেলাশাসক ছাড়াও সেই দলে ছিলেন মালদা ও দুই দিনাজপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফুড সেফটি অফিসার বিশ্বজিৎ মান্না, ওসি (ফুড) পূর্বিতা চট্টোপাধ্যায়, দুই ক্রেতা সুরক্ষা আধিকারিক পরীক্ষিৎ পাটোয়ারি ও বিধুভূষণ সাহা, আধিকারিক অনুরাগ দাস সহ প্রশাসনের কর্মীরা৷


উল্লেখ্য, কলকাতায় ভাগাড়কাণ্ডের ঘটনা সামনে আসতেই রাজ্যের বিভিন্ন শহরে শুরু হয় অভিযান। বিভিন্ন জায়গায় হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পচা মাংসের সন্ধান মেলে৷ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়৷ স্যোশাল মিডিয়ায় নিমেষের মধ্যেই সেই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কের সৃষ্টি হয় মালদাবাসীদের মধ্যেও। এরপরেই নড়েচড়ে বসে ইংরেজবাজার পুরসভা৷ ইতিমধ্যে পুরসভার পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন বাজার, মাংসের দোকান, হোটেল ও রেস্টুরেন্টে হানাদারি শুরু হয়েছে৷ সম্প্রতি ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে থাকা দুটি মাংসের দোকান থেকে ১৩ কিলো পচা মাংসও বাজেয়াপ্ত করেছে পুরসভার নজরদারি দল৷

এদিন শহরের স্টেশন রোডে দুটি হোটেলে হানা দেয় প্রশাসনিক দলটি৷ প্রথমে মালদা স্টেশন সংলগ্ন একটি হোটেলে যান৷ সেখানে রান্নাঘর, রান্নার সামগ্রী সহ যাবতীয় পরীক্ষা করেন তাঁরা৷ ওই হোটেলে যেখানে রান্না করা হয়, সেই জায়গাটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়৷ এনিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন দলের সদস্যরা৷ সেখান থেকে বেরিয়ে তাঁরা স্টেশন রোডের আরেকটি হোটেলে হানা দেন৷ সেই হোটেলের ফ্রিজারে রাখা মাংস থেকে বেরিয়ে আসে পচা গন্ধ৷ শুধু তাই নয়, এই হোটেলে রান্নায় ব্যবহার করা হয় কল কারখানার জন্য তৈরি রং৷ সেই রং হোটেলের রান্নাঘর থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷ রান্নার নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি নোটিশ ধরানো হয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষকে৷ এরপরই প্রশাসনিক দলটি ৪২০ মোড়ের একটি রেস্টুরেন্টে হানা দেয়৷ সেখানেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না তৈরির ছবি উঠে আসে। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার সঙ্গে সেখান থেকেও রান্নার নমুনা সংগ্রহ করা হয়৷

অতিরিক্ত জেলাশাসক জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে রান্নাঘরের অবস্থা ও তৈরি রান্নার মান পরীক্ষার জন্য এদিন তাঁরা অভিযান চালান৷ প্রথম দিনই তাঁরা গন্ধযুক্ত মাংসের সন্ধান পেয়েছেন৷ তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে৷ সেই নমুনা পরীক্ষার জন্য কলকাতা পাঠানো হবে৷ রান্নায় ব্যবহার করা রং বৈধ নয় বলেই তাঁদের সন্দেহ৷ তার নমুনাও কলকাতায় পাঠানো হচ্ছে৷ এদিন তাঁরা রুটিন অভিযান চালাচ্ছেন৷ এদিনের অভিযানের পিছনে কলকাতার ভাগাড়কাণ্ড কিনা সেই প্রশ্নে অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন, সেটা তাঁরা বলতে পারবেন না৷ তবে রুটিন চেকিং তাঁরা সবসময় করতে পারেন৷ তারই ভিত্তিতে এদিন অভিযান চালানো হয়েছে৷

এদিকে ফুড সেফটি অফিসার বিশ্বজিৎ মান্না জানিয়েছেন, এদিনের সংগ্রহ করা সমস্ত নমুনা কলকাতায় পাঠানো হবে৷ তাতে খারাপ কিছু ধরা পড়লে অভিযুক্তদের ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ৭ বছরের জেলও হতে পারে৷

ভিডিয়োঃ কৃতাঙ্ক

#DigitalDesk #Misc

বিজ্ঞাপন

MGH-Advt.jpg
পপুলার
1

মহানন্দা ব্রিজ মেরামতির কাজ শুরু, বন্ধ বড়ো গাড়ির যাতায়াত

মহানন্দা ব্রিজ মেরামতির কাজ শুরু, বন্ধ বড়ো গাড়ির যাতায়াত
2

মেডিকেল কলেজে রক্তের দালালচক্রের হদিশ, ধৃত তিন

মেডিকেল কলেজে রক্তের দালালচক্রের হদিশ, ধৃত তিন
3

শহরের নিকাশি নালা পরিষ্কারে উচ্ছেদ অভিযান

শহরের নিকাশি নালা পরিষ্কারে উচ্ছেদ অভিযান
4

মালদার কান্ডারণ থেকে উদ্ধার বিরল পাইথন ও কিং-কোবরা

মালদার কান্ডারণ থেকে উদ্ধার বিরল পাইথন ও কিং-কোবরা