বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল কাণ্ড

বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল কাণ্ড

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক শুভময় চৌধুরি। পুলিশকে তিনি জানিয়েছিলেন, সেদিন সন্ধেয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ঘরে তিনি যখন কাজ করছিলেন, তখন তাঁকে এক বহিরাগত প্রাণের হুমকি দেয়। পরদিন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছেও একই অভিযোগ দায়ের করেন। তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে। ঘটনার তদন্তের জন্য তড়িঘড়ি ১৮ সদস্যের কমিটি গঠন করেন উপাচার্য স্বাগত সেন। সেই কমিটি তদন্তও শুরু করেছে। কিন্তু গোটা ঘটনার তত্ত্বতলাশে উঠে আসছে আরেক কাহিনি।


জানা যাচ্ছে, গত ১৬ নভেম্বর গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক শুভময় চৌধুরির বিরুদ্ধে স্টোর রুমের চাবি সরিয়ে লক্ষাধিক টাকার কেমিক্যাল হাপিশ করার অভিযোগ উঠেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে এনিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিভাগীয় প্রধান সৌগত পাল৷ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন অধ্যাপককে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপাচার্য স্বাগত সেন৷ গত ২২ ফেব্রুয়ারি সেই কমিটি তদন্তের কাজে মালদা আসলেও হাজির হননি অভিযুক্ত অধ্যাপক শুভময়বাবু৷ এই অবস্থায় রেজিস্ট্রার জানাচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু কাজকর্ম রুখতে এই অপচেষ্টা৷

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রসায়ন বিভাগের দামি কেমিক্যাল সেই বিভাগের স্টোর রুমে ফ্রিজে রাখা হয়৷ ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি ও ১২ এপ্রিল তেমনই কিছু দামি কেমিক্যাল কেনা হয়েছিল৷ সেই কেমিক্যালের এক গ্রামের দাম প্রায় এক হাজার টাকা৷ সেই কেমিক্যাল সরবরাহ করেছিল মহানন্দা কনজিউমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামে একটি সংস্থা৷ তখন বিভাগীয় প্রধান ছিলেন মহবুল আলম মণ্ডল৷ কেমিক্যাল কেনার তিন মাস পর সে বছরের ২৫ এপ্রিল তার বিল জমা পড়ে৷ সেই সময় মহবুল সাহেবের বদলে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে এসেছেন অধ্যাপক সৌগত পাল৷ বিল দেখেই তাঁর কপালে ভাঁজ পড়ে৷ বিল দেখে তিনি সরবরাহকারী সংস্থার কাছে ওই কেমিক্যালের প্রাইস লিস্ট চেয়ে পাঠান৷ কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্থাটি তা জমা দিতে পারেনি৷ ফলে বিল পাস না করে তাতে নোট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স বিভাগে পাঠিয়ে দেন সৌগতবাবু৷

এরপরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে চোরের হানাদারির ঘটনা ঘটে৷ খোওয়া যায় স্টোর রুমের চাবি, বদলে যায় তালাও৷ তখনই রসায়ন বিভাগের কর্মীদের নজরে আসে, স্টোর রুমের ফ্রিজে মজুত থাকা লক্ষ লক্ষ টাকার কেমিক্যাল উধাও৷ এনিয়ে গত ১৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সৌগতবাবু৷ তখনই জানা যায়, যে সংস্থা ওই মাল সরবরাহ করেছিল, তাদের সেই কেমিক্যাল সরবরাহ করার লাইসেন্স নেই৷ কীভাবে তারা সেই মাল সরবরাহ করল তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে৷ সব মিলিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে৷ এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন অধ্যাপককে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেন উপাচার্য৷

অভিযুক্ত শুভময়বাবু এবিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, যেহেতু গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে তাই তিনি এনিয়ে কিছু বলবেন না৷ তবে গত ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি পরীক্ষা নিতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন৷ সেই কারণে তিনি তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত থাকতে পারেননি৷

রেজিস্ট্রার সাধনকুমার সাহা এপ্রসঙ্গে বলেন, এই ঘটনা নিয়ে উপাচার্য একটি তদন্ত কমিটি গড়ে দিয়েছেন৷ রসায়ন বিভাগের চাবি খোওয়া যাওয়া ও মূল্যবান কেমিক্যাল হাপিশের ঘটনায় সেই কমিটি তদন্ত চালাচ্ছে৷ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত কাজকর্ম স্বচ্ছতার সঙ্গে চলছে৷ তাকে থমকে দিতে নানান অপচেষ্টাও চলছে৷

প্রতীকী ছবি সৌজন্যে পিক্স অ্যাবে।

#DigitalDesk #Education

বিজ্ঞাপন

হেডলাইন

প্রতিবেদন

রাতভর বিনিদ্র হাট

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ছড়াটি মনে আছে তো? ‘হাট বসেছে শুক্রবারে, বকসিগঞ্জের পদ্মা পাড়ে৷ জিনিসপত্র জুটিয়ে এনে, গ্রামের মানুষ বেচে কেনে’...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
পপুলার

ছয় হাজার লিটার স্যানিটাইজার তৈরি করল এক স্বনির্ভর গোষ্ঠী

জেলাপ্রশাসনের উদ্যোগে স্যানিটাইজার তৈরির প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখলেন জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র। শনিবার দুপুরে ইংরেজবাজার ব্লকের কোতোয়ালি গ্রাম...

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

বিজ্ঞাপন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.