টোটোবিহীন শহরের সাক্ষী মালদা
f.jpg

টোটোবিহীন শহরের সাক্ষী মালদা

আজও টোটোচালকরা পুরোনো টোটো শহরের রাস্তায় চলাচল করতে দেওয়ার দাবিতে অনড়৷ অবশ্য তাঁদের একটি দাবি পূরণ করেছে পুর কর্তৃপক্ষ৷ তা হল পুরপ্রধান শহরে ফিরে না আসা পর্যন্ত টোটো ধরপাকড় বন্ধ রাখা৷ কিন্তু চালকদের বাকি দাবিগুলি এখনও মেনে নেয়নি পুর কর্তৃপক্ষ৷ তাই আজ থেকে পর পর তিনদিন শহরে টোটো বন্ধ রেখেছেন টোটোচালকরা৷ এর ফলে যাতায়াতের সমস্যায় পড়লেও নিরুপদ্রবে এদিন রাস্তায় হেঁটেছেন সাধারণ মানুষ৷ পুর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে দেখা গিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া৷ এদিকে নিজেদের দাবি পূরণে এদিন দুপুরে শহরের ফোয়ারা মোড় অবরুদ্ধ করে দেন টোটোচালকরা৷ ফের সমস্যা বাড়ে শহরের৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এই মুহূর্তে ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছে ইংরেজবাজার থানার বিশাল পুলিশবাহিনী৷ এরমধ্যে টোটোচালকরা ইংরেজবাজার পুরসভার গেট বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়।

সম্প্রতি মালদা শহরের রাস্তায় পুরোনো টোটো (#Toto) নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা ও পুর প্রশাসন৷ এনিয়ে সম্প্রতি দুই কর্তৃপক্ষের বিশেষ বৈঠকও হয়৷ ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার থেকে শহরের রাস্তায় পুরোনো টোটো ধরপাকড় শুরু করে পরিবহণ দপ্তর৷ দুই প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টোটোচালকরা আন্দোলনে নেমে পড়েন৷ গতকাল টোটোচালকদের সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ পুরসভার সামনে বিক্ষোভ দেখান৷ অবরূদ্ধ হয়ে যায় সেই এলাকা৷ অবশেষে সন্ধে নাগাদ পুর কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে, পুরপ্রধান শহরে না ফেরা পর্যন্ত পুরোনো টোটো ধরপাকড় বন্ধ থাকবে৷ সেই ঘোষণা শোনার পর ফিরে যান আন্দোলনকারীরা৷

আগের খবরঃ শহরে চলার ছাড়পত্র চায় পুরোনো টোটো

এদিন সকাল থেকে অন্য চেহারায় মালদা শহরকে দেখতে পেয়েছেন সাধারণ মানুষ৷ কোথাও কোনও যানজট নেই৷ কিছু সাইকেল রিকশা চলাচল করলেও তাতে কোথাও যানজট তৈরি হয়নি৷ সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে রাস্তায় হাঁটছেন৷ সবচেয়ে বড়ো বিষয়, এদিন দুপুর পর্যন্ত শহরের কোথাও কোনও দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি৷ তবে যানবাহন না থাকায় গ্রামাঞ্চলের মানুষজন খানিকটা সমস্যায় পড়েছেন৷ সমস্যায় পড়েছেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা রোগী ও তাঁদের বাড়ির লোকজন৷ সুযোগ বুঝে দর হাঁকিয়েছেন রিকশাওয়ালারও৷ তবে অন্যান্য দিনের থেকে এদিন শহরের রাস্তায় রিকশার সংখ্যা যেন খানিকটা বেশি ছিল৷ পার্থ দাস নামে ডাকবিভাগের এক কর্মী বলেন, রাস্তায় টোটো না থাকায় এদিন কোথাও যানজট দেখা যায়নি৷ এদিন নির্দিষ্ট সময়েই অফিসে আসতে পেরেছেন তিনি৷ তবে রোগী ও গ্রামের মানুষ যানবাহনের অভাবে এদিন কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন৷ পুরসভার সেদিকটাও দেখা উচিত৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৃদ্ধা আবার পুরোনো টোটো বহাল রাখার পক্ষেই রায় দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, তাঁদের মতো বয়স্ক লোকজনের কাছে টোটো উপযোগী যান৷ তাছাড়া রিকশায় যাতায়াত করতে সময় বেশি লাগে৷ পুর কর্তৃপক্ষের সেই বিষয়টি দেখা উচিত৷

রিকশাওয়ালারা চাইছেন, এমন পরিস্থিতিই বহাল থাকুক৷ মোতাহার শেখ, আমজাদ খানরা শহরে রিকশা চালান৷ তাঁরা বলেন, তাঁদের লাইসেন্স নিতে হয়৷ অথচ লাইসেন্স না নিয়েই টোটো শহরের রাস্তায় চলছে৷ এতে তাঁদের রোজগারও কমে গিয়েছে৷ এদিন টোটো বন্ধ থাকায় তাঁরা ৩-৪ বছর আগের দিন দেখতে পাচ্ছেন৷ দিনভর রিকশা চালিয়ে এদিন তাঁরা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ঘরে নিয়ে যেতে পারবেন বলে আশা করছেন৷ তাছাড়া টোটো না থাকায় এদিন শহরের কোথাও যানজট হয়নি৷ কোথাও কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি৷ মানুষ তো এমন শহরই চায়!


এদিকে নিজেদের দাবিতে অনড় টোটোচালকরা এদিন দুপুরে ফোয়ারা মোড়ে পথ অবরোধ করে দেন৷ তাঁদের বক্তব্য, যতক্ষণ না তাঁদের দাবি পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা পথ অবরোধ করবেন৷ সুরজিৎ ঘোষ নামে এক পুরোনো টোটোচালক বলেন, তাঁদের টোটো ধরপাকড় করা হলেও নতুন টোটোগুলিকে ধরা হচ্ছে না৷ লাইসেন্স ছাড়া তারা শহরের রাস্তায় চলছে৷ তাঁদের দাবি, পুরোনো টোটোকে রাস্তায় চলতে দিতে হবে৷ যে সব পুরোনো টোটোকে আটক করা হয়েছে, সেগুলিকে ছাড়তে হবে৷ একইসঙ্গে নতুন টোটোগুলিকে নিষিদ্ধ করতে হবে৷ যতক্ষণ না তাঁদের দাবিগুলি পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা টোটো বন্ধ রাখার পাশাপাশি পথ অবরোধ করে যাবেন৷

পথ অবরোধের খবর পেয়ে ফোয়ারা মোড়ে উপস্থিত হয়েছে ইংরেজবাজার থানার বিশাল পুলিশবাহিনী৷ পুলিশকর্মীরা টোটোচালকদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন৷ তবে এই জল শেষ পর্যন্ত কোথায় গড়ায়, সেটাই এখন দেখার৷

ছবিঃ মিসবাহুল হক


হেডলাইন

প্রতিবেদন

ডিজিট্যাল যুগে বাধ সাধে নি লন্ঠন, যমজ বোনের সাফল্য উচ্চমাধ্যমিকে

বিদ‍্যুৎ পরিষেবা পেলেও আর্থিক সঙ্কট থাকায় বকেয়া বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বাধ্য হয়েই তিন বছর ধরে লন্ঠনের আলোতেই পড়াশুনা চালিয়েছেন...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.