বিজ্ঞাপন

মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে সোজা আদালত চত্বরে গৃহবধূ

সকাল গড়িয়ে দুপুরে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই চলছিল কাজকর্ম। এমন সময় মাথায় ব্যান্ডেজ ও শুকনো রক্তের দাগ নিয়ে আদালত চত্বরে হাজির এক গৃহবধূ। আইনজীবীদের নজরে আসতেই ছড়িয়ে পড়ল চাঞ্চল্য। সাহায্যের জন্য এগিয়ে যেতেই পাশে এসে দাঁড়ান স্বামী। জানা গেল, পারিবারিক হিংসার শিকার ওই গৃহবধূ। থানায় অভিযোগ পর্যন্ত জানাননি। চলে এসেছেন সোজা আদালত চত্বরে। যদিও পরে আইনজীবীদের পরামর্শে ইংরেজবাজার মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


নিগৃহীত উমা প্রামাণিকের (৪০) শ্বশুরবাড়ি মালদা শহরের নেতাজি সুভাষ রোডে৷ স্বামী বাপ্পা প্রামাণিক বেসরকারি বাসের কনডাকটর৷ উমাদেবীর বাবার বাড়ি ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার বারহাওড়ায়৷ ২০১১ সালে দেখাশোনা করেই তাঁদের বিয়ে হয়৷ তাঁদের কোনও সন্তান নেই৷ শ্বশুরবাড়িতে রয়েছেন শাশুড়ি, দেওর ও তাঁর স্ত্রী৷

উমাদেবী জানান, বিয়ের পর থেকেই তাঁর শাশুড়ি বেলা প্রামাণিক ও দেওর বিজন বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য তাঁকে চাপ দিত৷ উমাদেবী সাফ জানিয়ে দেন তাঁর বাবা গরিব মানুষ৷ অত টাকা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়৷ এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। অবশ্য সেই সময় শাশুড়ি তাঁকে মাঝেমধ্যে চড়-থাপ্পর দিলেও দেওর গায়ে হাত তোলেনি৷ ধীরে ধীরে অত্যাচার বাড়তে থাকে৷ নিজেদের বাড়িতে ভাড়া দেওয়া থাকলেও তঁদের স্বামী-স্ত্রীকে থাকার জন্য একটি ছোট্ট ঘর দেওয়া হয়৷ তাঁকে বাড়ির কল থেকে জল নিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়৷ পরবর্তীতে তাঁর উপর অত্যাচারে শাশুড়িকে বিজন ছাড়াও সঙ্গ দিতে শুরু করে দুই ননদ কাকলি ও অনিতা, কাকলির স্বামী গৌতম, মেয়ে পূজা এবং অনিতার স্বামী তপনও৷ তাদের বাড়ি এলাকাতেই৷ যে কোনও কারণে তাদের ডেকে পাঠানো হত৷ এদিকে তাঁর স্বামী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাড়িতে থাকেন না৷ সকালে কাজে বেরিয়ে যান তিনি৷ সেই সুযোগে তাঁর উপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়তে শুরু করে৷ পুজোর সময় থেকে অত্যাচার মাত্রাছাড়া হয়ে যায়৷ যেহেতু তাঁদের কোনও সন্তান নেই, তাই বাড়ির অন্যান্যরা তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে সমস্ত সম্পত্তি গ্রাস করার ছক কষে৷ গতকাল তাঁর স্বামীর অবর্তমানে তাঁর শাশুড়ি ও দেওর তাঁকে সাফ জানিয়ে দেয়, তাঁদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে হবে৷ তা না হলে তারা তাঁকে খুন করবে৷ তিনি এর প্রতিবাদ করতেই বিজন লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করতে থাকে৷ একাধিক আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যায়৷ তাঁর চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে এলে বিজন নিরস্ত হয়৷ খবর পেয়ে তাঁর স্বামী বাড়িতে ফিরে আসেন৷ তিনি ইংরেজবাজার মহিলা থানায় যান৷ কিন্তু তাঁর রক্তাক্ত চেহারা দেখে পুলিশকর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন৷ মালদা মেডিক্যালে চিকিৎসার পর এদিন তিনি আদালতে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে এসেছেন৷

স্ত্রীর সঙ্গ দিতে পিছু পা হননি স্বামীও৷ তাঁর স্ত্রীর উপর পরিবারের লোকজন যে অত্যাচার চালাচ্ছে সেকথা মেনে নেন তিনি৷ এদিন আইনজীবীদের পরামর্শে উমাদেবী গোটা ঘটনা জানিয়ে ইংরেজবাজার মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি৷

ছবি পিক্সবে।

#DigitalDesk #Crime

বিজ্ঞাপন

MGH-Advt.jpg
পপুলার
1

চোরাই মোবাইল পাচারচক্রের হদিশ, ধৃত তিন

চোরাই মোবাইল পাচারচক্রের হদিশ, ধৃত তিন
2

সরানো হল মালদা সদর মহকুমাশাসককে

সরানো হল মালদা সদর মহকুমাশাসককে
3

কেন ইংলিশবাজার? নাম পরিবর্তনের ইচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর

কেন ইংলিশবাজার? নাম পরিবর্তনের ইচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর
4

ইংরেজবাজারে উদ্ধার মানুষের মাথার খুলি

ইংরেজবাজারে উদ্ধার মানুষের মাথার খুলি
5

করোনায় আক্রান্ত রেলকর্মীর মৃত্যু, আতঙ্ক মালদা শহরে

করোনায় আক্রান্ত রেলকর্মীর মৃত্যু, আতঙ্ক মালদা শহরে
Earnbounty_300_250_0208.jpg
টাটকা আপডেট