স্কুল ছুট দুই বোনকে আবার স্কুলের পথ দেখাল প্রশাসন

স্কুল ছুট দুই বোনকে আবার স্কুলের পথ দেখাল প্রশাসন

মাস ছয়েক ধরে হঠাৎ করে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় দুই বোন। প্রথম দিকে শিক্ষকরা ভেবেছিলেন, হয়তো অসুস্থতার জন্য স্কুলে আসতে পারছে না তারা। কিন্তু মাসের পর মাস স্কুলে না আসায় স্কুলের শিক্ষকরা খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। জানা যায়, আর্থিক অভাবে পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে ওই দুই ছাত্রী। স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রশাসনকে জানায়। গতকাল দুপুরে বিডিও, আইসি সহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাজির হন ওই দুই ছাত্রীর অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করতে। দুই বোনের পড়াশোনার জন্য সমস্ত ধরণের সরকারি ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। অবশেষে অভিভাবকরা ওই দুই ছাত্রীকে স্কুলে পাঠাতে রাজি হন।


স্কুল ছুট দুই বোনকে আবার স্কুলের পথ দেখাল প্রশাসন

রাম মার্ডি হাইস্কুলের দুই ছাত্রী চিন্তামণি কোল ও শিউলি কোল। চার বোনের মধ্যে মেজ বোন চিন্তামণি, সেজ বোন শিউলি। বাবা সোনারাম কোল বছর চারেক আগে গত হয়েছেন। মা ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দেড় বছর আগে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে নতুন সংসার শুরু করেন। মা-বাবার অবর্তমানে দিদি মৌসুমির সঙ্গে পিসির বাড়িতে আশ্রয় নেয় চিন্তামণি ও শিউলি। পুরাতন মালদা ব্লকের ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েতের ধুমাদিঘি গ্রামের রায়পাড়ায় সেই পিসির বাড়ি৷ স্থানীয় ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান পিসি লক্ষ্মী কোল। সামান্য পারিশ্রমিকে নিজের ছেলেমেয়ের সঙ্গে দাদার দুই মেয়ের খরচ বহন করতে হয় তাঁকে। এত কিছুর পরেও চিন্তামণি ও শিউলি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভাবকে আর ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি তারা৷ স্কুলে যাওয়ার থেকে তাদের কাছে বড়ো হয়ে দেখা দেয় পিসির বাড়ির কাজ কিংবা পোষা গোরু-ছাগলের দেখভাল৷ তাই ৬ মাস ধরে স্কুলের রাস্তায় আর হাঁটতে দেখা যায়নি তাদের৷ সেকথা জেনে ফেলে স্কুল কর্তৃপক্ষও৷ স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত ঘটনা জানতে পেরেই গতকাল দুপুরে লক্ষ্মী কোলের বাড়িতে সটান চলে যান পুরাতন মালদার বিডিও নরোত্তম বিশ্বাস৷ সঙ্গে ছিলেন মালদা থানার আইসি মানবেন্দ্র সাহা ও রাম মার্ডি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক গোপালচন্দ্র দাস৷ বিডিও জানান, কিছুদিন আগে জেলাশাসকের সঙ্গে তিনি এই গ্রামে এসেছিলেন৷ তখনই তাঁরা জানতে পারেন, গ্রামের একটি মেয়ে স্কুলে পড়তে পড়তে পড়া ছেড়ে দিয়েছে৷ পরে তাঁরা রাম মার্ডি হাইস্কুলের তরফ থেকে চিন্তামণির বিষয়ে জানতে পারেন৷ এদিন গ্রামে এসে দেখেন, শুধু চিন্তামণি নয়, তার বোন শিউলি কোলও অভাবের তাড়নায় স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে৷ এদিন তাঁরা চিন্তামণি ও শিউলি সহ তাদের অভিভাবকদের বুঝিয়েছেন৷ লক্ষ্মীদেবী ও দিদি মৌসুমি তাদের ফের স্কুলে পাঠাতে রাজি হয়েছেন৷ রাম মার্ডি হাইস্কুলেই কস্তুরবা গান্ধি হস্টেল রয়েছে৷ শিউলিকে তাঁরা এখনই সেখানে রাখার বন্দোবস্ত করছেন৷ চিন্তামণিকেও সেখানে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা৷ কোনওভাবেই এই দুটি মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেবেন না তাঁরা৷

আর্থিক অভাবকে হার মানিয়ে আবার পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ায় খুশি চিন্তামণি৷ সে বলে, পিসির অবর্তমানে ঘরের কাজ করার জন্য তারা স্কুলে যেতে পারছিল না৷ এদিন স্যাররা তাঁদের বাড়িতে এসেছেন৷ তাঁদের আবার স্কুলে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন৷

প্রতীকী ছবি সৌজন্যে পিক্স অ্যাবে।

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.