যুক্তিগ্রাহ্য বিধিনিষেধ

যুক্তিগ্রাহ্য বিধিনিষেধ


‘দি ওল্ড অর্ডার চেঞ্জেথ, য়িল্ডিং প্লেস টু নিউ’৷ পুরোনো নির্দেশের বদল হল৷ ব্যক্তি পরিসরের অধিকার মৌলিক অধিকার৷ এতে পুরোনো ব্যবস্থাও বদলাবে, নবীন ভারতের এটাই প্রত্যাশা৷ গত কয়েক বছরে ধর্মীয় হানাহানি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে৷ কার বাড়ির ফ্রিজে কোন মাংস রাখা আছে, তা নিয়েও সমাজে বিস্তর আলোচনা হয়েছে৷ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে, একান্ত পরিসরে ঢুকে পড়েছে রাজনৈতিক ক্ষমতা৷ লেখক-চিন্তকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হচ্ছে৷ শীর্ষ আদালতের নয়া রায় দেশকে আধুনিকতার পথে আরও একধাপ এগিয়ে দিল৷


প্রকাশ আর গোপনীয়তার আলো-আঁধারির মাঝে রয়েছে বিস্তর দ্বিধা আর দ্বন্দ্ব৷ সুদীর্ঘ এক ধূসর আবছায়া৷ সেই দীর্ঘ প্রদোষকালে ব্যক্তি পরিসরে একজন নাগরিকের জীবনের সমস্ত দিকই আসতে পারে৷ তিনি কী পড়বেন, কী খাবেন, কার সঙ্গে মিশবেন ইত্যাদি সবই তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিসরে আসবে বলে বিচারপতিদের তরফেও একটা ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, যেভাবে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এখন কোনো ব্যক্তিকে কাটাছেঁড়া করা হয়, এরপর তা কতটা আইনসিদ্ধ হবে? গরিষ্ঠের ভাবাবেগ বা ‘সনাতনী’ ঐতিহ্য, কোনো হাঁড়িকাঠেই ব্যক্তির মৌলিক অধিকারকে বলি দেওয়া চলবে না৷ এক্ষেত্রে যৌন রুচির প্রশ্নে হতে পারে, উন্নয়নের নামে উচ্ছেদের প্রশ্নে হতে পারে, মানসিক-শারীরিক প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে হতে পারে, কঠিন অসুখে গুরুতর অসুস্থের বাঁচতে না চেয়ে ইচ্ছামৃত্যুর আবেদন হতে পারে, পুরুষবেষ্টিত কর্মক্ষেত্রে নারী কর্মীর হতে পারে... নেহাতই ভোলেভালা কাউকে নিয়ে অনবরত টিটকিরি করে যাওয়ার ব্যাপারও হতে পারে৷ মিডিয়া কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিসরে কতটা প্রবেশ করতে পারবে, সে প্রশ্নও জোরালোভাবে উঠতে শুরু করেছে৷ এসব থেকে একটি বিষয় খুব স্পষ্ট, আদালতের মামলার পাহাড় আরও উঁচু হবে৷ কোন লক্ষ্মণরেখার ওপারে হলে তা ‘প্রাইভেসি’-তে হস্তক্ষেপ, সে এক অতি জটিল এবং সূক্ষ্ম বিচার৷ আদালত ও আইন প্রণেতাদের অনেকটা সময় কাটাতে হবে এসবের যুক্তিগ্রাহ্য বিধিনিষেধ নিয়ে স্পষ্ট টেমপ্লেট তৈরি করতে৷

নয় জন বিচারকের সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়া স্বাধীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রায়টিতে মোদি মুখ বন্ধ রেখেছেন ঠিকই, কিন্তু বাবুর পারিষদরা তো আছেনই৷ অমিত শাহ ব্লগে লিখলেন, সুপ্রিমকোর্টের রায় শুনে তাঁরা আপ্লুতচিত্ত! মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের আধার কার্ড বার করে বলেন, এই আধার কার্ডে এমন কী গোপন তথ্য রয়েছে? আমার নাম, আমি পুরুষ, ঠিকানা, জন্ম সাল এইটুকুই তো? এই তথ্যের বাইরে আর কী অন্যের হাতে যেতে পারে? বাকি তথ্য তো আধারের সার্ভারে সুরক্ষিত৷ আধারকে আইনগতভাবে নাগরিকের আবশ্যিক পরিচিতি করে তোলা, আয়কর জমা থেকে সৎকারকার্য, সব বিষয়ে প্রধান প্রমাণপত্র হিসেবে কার্যকর করা, এগুলো বর্তমান সরকারের মস্তিষ্কপ্রসূত৷ যা রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুবিধাজনক চোরাপথ ব্যক্তি পরিসরে ঢোকার৷ তর্কবিতর্ক চলতে থাকুক, আমরা শুধু জানি, সামান্য পরিসরও অন্যদের জন্য না ছেড়ে কথায় কথায় এই গিলে ফেলার প্রয়াস, এটাই ফ্যাসিবাদীর চিহ্ন।

#PrintEdition #AamaderDiary

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.