মেধাবী ছাত্রের পড়াশোনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন আশিস কুণ্ডু

মেধাবী ছাত্রের পড়াশোনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন আশিস কুণ্ডু



দৃষ্টান্ত গড়লেন মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান আশিস কুণ্ডু৷ অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত, মেধাবী এক ছাত্রের পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন তিনি৷ নাটকীয় এই ঘটনাটি এদিন ঘটেছে তাঁর দপ্তরেই৷

মানিকচক থানার জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডোমহাট সোনারপুর গ্রামের বাসিন্দা গোপাল মণ্ডল৷ বয়স ১৮৷ বছর সত্তরের বাবা মেঘু মণ্ডল কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন বেশ কিছুদিন আগে৷ এখন বাড়িতেই থাকেন তিনি৷ মা মাতু মণ্ডল কৃষি শ্রমিকের কাজ করেন৷ গোপালরা পাঁচ ভাই৷ বড়ো তিন ভাই দীপক, তপন ও কান্ত ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন৷ তাঁরা প্রত্যেকেই বিবাহিত৷ নিজেদের সংসার নিয়ে আলাদা থাকেন৷ এখন মণ্ডল পরিবারের সদস্য চার জন৷ মেঘুবাবু, মাতুদেবী, গোপাল আর ছোটো ছেলে মৃত্যুঞ্জয়৷ দিয়ারায় কৃষি শ্রমিকের কাজ করে কোনওরকমে সংসার চালানোর পাশাপাশি দুই ছেলের পড়াশোনাও চালাচ্ছেন মাতুদেবী৷

মায়ের কঠোর পরিশ্রম বৃথা যায়নি৷ গোপাল ও মৃত্যুঞ্জয় স্থানীয় মানিকচক হাইস্কুলের ছাত্র৷ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫৪ শতাংশ নম্বর পান গোপাল৷ কিন্তু তাঁর পড়াশোনার আগ্রহ নজর কাড়ে শিক্ষকদের৷ স্কুলের বেশ কিছু শিক্ষক বিনা পারিশ্রমিকে গোপালকে পড়াতে শুরু করেন৷ তাঁদের পরিশ্রমও সার্থক হয়৷ উচ্চ মাধ্যমিকে ৮৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন গোপাল৷ কিন্তু ভালো নম্বর পাওয়াটাই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় গোপালের৷ হা-ভাতে সংসারে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন কতটা দেখা যেতে পারে তা স্থির করতে পারেন না তিনি৷ স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হওয়ার৷ সেই স্বপ্নের ডানায় ভর দিয়ে শোভানগরের সরকারি বিএড কলেজে ভর্তির আবেদনপত্র জমা দেন তিনি৷ অ্যাডমিশন টেস্টে বসে উত্তীর্ণও হয়ে যান৷ তালিকার উপরের দিকে তাঁর নাম৷ কিন্তু পড়ার খরচ যে ৬০-৭০ হাজার টাকা! কে যোগাবে? চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়েন গোপাল৷ সেই সময় তাঁর স্কুলের এক শিক্ষিকা, গোপালের কথায় শ্রুতি ম্যাডাম তাঁকে পরামর্শ দেন, তিনি যেন মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ চেয়ারম্যান আশিস কুণ্ডুর সঙ্গে দেখা করে সব ঘটনা খুলে বলেন৷

শ্রুতিদেবীর কথায় ভর করে এদিন দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদে আশিসবাবুর সঙ্গে দেখা করতে আসেন গোপাল৷ প্রতিদিনের মতো এদিন দুপুরেও কাজে ব্যস্ত ছিলেন আশিসবাবু৷ হঠাৎ গোপাল তাঁর ঘরে ঢুকে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন৷ ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথমে হতভম্ব হয়ে যান আশিসবাবু৷ তিনি গোপালকে চেয়ারে বসান৷ সব কথা শোনেন৷ এরপরেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, গোপালের পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব তিনিই বহন করবেন৷ আশিসবাবুর কথা শুনে বিহ্বল হয়ে পড়েন গোপাল৷ তাঁর স্বপ্ন যে সত্যিই বাস্তব হতে চলেছে সেকথাটা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তিনি৷ কৃতজ্ঞতার অশ্রু তখন তাঁর দু’চোখ ভাসাচ্ছে৷

আশিসবাবু জানান, গোপালের পড়াশোনার ভার নিয়ে তিনি গর্বিত৷ যারা চরম দারিদ্র উপেক্ষা করে পড়াশোনা করতে চায়, তাদের পাশে সবারই দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি৷

#Education #DigitalDesk

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.