মেডিকেল কলেজ থেকে নিখোঁজ রোগীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার

মেডিকেল কলেজ থেকে নিখোঁজ রোগীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার

মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে থেকে উধাও হয়ে গেল চিকিৎসাধীন এক রোগী। নিখোঁজ হওয়া রোগীকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেল প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে রেললাইনের ধারে। পরবর্তীতে মৃত্যুও হয়েছে সেই রোগীর। এই ঘটনায় মালদা মেডিকেল কলেজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মৃতের পরিবারের লোকজন।



মৃত রোগীর নাম শম্ভু কর্মকার। বয়স ৩৩ বছর। পেশায় তিনি ছিলেন রংমিস্ত্রি। বাড়ি হবিবপুর থানার আইহো গ্রামের কর্মকার পাড়ায়। বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী পিংকি কর্মকার ছাড়াও এক ছেলে, এক মেয়ে। শম্ভুবাবুর এক কাকা লিটু মিশ্র জানান, প্রবল পেট ব্যথা নিয়ে গত ৮ তারিখ (মঙ্গলবার) সকালে তাঁরা শম্ভুকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি করেন। সারাদিন শম্ভুর সঙ্গে লোক ছিল। রাত ১১টা নাগাদ সে খেতে চায়। তখন সঙ্গে থাকা সেই ব্যক্তি তার জন্য খাবার কিনতে বাইরে যায়। খাবার নিয়ে ফিরে এসে সে আর শম্ভুকে বেডে দেখতে পায়নি। ওই ব্যক্তি চারদিকে খোঁজাখুঁজি করে। ওয়ার্ডে কর্মরত নার্সদেরও বিষয়টি জানায়। নার্সরা তাকে বলেন, হয়তো রোগী বাথরুমে গিয়েছে। কিন্তু সেখানেও শম্ভুর খোঁজ মেলেনি। রাতে ওয়ার্ডে বাইরের লোক থাকার অনুমতি না থাকায় ওই ব্যক্তিকে বাইরে বেরিয়ে যেতে হয়। পরদিন বুধবার সকালে সে ফের শম্ভুর বেডে যায়। তখনও রোগী সেখানে না থাকায় সে পাশের রোগীকে শম্ভুর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে। সেই রোগী জানান, শম্ভু রাতভর ওয়ার্ডে আসেনি। অবশেষে গত বুধবার বেলা ৩টে নাগাদ শম্ভুর মোবাইল ফোন থেকেই এক ব্যক্তি বাড়িতে খবর দেন, শম্ভু ইংরেজবাজারের নিমাসিরাই এলাকায় রেললাইনের পাশে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তার পকেট থেকে নাম ও ঠিকানা লেখা একটি কাগজ মিলেছে। বুধবার সন্ধে নাগাদ তাঁরা শম্ভুকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় বাড়িতে পৌঁছে দেন। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে স্থানীয় বুলবুলচণ্ডী গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা শম্ভুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গতকাল দুপুরে হবিবপুর থানার পুলিশ শম্ভুর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেলে পাঠায়।

লিটুবাবু আরো বলেন, শম্ভু কীভাবে হাসপাতালের বাইরে গেল তা তিনি জানেন না। এই মৃত্যুর পিছনে কোনও রহস্য রয়েছে কি না তাও তাঁর জানা নেই। তা ময়নাতদন্তের পরেই জানা যাবে। কিন্তু তাঁর প্রশ্ন, মালদা মেডিকেল থেকে চিকিৎসাধীন রোগী উধাও হল কীভাবে? নিরাপত্তা কর্মী কিংবা ওয়ার্ডে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা কী করছিলেন? মেডিকেল কলেজের কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে উধাও রোগীর বিষয়ে পুলিশকে কেন জানানো হয়নি?

মালদা মেডিকেলের সহকারী অধ্যক্ষ অমিত দাঁ এপ্রসঙ্গে বলেন, কী করে ওই রোগী উধাও হয়ে গেল তা নিয়ে তাঁরাও ধোঁয়াশায়। মালদা মেডিকেল কলেজে আয়া ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা রোগীর সঙ্গে একজন বাড়ির লোককে সবসময় থাকতে বলেন। এক্ষেত্রে বাড়ির লোক ওই রোগীর সঙ্গে ছিল না কেন তাও তাঁরা বুঝতে পারছেন না। ওই রোগীর পরিবারের তরফে এব্যাপারে তাঁদের কাছে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশও তাঁদের কিছু জানায়নি। তবু বিষয়টি জানতে পেরে তিনি গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তার জন্য হাসপাতালের ডেপুটি সুপারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই রোগীর উধাও হওয়ার পর হাসপাতালের তরফ থেকে তাঁকে পলাতক দেখানো হয়েছিল কি না তা নিয়েও খোঁজ নিচ্ছেন তিনি।

ছবিটি প্রতীকী সৌজন্য়ে পিক্স অ্য়াবে।

#DigitalDesk #Medical

হেডলাইন

প্রতিবেদন

মহানন্দার উজান স্রোতে ভবানীপুরে অশনির ঘণ্টা বাজছে

ফি বছর বর্ষায় বেড়ে যায় মহানন্দার জলস্তর। স্রোতের আওয়াজ ঘুমন্ত গ্রামবাসীদের কানের পর্দায় যেন ধাক্কা দেয়৷ এবারও বেড়েছে মহানন্দার জল৷ খানিকটা..

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.