বিজ্ঞাপন

মন্দিরে মহিলা নিষেধ - একুশ শতকের নারী দিবস!



এ যেন সবরিমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশের আন্দোলনের কাহিনীর অনুকরণ। মহিলাদের দাবি গ্রামের মন্দিরে তাঁদের পূজা করার অধিকার দেওয়া হোক, কিন্তু এক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রামের পুরুষরা। নারী দিবসে এমনি মধ্যযুগীয় নিদান, ডাইনি অপবাদে গ্রামের আদিবাসী মহিলাদের ধর্মীয় স্থানে ঢুকে পূজা অর্চনায় বাধা। আর এই ঘটনা ঘটেছে মালদার গাজোল ব্লকের পাণ্ডুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বগলাটুলি গ্রামে যা নিয়ে এলাকায় রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসনের শান্তি বৈঠকের পরও স্বাভাবিক হয়নি গ্রামের চিত্র ফলে কার্যত ব্যর্থ পুলিশ প্রশাসন।

মালদা সদর শহর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারেই আদিবাসী অধ্যুষিত বগলাটুলি গ্রামের অবস্থান। এই গ্রামেই দীর্ঘ দিনের ধর্মীয় স্থান জাহের থানকে ঘিরেই শুরু হয়েছে বিবাদ। গ্রামের প্রায় ৬০ টি আদিবাসী পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই এই ধর্মীয় স্থানে তাদের পূজা অর্চনা এবং প্রার্থনার কাজ করে আসছেন। আর এই কাজ করতেন মূলতঃ গ্রামের পুরুষরাই কারণ এই মন্দিরে পূজা দেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলারা ছিলেন ব্রাত্য। তাই পূর্বপুরুষদের প্রথা মেনেই এখনও এই স্থানে মহিলাদের পূজা করতে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আর স্বাধীনতার ৭০ বছর পরে এখনও এইরকম মধ্যযুগীয় নিদান ঘিরেই ছড়িয়েছে উত্তেজনা। গ্রামের মোড়ল ও অন্যান্য সদস্যদের মুখের বক্তব্য যে মহিলাদের এই ধর্মীয় স্থানে পূজা করতে দেওয়া যাবে না।

এই ধর্মীয় স্থানে গ্রামের মহিলাদের যে কেবল মাত্র ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না তাই নয়, এক্ষেত্রে পূজা করতে গিয়ে কোনো মহিলা সঙ্গে গেলে তাকে ডাইনি অপবাদ দিয়ে গ্রামে একঘরে করে রাখার চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রামের মোড়লদের বক্তব্য যে মহিলারা এই ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার কারণেই গ্রামের ক্ষতি হচ্ছে, মড়ক লাগছে, মারা যাচ্ছে পশু-পাখি এবং ক্ষতি হচ্ছে মানুষ জনের। তাই পূর্বপুরুষের পরম্পরা মতো মহিলারা পূজা করতে পারবেন বলে সাফ জানিয়েছে গ্রামের মোড়লরা।

৩৪ নং জাতীয় সড়কের পাশে গ্রামের অবস্থান হলেও দীর্ঘদিন ধরেই অশিক্ষা আর কুসংস্কারের অন্ধকারে থাকা এই গ্রামের শিক্ষিত মানুষ এবং মহিলারা এই মধ্যযুগীয় নিদানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে জিহাদ ঘোষণা করেছেন। মহিলা দিবসে তাঁরা দাবি তুলেছেন নারী-পুরুষ সমান অধিকারের। পুরুষদের পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মহিলারাও সমানভাবে চলার অধিকারের দাবি তুলেছেন।

আর নারী দিবসে এ ধরনের মধ্যযুগীয় নিদান নিয়ে রীতিমত অস্বস্তিতে পরেছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে দফায় দফায় পুলিশ এবং প্রশাসনের উদ্যোগে চলছে গ্রামে শান্তি বৈঠক, কিন্তু এখনও কোন সমাধান সূত্র বের হয়নি। এখানেই উঠতে শুরু হয়েছে প্রশ্ন যে স্বাধীনতার এত বছর পরও যদি মহিলাদের কেবল মাত্র মন্দিরে গিয়ে নিজেদের পূজা অর্চনা আর প্রার্থনার দাবিতে লড়াই করতে হয় তাহলে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে, এত আড়ম্বর আর আয়োজনের মাধ্যমে ঘটা করে নারী দিবস পালনের যৌক্তিকতার কোন অর্থ হয় না। আর এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন মালদার এই প্রত্যন্ত গ্রামের আদিবাসী মহিলারা।

#DigitalDesk #Misc

5 views

বিজ্ঞাপন

MGH.jpg
পপুলার
1

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মালদায় মৃত ১৬

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মালদায় মৃত ১৬
2

চোরাই মোবাইল পাচারচক্রের হদিশ, ধৃত তিন

চোরাই মোবাইল পাচারচক্রের হদিশ, ধৃত তিন
3

সরানো হল মালদা সদর মহকুমাশাসককে

সরানো হল মালদা সদর মহকুমাশাসককে
4

কেন ইংলিশবাজার? নাম পরিবর্তনের ইচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর

কেন ইংলিশবাজার? নাম পরিবর্তনের ইচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর
5

ইংরেজবাজারে উদ্ধার মানুষের মাথার খুলি

ইংরেজবাজারে উদ্ধার মানুষের মাথার খুলি
Earnbounty_300_250_0208.jpg