বাংলা ক্যালেন্ডার এবং আকবর

বাংলা ক্যালেন্ডার এবং আকবর



১৪২৫ বঙ্গাব্দ৷ নতুন বাংলা সন৷ ক্যালেন্ডারের শুরুর বছর বা শূন্য বছর হিসেবে ধরা হয় কোনো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা৷ যেমন জিশুখ্রিস্টের জন্মকে ধরে শুরু খ্রিস্টাব্দ, যেমন হজরত মহম্মদের মক্কা থেকে মদিনা যাত্রাকে ধরে হিজরি সালের গণনা শুরু, এসব আমরা জানি৷ তাহলে ১৪২৫ বছর আগের কোনো বিশেষ ঘটনা থেকে বাংলা সালের গুনতি শুরু? এই প্রশ্নটাতে খানিক থমকাতে হয়৷ এর উত্তর পেতে গেলে প্রয়োজন একটু ইতিহাস একটু অঙ্ক৷ ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর চালু করেন তাঁর নতুন ক্যালেন্ডার তারিখ-ই-ইলাহি, তাঁর নতুন ধর্ম দিন-ই-ইলাহির পাশাপাশি নতুন ক্যালেন্ডার তারিখ-ই-ইলাহি৷ এক্ষেত্রেও আকবর সর্বধর্ম সমন্বয়ের দৃষ্টান্ত রাখলেন ক্যালেন্ডারের শুরুর সাল হিসেবে হজরত মহম্মদের মক্কা থেকে মদিনা যাত্রা অর্থাৎ হিজরি৷ কিন্তু দিনগোনা মুসলমানদের চান্দ্র মাস অনুযায়ী নয়, বরং হিন্দু আর খ্রিস্টানদের সৌর নিয়মে, পারস্যেও (বর্তমান ইরান) অবশ্য তখন সৌর ক্যালেন্ডার চালু ছিল৷ আকবরের নির্দেশে ক্যালেন্ডার তৈরি করেন বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ এবং প্রযুক্তিবিদ আমির ফতেউল্লাহ সিরাজি৷ পারস্যের সিরাজ থেকে এসে এই গুণী মানুষটি আকবরের দরবার আলো করেছিলেন বেশ কিছু বছর৷ আকবরের আমলের বেশ কিছু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সাথে জড়িয়ে ওস্তাদ ফতেউল্লাহ সিরাজির নাম৷ এসব লিখে গেছেন আবুল ফজল, লিখেছেন অমর্ত্য সেন৷

ক্যালেন্ডারে চান্দ্র বছরের সাথে সৌর বছরের যে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সব ফতেউল্লাহ সিরাজি করলেন আকবরের সিংহাসনে বসার সাল থেকে অর্থাৎ ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ (৯৬২ হিজরি) থেকে৷ চান্দ্র বছর গড়ে ৩৫৪ দিনের আর সৌর বছর ৩৬৫ দিনের ফলে বছর পিছু চান্দ্র ক্যালেন্ডার ১১ দিন এগিয়ে যাবে বা সৌর ক্যালেন্ডার ১১ দিন পিছিয়ে যাবে৷ আকবর সিংহাসনে বসার পর চলে গেছে ৪৬২টা সৌর বছর (২০১৮ - ১৫৫৬ = ৪৬২)৷ বছর পিছু ১১ দিন ধরলে ৪৬২ সৌর বছর চান্দ্র বছরের তুলনায় পিছিয়ে যাবে মোট ৫০৮২ দিন (৪৬২ X ১১ = ৫০৮২) অর্থাৎ ১৩ বছর ১১ মাস ৭ দিন অর্থাৎ প্রায় ১৪ বছর৷ বর্তমানে চলছে ১৪৩৯ হিজরি যা গণনা হয় চান্দ্র নিয়মে৷ এখন ১৪৩৯ থেকে ১৪ বাদ দিলে পাওয়া যায় ১৪২৫ (১৪৩৯ - ১৪ = ১৪২৫)৷ এই অঙ্ক থেকেই পরিষ্কার বঙ্গাব্দেরও সূচনা হজরত মহম্মদের মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার সালকে মনে রেখে পার্থক্য এই যে, এটা চলে সৌর নিয়মে৷ তাই আকবরের সিংহাসনে বসার ৪৬২ বছর পরে, বছরে ১১ দিন করে মোট ১৪ বছর পিছিয়ে পড়েছে চান্দ্র নিয়মে চলা হিজরি ক্যালেন্ডার থেকে৷

১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আকবরের মৃত্যুর কয়েক বছরের মধ্যেই ফিকে হয়ে যায় দিন-ই-ইলাহির রং, উঠে যায় তারিখ-ই-ইলাহিও৷ কিন্তু বঙ্গাব্দ হিসেবে এই উপমহাদেশের বেশ কিছু অংশে আজও বয়ে চলেছে তার দিন৷ ক্যালেন্ডারের ইতিহাসে ধরা থাকে একটা জাতির বা জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অতীত, বাংলার ক্ষেত্রে যা মনে করিয়ে দিচ্ছে আমাদের এক অন্য ইতিহাস৷ সমস্ত রকম ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এক বহুত্ববাদী সমাজ, ইদানীং যাকে পালটে ফেলার চেষ্টা চলছে আপ্রাণ৷

#PrintEdition #দবরজরয়চধর

হেডলাইন

প্রতিবেদন

কোয়রান্টিন সেন্টারে জন্মদিনের পার্টি, নজির গড়ল দীপান্বিতা

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের বাড়িতে ডেকে খাওয়ানো নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। গত...

বিজ্ঞাপন

ফলো করুন
  • Facebook
  • Instagram
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest

সব খবর ইনবক্সে!

প্রতিদিন খবরের আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Aamader Malda Worldwide, the only media of your hometown and its thoughts. Here you can share and express your views and thoughts and you'll get here the essence of MALDAIYA CULT...

You can reach us via email or phone.  P +91 3512-260260  E response@aamadermalda.in

  • Facebook
  • Twitter
  • YouTube
  • Pinterest
  • Instagram
  • RSS

Copyright © 2020 Aamader Malda. All Rights Reserved.